অতিরিক্ত ঘুমের কারণে যেসকল বিপদ হতে পারে !

335

অতিরিক্ত ঘুমে বিপদ- ঘুম আমাদের সবার জন্যই সমান দরকারি তা প্রতিদিনের ক্লান্তি কাটাতে বলুন আর পরদিন কাজ করার শক্তি সঞ্চয়ের জন্য বলুন। প্রতিরাতে একটি আরামের ঘুম আপনাকে পরদিন বেশ ফুরফুরে রাখতে সাহায্য করে। ঘুম নিয়মিত হলে আপনি যেকোনো কাজে অধিক মনোযোগী হতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কোনো কারণে এর কম সময় ঘুমালে এবং তা যদি নিয়মিত হয়, তবে তা শরীরের জন্য খারাপ। তাই বলে বেশি ঘুম কি শরীরের জন্য ভালো?

এমন অনেকেই আছেন যারা প্রতিরাতে নয় ঘণ্টার ওপর ঘুমান। অনেকেই আবার রাতে শোয়ার পর বেলা করে ঘুম থেকে ওঠেন। ফলে সব মিলিয়ে নয় ঘণ্টার ওপর ঘুম হয়েই যায়। অধিকাংশই মনে করেন, বেশি ঘুম মানে বেশি ঝরঝরে থাকা, ভালো থাকা। কিন্তু এই অতি বিশ্রামে লুকিয়ে আছে বিপদ। গবেষকরা তাই বলছেন।

গবেষকরা বলছেন যারা নয় ঘণ্টার ওপর প্রাত্যহিক ঘুমে অভ্যস্ত তাদের স্ট্রোকের সম্ভাবনা ২৩ শতাংশ বেশি থাকে। আবার অনেকে দুপুরে পাওয়ার ন্যাপ নিয়ে থাকেন। সহজ কথায় দুপুরে একটু বিছানায় গড়িয়ে নেওয়া। অনেকে মনে করছেন পাওয়ার ন্যাপ নিলে নতুন করে দেহে এনার্জি সঞ্চারিত হয়। কিন্তু তা আসলে ঠিক নয়।

গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন দুপুরে ন্যাপ নিতে গিয়ে যারা দেড় ঘণ্টা ঘুম দেন তাদের হৃদরোগের সম্ভাবনা ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়।

ঘুমের জন্য সঠিক সময় ঠিক কতক্ষণ? গবেষকরা বলছেন ৭ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রাত্যহিক ঘুম শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।

চিনের গবেষকরা জানাচ্ছেন অতি ঘুম বা ন্যাপ নেওয়া মানুষের দেহে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। তাঁদের কোমর চওড়া হতে থাকে। যা হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। নয় ঘণ্টার ওপর প্রাত্যহিক ঘুম বা দুপুরের ন্যাপের সঙ্গে ঠিক কীভাবে স্ট্রোকের সম্ভাবনা জড়িয়ে আছে তা জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

বর্তমান সময়ে যে রোগটি মৃত্যুর সংখ্যা বাড়াচ্ছে সেটি হল হার্ট অ্যাটাক। ১৯৫০ সাল থেকে ২০০০ সালের মধ্যে আমেরিকায় ৭০% মানুষ হার্ট অ্যাটাক এবং ৮০% স্টোকে মারা গিয়ে থাকে। এমনকি হার্ট অ্যাটাকে মানুষ মারা না গেলেও হার্টের অসুখের সংখ্যা বিস্ময়করভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

হার্টের অসুখ বা হার্ট অ্যাটাকের জন্য মূলত আমাদের অভ্যাস, আমাদের জীবনযাত্রা দায়ী। হার্ট অ্যাটাক বা হার্টের অসুখ কিছু উপাদানের উপর নির্ভর করে থাকে। যেমন ধূমপান, উচ্চ রাক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টরেল, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, অপুষ্টিকর খাদ্যভ্যাস, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা ইত্যাদি। কিছু বদঅভ্যাস ত্যাগ এবং কিছু অভ্যাস গ্রহণের মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করা সম্ভব।

১. ধূমপান ত্যাগ

ধূমপান হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ। মধ্যবয়সী ৫০% নারীরা হার্ট অ্যাটাকে আ’ক্রা’ন্তে হন টোবাকোর কারণে। এই তামাক হার্ট এবং র”ক্ত নালী ব্লক করে দিয়ে ধমনী সরু করে দিয়ে থাকে। যেসব মহিলা ধূ’মপান এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন তাদের র’ক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

২. কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণে রাখা

র’ক্তে উচ্চ কোলেস্টরেল হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকখানি বৃদ্ধি করে থাকে। র’ক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টরেল ধমনীর ভিতর দেয়াল তৈরি করে, ধমনীকে সরু করে দিয়ে। এতে হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়ে থাকে। চেষ্টা করুন কোলেস্টরেল লেভেল ২০০ মিলিগ্রাম, এলডিএল কোলেস্টরেল লেভেল ১৩০ মিলিগ্রাম এবং এইচডিএল ৩৫ মিলিগ্রামের উপরে রাখার।

৩. ব্যায়াম

২০১৪ সালের প্রকাশিত journal Circulation মতে দৈনিক কার্যকলাপ দ্বারা ৪৬% পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাক রোধ করা সম্ভব। প্রতিদিন অল্প সময় হলেও ব্যায়াম করুন। কমপক্ষে সপ্তাহে ২.৫ ঘন্টা ব্যায়াম করুন।

৪. স্বাস্থ্যকর ডায়েট

স্বাস্থ্যকর ডায়েট হল চর্বি জাতীয় খাবার কম খাওয়া, ফল, সবজি এবং আঁশ জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে ফল-সবজি বিশেষত সবুজ সবজি, ভিটামিন সি জাতীয় ফল হার্ট সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। খাবারে অলিভ অয়েলের ব্যবহার ধমনী ব্লক হওয়ার মত রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

৫. এক টুকরো ডার্ক চকলেট

অদ্ভুত শোনালেও এটি সত্যি এক টুকরো ডার্ক চকলেট আপনার হার্টের জন্য উপকারী। ডার্ক চকলেটে ফ্ল্যাভোনয়েড নামক উপাদান থাকে, যা ধমনীকে নমনীয় রাখে। অন্যান্য উপাদান শরীরে খারাপ কোলেস্টরেল প্রতিরোধ করে থাকে। সপ্তাহে কয়েকবার একটুকরো ডার্ক চকলেট খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৬. ভিটামিন বি গ্রহণ

প্রতিদিন ভিটামিন বি গ্রহণ করুন। সুইডিশ এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা ভিটামিন বি (ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন বি১২) শতকরা ৪০ ভাগ মানুষের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায় যারা ভিটামিন বি গ্রহণ করেন না।

৭. পরিমিত লবণ গ্রহণ

লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিন। লবণ বেশি খাওয়া উচ্চ র’ক্তচাপ বৃদ্ধি করে থাকে। যা হার্টের জন্য ভাল নয়। খাবারে সাথে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া আজই বন্ধ করুন।

৮. ওজন হ্রাস

অতিরিক্ত ওজন শুধু আপনাকে মোটা করে তোলে না আপনার হার্টেরও ক্ষতি করে থাকে। বিশেষ করে পেটের অতিরিক্ত মেদ। ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখুন। আপনার হার্ট সুস্থ থাকবে।

৯. মাছ খান

সপ্তাহে অত্যন্ত একদিন মাছ খান। ২০০২ সালে প্রকাশিত The American Medical Association যারা সপ্তাহে কমপক্ষে একবার মাছ খান, তাদের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়।

১০. পরিমিত ঘুম

ঘুম আপনার শরীরকে রিফ্রেশ করে নতুন কাজের শক্তি জুগিয়ে থাকে। আপনি যদি আপনার শরীরকে বিশ্রাম না দিতে পারেন, তবে তা একটা সময় গিয়ে ভেঙে পড়বে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমান।