আমাশয় ও প্রসাবের জ্বালা পোড়ায় বিচি কলার পুষ্টিগুণ !

454

আটিয়া কলা পুষ্টিগুণ- সাদা আমাশয়, র’ক্ত আমাশয় ও পাতলা পায়খানার মহা ওষুধ হিসেবে আগের দিনে গ্রামের আটিয়া কলা খাওয়ার পরামর্শ দিতে অভিজ্ঞরা।

আবার অনেকেই আটিয়া কলা ফালি করে করে কেটে পানিতে ভিজে সকাল বেলা খালি পেটে শরবত হিসেবে খাওয়ার চল ছিল, এতে প্রসাবের জ্বালা পোড়া সেরে যেত।

সকালের নাস্তায় দই, চিড়া ও মুড়ি কিংবা ছাতুর সঙ্গে আটিয়া বিচি কলা ভীষণ জনপ্রিয় ছিল। এই কলা বরাবরই পথ্য হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা দেশীয় খাবারের সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছে কলা বা বিচি কলা।

এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষাবাদ হচ্ছে বিভিন্ন জাতের কলা। ধরন অনুযায়ী দেশি বিচি কলা মোটা, গোল, খাটো ও ভেতরে বিচি হয়।

এ কলায় অনেক ভিটামিন, আয়রন ও প্রচুর প্রোটিন রয়েছে । বিচি কলা মল রোধক একটি পথ্য এটি খেলে শরীরের শক্তি সঞ্চয়সহ নানা রোগের উপকার করে থাকে।

বিশেষ করে আমাশয় ও পাতলা পায়খানা রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। একটি বড় মাপের কলা খেলে ১০০ ক্যালোরির বেশি শক্তি পাওয়া যায়। কলাতে রয়েছে সহজে হজমযোগ্য শর্করা।

শর্করা জাতীয় খাবার পরিপাকতন্ত্রকে হজম করতে সাহায্য করে। বিচি কলা র’ক্ত’চা’প নিয়ন্ত্রন ও স্বাভাবিক র’ক্ত প্রবাহ নিশ্চিত করে। এ কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে।

বিচি কলাকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা পথ্য হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি হৃদরোগ-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় কচুশাক

আমাদের চারপাশে পাওয়া অন্যতম একটি সবজি কচু। এর কাণ্ড সবজি এবং পাতা ও কাণ্ড শাক হিসেবে খাওয়া হয়। কচুর কাণ্ড ও পাতায় প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে। তা ছাড়া কচু শাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ডিটারেরী ফাইবার, শর্করা, বিভিন্ন খনিজ ও ভিটামিন রয়েছে।

কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে । এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কচু শাক খেলে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়। আরেক গবেষণা বলছে, কচু শাক স্ত’ন ক্যান্সার প্রতিরোধে দারুন কার্যকরী।

কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। এ কারণে এটি দৃষ্টি শক্তি ভাল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া চোখ সম্পর্কিত জটিলতা কমায়। কচু শাকে থাকা স্যাপোনিনস,টেনিনস, কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্লাভোনয়েড উচ্চ র’ক্তচাপ কমায়। নিয়মিত কচু শাক খেলে হৃদরোগের ঝুঁ’কিও কমে। কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে এ কারণে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

র’ক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে কচু শাক। নিয়মিত এই শাকটি খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁ’কি কমে। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। কচু শাক যেকোন ধরনের প্র’দা’হ কমাতে সাহায্য করে কেননা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরী ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান রয়েছে এতে।

র’ক্তস্বল্পতায় ভূগছে যারা,তারা নিয়মিত কচু শাক খেতে পারেন। এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে যা র’ক্তশূন্যতা দূর করতে ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে,কচু শাক খেলে কারও কারও অ্যালার্জির সম্ভাবনা বেড়ে যায়, চুলকানি হয়। এজন্য যাদের এ ধরনের সমস্যা আছে তাদের এই শাক খাওয়ার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেয়া উচিত।