কতদিন অন্তর পুরুষদের শ্যাম্পু করা উচিৎ

337

পুরুষদের কতদিন অন্তর শ্যাম্পু করা উচিৎ জানুন- আমাদের মধ্যে অনেকেরই অভ্যেস থাকে রোজ শ্যাম্পু করার। আসলে আমাদের তো রোজই বাইরে যেতে হয়। আর বাইরে যাওয়া মানেই ধুলো ধোয়ার মধ্যে নিজেদের সমর্পন করে দেওয়া।

তাই আমাদের মনে হয় রোজ শ্যাম্পু না করলে এই ধুলো, ধোয়ার থেকে চুলকে সম্পূর্ণ ভাবে পরিষ্কার করা যাবে না। কিন্তু এতে আপনার লাভের থেকে আদতে ক্ষতিই হচ্ছে বেশি। বিশেষজ্ঞরাও কিন্তু রোজ শ্যাম্পু করার বিপক্ষে।

কিন্তু কেন? বিশেষজ্ঞদের প্রশ্নের উত্তর এবং ছেলেদের চুলের যত্ন নিতে আজকের লেখা। ঠিক কতদিন অন্তর শ্যাম্পু করবেন জেনে নিন।

কেন রোজ শ্যাম্পু করা ভালো নয়-

আমাদের স্ক্যাল্প কিন্তু নিজে থেকেই চুল রক্ষা করার জন্য, তাকে পুষ্টি দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করে রেখেছে। প্রাকৃতিক ভাবে এক ধরণের তেল নিঃসরণ হয় যা স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা ধরে রাখে, চুলের পুষ্টির দিকে খেয়াল রাখে। আপনি যদি রোজ শ্যাম্পু করেন তাহলে এই তেল নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যাবে।

এটি কিন্তু চুলের সার্বিক বিকাশের জন্য ভালো নয়। তাই যদি আপনার একান্ত তেলতেলে স্ক্যাল্প না হয়, যদি খুব ঘাম না হয়, তাহলে বেশি শ্যাম্পু না করাই ভালো।

কতবার শ্যাম্পু করা উচিৎ-

শ্যাম্পু যে রোজ করা উচিৎ নয়, সেটা তো জানলেন। এবার জানার পালা কতবার ঠিক শ্যাম্পু করা ভালো আপনার স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সপ্তাহে তিন দিন শ্যাম্পু করাই ভালো সব দিক থেকে।

আর যদি আপনার খুব তেলতেলে স্ক্যাল্প হয়, ঘুম ঘেমে যায় মাথা, তাহলে কিন্তু এক দিন ছাড়া ছাড়া করতেই পারেন এই শ্যাম্পু। তবে সেই তেলতেলে ভাব কমে আসার পর আবার সপ্তাহে তিন দিন করুন শ্যাম্পু।

শুধু পানি বেশি ব্যবহার করুন-

শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না মানে কিন্তু এটা নয় যে মাথায় পানি দেবেন না। রোজ মাথায় পানি দিয়ে গোসল করবেন। পানি আমাদের ফ্রেস রাখে, মাথার পি.এইচ ব্যাল্যান্স ধরে রাখে। চুলে রোজ পানি না দিলে কিন্তু চুল আর স্ক্যাল্প, এই দুইই আর্দ্র হয়ে যায়। তাই স্ক্যাল্পের শুষ্কতা কমানোর জন্য রোজ মাথায় পানি দিন।

শ্যাম্পুর ব্যবহার জানুন ভালো করে-

শ্যাম্পু যে দিন করছেন, সে দিনই বা কতবার শ্যাম্পু করবেন সেটা জানা খুব দরকার। অনেকেই একবার শ্যাম্পু কোনও রকমে ব্যবহার করে চুল ধুয়ে নেন। ভাবেন এতেই শ্যাম্পু করা হয়ে গেল। আদতে কিন্তু তা নয়। শ্যাম্পু করতে হবে অন্তত দুই বার।

প্রথম বার শ্যাম্পু করলে মাথায় ব্যবহার করা আগের দিনের তেল বা ধুলো সব চলে যায়। আর দ্বিতীয়বার ব্যবহারে বাকী যেটুকু নোংরা আছে, তেল আছে, সেটুকুও চলে যায়। আর অবশ্যই শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন।

চুলের ধরণ বুঝে শ্যাম্পু-

শ্যাম্পু করা উচিৎ আপনার চুল কেমন সেই ধরণ বুঝে। নর্মাল চুল হলে শ্যাম্পু বেশি করা উচিৎ নয়। এতে সাধারণ তেল কমে আসে। আবার শুষ্ক চুল হলেও বেশি করা উচিৎ নয়, কারণ নিঃসৃত তেল কমে এসে চুল আরও শুষ্ক হয়ে যাবে। একমাত্র তেলতেলে স্ক্যাল্প হলেই একটু বেশি শ্যাম্পু করা যায়।

কারণ বেশি শ্যাম্পু না করলে নোংরা যেতেই চায় না। তাই তৈলাক্ত চুলের জন্য সপ্তাহে চার দিন শ্যাম্পু। একটা কথা মনে রাখার। সেটা হল, শ্যাম্পু কিন্তু চুল সুন্দর করে না। শ্যাম্পু চুল পরিষ্কার করে।

তাই শ্যাম্পু চুল পরিষ্কার করার জন্য যতখানি দরকার ততখানিই ব্যবহার করুন, তার থেকে বেশি নয়। তাহলেই চুল ভালো থাকবে।

পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে করণীয়…

দুই মানুষের জীবনে খুদে কারও উপস্থিতি যেন বেঁচে থাকার মানে আর মাত্রায় আলাদা মোচড় লাগায়। তবে চাইলেই কি সব সময় তা হয়? আধুনিক জীবনযাত্রা, বেশি বয়সে বিয়ে, অনিয়মিত খাওয়া দাওয়া ও মানসিক চাপ সন্তানের পথেও দাঁড়ি দিয়ে দিচ্ছে প্রায়শই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-সহ সারা বিশ্বের নানা ছোট-বড় গবেষণা জানাচ্ছে, বন্ধ্যাত্ব এখন আর ‘দু’র্ঘ’ট’না’ নয়, বরং পৃথিবীর ঘরে ঘরে ঢুকে পড়ছে এই সমস্যা।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, মহিলা বা পুরুষ, উভয়ের সন্তান’হীনতার নেপথ্যেই রয়েছে বর্তমান জীবন’যাত্রা। খাদ্যাভ্যাসের জটিলতা, মাত্রা’তিরিক্ত শারীরিক-মানসিক চাপ এ সবের প্রকোপে এই সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিনকে দিন।

একটা সময় পর্যন্ত কু-সংস্কার ও অশিক্ষার কারণে বন্ধ্যাত্বের জন্য নারীকেই দায়ভার বইতে হত বেশি। কিন্তু আধুনিক গবেষণা ও বিজ্ঞান বুঝিয়েছে, একা নারী নয়, এই অসুখের জন্য পুরুষও সমান দায়ী। প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের কারণ হন পুরুষরাও, জানাচ্ছেন ভারতের স্ত্রী’রোগ বিশেষজ্ঞ মার্থা হাজরা।

আসুন জেনে নেওয়া যাক পুরুষের সুস্থ-সবল প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে করণীয়:-

ওজন-

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই একটি বিষয়কে কিছুতেই নজরে রাখি না আমরা। খুব কম বা খুব বেশি ওজন, দুটোই কিন্তু প্রজনন ক্ষমতার পক্ষে বড় বালাই। উচ্চতা অনুযায়ী তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন প্রথম থেকেই। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে ডায়েট করুন, শরীর’চর্চা শুরু করুন।

খাদ্যাভ্যাস-

সময়ে খাওয়া ও পর্যাপ্ত ঘুম, এই দু’টিকে যত অবহেলা করবেন, ততই বাবা হওয়ার সম্ভাবনা কমবে। বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে সাহায্য করে এমন কিছু খাবার রাখুন পাতে। যেমন, আমন্ড, মরসুমি ফল শাক-সব্জি, প্রচুর ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার।

মরসুমি ফলের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যেমন এই প্রতিবন্ধকতা কমায়, তেমনই দই, দুধ জাতীয় খাবারের ভিটামিন ই-ও এই সমস্যা দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এড়িয়ে চলুন ঝাল-মশলার খাবার।

শরীরচর্চা-

যেমন ওজন কমাতে সাহায্য করবে তেমনই শরীরের পুরুষ হরমোন গুলির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে ব্যায়াম। তাই ফিজিকাল ট্রেনারের সাহায্যে প্রয়োজনীয় ব্যায়াম করুন। সব সময় যে জিমে যেতেই হবে এমন নয়, বাড়িতেও করতে পারেন শারীরিক কসরত।

চিকিৎসা-

কেবল বন্ধ্যাত্বের জন্য চিকিৎসকের শরণ নেওয়াই নয়, ডায়াবিটিস, থাইরয়েড, হাইপার টেনশন – অর্থাৎ লাইফ স্টাইল ডিজিজ থাকলে তার উপযুক্ত চিকিৎসা করান, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নিয়ম মেনে সে সব আয়ত্তে রাখুন সব সময়।