ওষুধ ছাড়াই টনসিলের যন্ত্রণা দূর করার উপায়

687

ওষুধ ছাড়াই টনসিলের সমস্যা দূর করার উপায়- শীতে ও গরমে ঠাণ্ডা লাগা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। আর অনেক দিন ধরে ঠাণ্ডা লাগলে অনেকের টনসিলের সমস্যা দেখা দেয়। টনসিল হলে বিপাকে পড়েন অনেকে। আর শীতে যে সব সমস্যায় নাজেহাল হতে হয়, তার মধ্যে টনসিলের সমস্যা অন্যতম। ঢোক গিলতে ব্যথা, কথা বলতে কষ্ট, ঘন ঘন কাশি এ সবের সঙ্গে টনসিলের সং’ক্র’মণ থেকে কখনও কখনও জ্বরও আসে।

টনসিল কি ?- টনসিল হলো আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটা অংশ এবং আমাদের মুখের ভেতরেই চারটি গ্রুপে তারা অবস্থান করে। এদের নাম লিঙ্গুয়াল, প্যালাটাইন, টিউবাল ও অ্যাডেনয়েড। এই টনসিলগুলোর কোনো একটির প্রদাহ হলেই তাকে বলে টনসিলাইটিস। টনসিল বলতে আমরা সচরাচর যা বুঝি, তা কিন্তু আসলে টনসিলাইটিস। টনসিলাইটিস যে শুধু শিশুদের হয়, তা নয়। এটা শিশুদের বেশি হলেও যেকোনো বয়সেই হতে পারে।

টনসিল হলে অনেকে চিকিসৎকের শরণাপন্ন হয়ে থাকি। তবে আপনি জানেন কি ঘরোয়া উপায়ে টনসিল ভালো হয়।

শারীরিক যে কোনও সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে হাতের কাছে সব সময়ই যে চিকিৎসক মিলবে এমন নয়। আবার নিজে থেকে ওষুধ কিনে খেতে নিষেধ করেন চিকিৎসকরা। শরীরের আভ্যন্তরীণ নানা দিক খতিয়ে না জেনে ওষুধ খেলে অনেক সময়ই সেই ওষুধের পার্শ্ব’প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তা ছাড়া প্রাথমিক অবস্থায় অনেক অসুখই ঘরোয়া উপায়ে সমাধান সম্ভব।

টনসিলের সমস্যাও তেমনই। সমস্যা জানান দেওয়ার পর থেকেই যত্ন নিলে ঘরোয়া কিছু উপায়েও সারিয়ে তুলতে পারেন অসুখ।

লবন – পানি- গরম পানিতে লবন মিশিয়ে ভেপার নিন। এই সময় চাদর দিয়ে নিজেকে মুড়ে ফেলুন। কান-মাথা যেন অবস্যই জড়ানো তাকে। পাখার হাওয়া থেকেও দূরে থাকতে হবে। গলা ব্যথা, টলসিলের অসুখ থেকে অনেকটা আরাম দেয় এই গরম লবন পানির ভেপার।

লেবু- লেবু শরীরের টক্সিন দূর করতে খুব উপকারী। তাই টনসিলে সংক্রমণ হলে বা গলায় ব্যথা হলে হালকা গরম পানিতে এক চামচ লেবুর রস, এক চামচ মধু ও সামান্য লবণ ভালো করে মিশিয়ে নিন। লবণ অ্যান্টি সেপটিক। তাই শরীরের অভ্যন্তরের সংক্রমণে লবণ খুব কার্যকর। এই মিশ্রণটি সেবন করুন। টনসিলের সমস্যা কমবে সহজে।

দুধে হলুদ- খুশ খুশে কাশি থেকে টনসিলের সং’ক্র’মণের সঙ্গে লড়াই— ফোটানো দুধে এক চিমটে হলুদ মিশিয়ে খাওয়া এর অন্যতম দাওয়াই। হলুদের অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান সংক্রমণ সরায়। এ ছাড়া হলুদ প্রাকৃতিক ভাবেই অ্যান্টিসেপটিক উপাদানে ঠাসা। তাই হলুদের প্রভাবে গলার প্রদাহও সারে অনেকটাই।

গ্রিন টি ও মধু- তিন কাপ পানিতে এক চা চামচ গ্রিন টি ও এক চামচ মধু দিয়ে মিনিট পাঁচেক ফুটিয়ে নিন। এই চা একটা ফ্লাস্কে রেখে দিন। উষ্ণ থাকাকালীন অল্প অল্প করে বার বার খান। গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এটি শরীরের জীবাণুর সঙ্গে লড়াইও করে। মধুর অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল উপাদান প্রদাহ কমায় টনসিলের।

পাঁচটি উপায়ে শরীরের বাড়তি ওজন কমায় মেথি, জেনে নিন কী ভেবে…

শরীরের ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীরকে একটি সুন্দর আকৃতি দেওয়ার জন্য আমরা কত কিছুই না করি। ভেষজ মশলা হিসেবে মেথি বীজ আমাদের সবার কাছেই বেশ পরিচিত। সেই সাধারণ মেথিরও কিন্তু আপনার ওজন কমাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যেমন, আপনি জানেন কি, মেথি ভেজানো জল খেলে খুব দ্রুত ওজন কমে? চলুন, জেনে নেওয়া যাক মেথি ব্যবহার করে ওজন কমানোর কিছু কৌশল।

মেথি ভেজানো পানি- মেথি ভেজানো পানি খেলে তা ওজন কমাতে খুবই কার্যকর। কারণ, এটি খেলে তা খাবারের পরিতৃপ্তি এনে দেয়। যার ফলে খিদে কম অনুভূত হয় এবং খাওয়ার ইচ্ছেটা কমে যায়। এর ফলে খুব দ্রুত ওজন কমে। মেথি আরও এক ভাবে খেতে পারেন। ১ কাপ মেথি জলেতে সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর জল ছেঁকে নিয়ে ভেজানো সেই মেথি বীজ গুলো প্রতিদিন সকালে খালি পেটে চিবিয়ে খেতে হবে। এই ভাবে প্রতিদিন নিয়মিত খেতে পারলে খুব দ্রুত উপকার পাওয়া যাবে।

মেথি ও মধু চা- শরীরের আকর্ষণীয় আকৃতি পেতে ও দ্রুত ওজন কমাতে মধুমিশ্রিত মেথি বীজের চা চমৎকার কার্যকরী। প্রথমে মেথি বীজ গুঁড়ো করে নিতে হবে। সেই মেথি গুঁড়ো জলে দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে এবং এ ভাবে অন্তত ৩ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। তারপর সেই জলটা ছেকে নিয়ে তাতে লেবুর রস ও মধু যোগ করতে হবে। ভাল ফলাফল পেতে এই মিশ্রণটি প্রতিদিন সকালে খেতে হবে। এতে আপনার শরীরের ওজন দ্রুত কমবে।

ভাজা মেথি- এটি হচ্ছে ওজন কমানোর জন্য চমৎকার একটি উপায় যার জন্য অন্য কোনও ওষুধ খেতে হবে না। কিছুটা মেথি একটি প্যানে বা কড়াইতে নিয়ে কম আঁচে ভেজে নিয়ে সেটাকে গুঁড়ো করে নিতে হবে। তারপর সামান্য উষ্ণ গরম জলেতে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেতে হবে এবং সেই সঙ্গে এই মেথি গুঁড়ো চাইলে তরকারিতেও ব্যবহার করতে পারেন ওজন কমানোর জন্য। উপকার পাবেন।

মেথি চা- মেথি বীজের চা দু’টি কাজে সাহায্য করে। এক, ওজন কমাতে এবং দুই, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে। এ ছাড়া হজম ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনের ক্ষেত্রেও তা দারুন কাজ করে। সামান্য জল দিয়ে কিছু মেথি বীজ পেস্ট করতে হবে। একটি পাত্রে জল ফুটিয়ে নিয়ে তাতে সেই পেস্ট দিতে হবে।

চাইলে তাতে কিছু ভেষজ মশলা দেওয়া যেতে পারে। যেমন, আদা বা দারচিনি। তারপর পাত্র ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। প্রতিদিন এই চা খালি পেটে খেতে হবে। ফল হাতেনাতে পাবেন।

অঙ্কুরিত মেথি বীজ- অঙ্কুরিত মেথি বীজে উচ্চ মাত্রার ক্যারোটিনয়েড, ভিটামিন এ, বি, সি এবং ই যুক্ত। এর সঙ্গেই এর মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিংক, পটাসিয়াম, অ্যামাইনো অ্যাসিড, হজমে সহায়ক খনিজ পদার্থ এবং আরও অনেক কিছু রয়েছে। একটি বাটিতে মেথি বীজ নিয়ে তা একটি পাতলা কাপড় জলেতে ভিজিয়ে নিয়ে ঢেকে রেখে তার উপর ভারি কিছু দিয়ে ৩ রাত এই ভাবে রেখে দিতে হবে।

তারপর দেখা যাবে মেথি বীজ অঙ্কুরিত হয়েছে এবং সেই বীজ’গুলো খেতে পারেন। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি খুবই কার্যকর। উল্লেখিত এই পাঁচটি উপায়ে মেথি বীজের সাহায্যে সহজেই কার্যকর ভাবে ওজন কমানো সম্ভব।

এছাড়াও মেথি বীজ ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে, মাসিকের ব্যথা কমায়, কোলেস্টেরল কমায়, আরথ্রাইটিসের ব্যথা কমায়, হজমে সাহায্য করে, ওজন কমতে সাহায্য করে, কিডনির কাজের উন্নতি ঘটায় এবং যকৃতকে সুরক্ষা দেয়। তাহলে আর দেরি কেন? আজ থেকেই শুরু করে দিন।