আলসার সহ নানা রোগ নির্মূলে উপকারী যে সবজি

718

প্রতিদিনই জ্যামিতিক হারে বাড়ছে গ্যাস্ট্রিক রোগীর সংখ্যা। ব্যস্ত জীবনযাত্রার যুগে গ্যাস্ট্রিক, পেটের অসুখ এখন ঘরোয়া রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট-বড় সবাই এখন এই সমস্যার ভুগছেন। বাইরের ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, দাওয়াত, পার্টিতে মসলাযুক্ত অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, খালি পেটে থাকার কারণে বেশির ভাগ সময় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

কখনোই পেট খালি রাখা যাবে না। এছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছায় ওষুধ খাওয়া যাবে না। নিয়ম মেনে খাবার খাওয়া, পেট খালি না রাখা, ভাজাপোড়া খাওয়া থেকে বিরত থাকাসহ আরও বেশকিছু বিষয় অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

গ্যাস্ট্রিক কি?

সাধারণত নাভির ওপরে পেটে ব্যথা হবে। খালি পেটে কিংবা ভোররাতের দিকে ব্যথা তীব্র হয়। গলা-বুক-পেট জ্বলে, টক ঢেঁকুর ওঠে। ঝাল-তেল-মসলাজাতীয় খাবারে ঝামেলা বেশি করে।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় খেতে পারেন চাল কুমড়া। এটি পুষ্টিকর একটি সবজি। ভিটামিন, খনিজ, শর্করা ও ফাইবার থাকায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। এই কুমড়া সাধারণত ঘরের চালে হয় বলে একে বলে চাল কুমড়া।

আসুন জেনে নেই চাল কুমড়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা-

১. চাল কুমড়ায় অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান রয়েছে। যা পেট এবং অন্ত্রের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর করে। এই সবজি ইনফেকশন বা আলসার রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে ও এসিডিটি দূর করে। এটি মসলাযুক্ত খাবার বা দীর্ঘদিনের জন্য উপবাসের কারণে পাকস্থলিতে তৈরি হওয়া এসিড দূর করতে সাহায্য করে।

২. এটি মস্তিষ্কের নার্ভ ঠাণ্ডা রাখে। এছাড়া চাল কুমড়ার রস যক্ষা রোগ প্রতিরোধ করে ও রক্তপাত বন্ধ করতে সাহায্য করে।

৩. শরীরের অতিরিক্ত ওজন ও চর্বি কমাতে খুব ভালো কাজ করে। অতিরিক্ত ক্যালরি যুক্ত খাবারের বিকল্প হিসেবেও এই সবজি খেতে পারেন।

৪. ত্বক ও চুলের যত্নে চাল কুমড়ার রস ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত এই রস চুল ও ত্বকে মাখলে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করবে।

৫. চাল কুমড়ার বীজ গ্যাস্ট্রিক রোগ ভালো করে।এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা এবং প্রস্রাবের সমস্যা কমাতে চাল কুমড়ার খুবই উপকারি।

ভোরে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার উপকারিতা

সকালটা সুন্দর হলে নাকি দিনটা ভালো যায়। আবার সকালের শুরুটা যদি বাজে হয় তাহলে পুরো দিনটাও আপনার খারাপ যেতে পারে। সকালে ঘুম থেকে উঠলে দেহ-মন সতেজ থাকে। এ ছাড়া কাজ করার জন্য সারা দিন প্রচুর সময় পাবেন আপনি। ‘আর্লি টু বেড অ্যান্ড আর্লি টু রাইজ’। ছেলেবেলা থেকে বাবা-মা এটাই শিখিয়ে এসেছেন।

আজও তারা বলে থাকেন, সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়তে। বিখ্যাত মনীষী ব্রেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন বলতেন, ভোরের মুখে সোনা রঙ থাকে। যারা রোজ সকালে ওঠেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন এর উপকারিতা।

১) সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ সময়টা কাজে লাগাতে পারা যায়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে সমস্ত মানুষ তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠেন, তারা অনেক বেশি এনার্জিটিক হন। যে কোন কাজ করতে খুব কম সময় নেন তারা। শুধু তাই নয়, কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে, পরিকল্পনা করতে এবং লক্ষ্যে পৌঁছতে তারাই সেরা হন।

২) সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার সবথেকে ভালো উপকারিতা হল, চিন্তামুক্তি। যখন আমরা তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠি, তখন সূর্যের নরম আলোয় আমাদের মাথা থেকে সব চিন্তা দূর হয়ে যায়। একটা পজেটিভ এনার্জি মনে কাজ করে। ফলে সারাদিনের সমস্ত কাজকর্ম সফল হয়।

৩) সকালে তখনই তাড়াতাড়ি ওঠা যায়, যদি তাড়াতাড়ি ঘুমাতেও যাওয়া যায়। একদিন তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া আর একদিন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে চলবে না। এই নিয়ম নিয়মিত বজায় রাখতে হবে। তবেই আপনার ঘুম ভালো হবে এবং শরীর সুস্থ থাকবে।

৪) টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিশেষজ্ঞ একটি সমীক্ষা করেন। সেই সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠে, তারা পড়াশোনায় অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি ভালো হয় এবং তাদের পরীক্ষার ফলাফলও ভালো হয়।