এবার করোনা থেকে হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক!

60

ম’রণ’ঘা’তী করোনা ভা’ই’রাস থেকেও হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক! এমনটি একটি তথ্য জানিয়েছে চিকিৎসকরা। সম্প্রতি আমেরিকার মিনেসোটার সেই তরুণীর মৃ’ত’দেহ ম’য়’নাত’দ’ন্ত করে চিকিৎসকরা দেখেন,

সাডে’ন ডে”থে’র কারণ লিম্ফোসাইটিক মায়োকার্ডাইটিস। আরও বিভিন্ন পরীক্ষা করে তাঁরা নিশ্চিত হন যে, করোনা সংক্র’ম’ণের জন্য হৃৎপিণ্ডে মা’রা’ত্ম’ক ক্ষতিতেই তার মৃ”ত্যু হয়েছে।

জানা যায়, পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী ওই তরুণীর উপসর্গ বলতে হাল্কা জ্বর ছিল। তিনি কো’ভিড পজিটিভ ছিলেন। হঠাৎই একদিন ঘরের মধ্যে মৃ’ত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে।

এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে করোনা আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মধ্য কলকাতার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন।

এরপর অক্টোবরের শেষে মন্দারমণি বেড়াতেও যান। ফেরার পর থেকেই অসুস্থতা বোধ করছিলেন। এরপর প্রাণ কেড়ে নেয় হার্ট অ্যা’টা’ক।

করোনায় মৃ”ত্যু’র পর ম’য়’নাত’দ’ন্ত করে গবেষণার তেমন কোথাও হয় না। তাই নিশ্চিতভাবে বলার উপায় নেই, হৃদপিণ্ডে ঠিক কতটা ক্ষতি করে করোনার সং’ক্র’মণ।

তবে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, করোনা সামলে ওঠার পরও হৃদপিণ্ডে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন অনেকেই।

করোনা-মুক্ত হয়ে গেলেও কয়েক সপ্তাহ সাবধানে থাকা দরকার বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে ডাক্তার দেখানো জরুরি। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটির হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পার্থ সেনগুপ্ত ও তাঁর দলবল ৫৪ জন করোনা-জয়ী অ্যাথলিটের (গড় বয়স ১৯) উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান।

জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিয়োলজিতে পার্থ দেখিয়েছেন, এক তৃতীয়াংশ অ্যাথলিটের হৃদপেশিতে প্রদাহের লক্ষণ রয়েছে।

এই জার্নালেই নিউ ইয়র্ক ও মিলানের সাতটি হাসপাতালের নিরীক্ষণ নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে দেখানো হয়েছে, মায়োকার্ডিয়াল ইনজুরি রয়েছে ৬৩% রোগীর ক্ষেত্রেই। ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থ জোয়ারদারের পর্যবেক্ষণ,

‘ফুসফুসের মতো হৃৎপিণ্ডেও অ্যাঞ্জিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম (এসিই-২) রিসেপটর রয়েছে। করোনার স্পাইকপ্রোটিন এর সঙ্গে জোট বেঁধেই অঙ্গের কোষে ঢুকে পড়ছে। কোষগুলিকে পণবন্দি করে ঘেঁটে দিচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম।

আবার ইমিউন সিস্টেমের অতি সক্রিয়তা বা হাইপার ইনফ্ল্যামেশনের জন্যও হৃৎপেশির ক্ষতি হচ্ছে। অতিরিক্ত সাইটোকাইন নিঃসরণের ফলে ফাইব্রিন প্রোটিন ও মৃ’ত কোষ সংযোগে ক্লট তৈরি হচ্ছে আর তাই র’ক্ত’বাহে জমাট বাঁধছে।’

মায়োকার্ডাইটিসের পাশাপাশি অ্যারিদমিয়া অর্থাৎ হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। হৃদপিণ্ডের কোষের পর্দা ফুটো করে ওলটপালট করে দিচ্ছে ‘কনডাকশন সিস্টেম’। এর ফলে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের পরিমাণ এদিক-ওদিক হয়ে যাচ্ছে।

কখনও দেখা যাচ্ছে ক্যালসিয়াম সুনামিও। হৃৎপিণ্ড এই ধরনের ঝড় সয়ে দিতে পারলে বেঁচে যাচ্ছেন রোগী, না হলে মৃ”ত্যু ডেকে আনছে হার্ট অ্যাটাক। এ বিষয়ে ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালের কার্ডিয়োলজিস্ট প্রকাশচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘মূলত দুইভাবে হৃদপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভাইরাল লোড বেশি হলে করোনা সরাসরি মায়োকার্ডাইটিস ঘটাচ্ছে। আর ভাইরাল লোড কম হলে ইমিউনিটি সিস্টেমের অতি সক্রিয়তা বিপদ ডাকছে। কখনও শুরুতেই এক-দু’সপ্তাহের মধ্যে হচ্ছে। কখনও সংক্র’ম’ণের ৬-৮ সপ্তাহ পরে হচ্ছে। প্রথম দু’টি ক্ষেত্রেই হার্ট ফেলিয়োরের সম্ভাবনা বেশি।’

তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘কো’ভিড থেকে সেরে ওঠার পর হৃৎপিণ্ডে অনিয়মিত রক্ত সঞ্চালন, অস্বাভাবিক স্পন্দনের সমস্যা নিয়ে আসছেন অনেকেই। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, শ্বাস’ক’ষ্টের সমস্যা শুধু ফুসফুসের জন্য নয়, হার্টের জন্যও হতে পারে।’ সূত্র: এই সময়