করোনাসহ অন্যান্য রোগ মোকাবেলায় প্রতিদিন কতটা ভিটামিন ডি গ্রহণ জরুরি

137

করোনা মোকাবেলায় বিশেষজ্ঞরা ভিটামিন ও খনিজ গ্রহণের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের মতে, এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি করোনা’ভাই’রাস মোকাবিলায় বেশ কার্যকর। এ কারণে অনেকেই গুরুত্ব বুঝে এই ভিটামিন গ্রহণ শুরু করেছেন।

তবে বেশিরভাগ মানুষেরই জানা নেই কোন বয়সে দৈনিক কি পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করা দরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন ডি বয়স অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে।

যেমন- শূন্য থেকে ১ বছর বয়সীদের প্রতিদিন ৪০০ আইইউ, ১ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের ৬০০ আইইড, ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ৬০০ আইইউ, পূর্ণ বয়স্ক অর্থাৎ ১৯ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের ৬০০ আইইউ, ৭১ বছরের বেশি বয়সীদের ৮০০ আইইউ, গর্ভবতী ও বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের ৬০০ আইইউ পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করা দরকার।

ভিটামিন ডিয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে সূর্যের আলো। এটি থেকে সহজেই শরীরে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি গ্রহণের সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত।

এ সময় সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি সবচেয়ে তীব্র থাকে। তাদের মতে,এ সময়ের মধ্যে একটানা ১৫ মিনিট রোদে বসে থাকলেই শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডিয়ের ঘাটতি পূরণ হয়। দীর্ঘসময় রোদে বসে থাকা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। এতে ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁ’কি বাড়ে।

এ ছাড়া বিভিন্ন খাবার থেকেও দিনের চাহিদার ভিটামিনের ডিয়ের ঘাটতি পূরণ হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, পনির, মাশরুম, দুধ, ডিম, গরুর কলিজা, মুরগির বুকের মাংস উল্লেখযোগ্য। চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শে ঘাটতি পূরণে ভিটামিন ডিয়ের সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করতে পারেন।

ফল না ফলের রস-কোনটি খাবেন…

ফল বেশি পুষ্টিকর না ফলের রস- এ নিয়ে নানা তর্ক রয়েছে। ব্যায়ামের পর , খেলার সময় কিংবা খুব বেশি ব্যস্ততা থাকলে অনেকে ফলের রস খেয়ে নেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে,স্বাস্থ্যগুণ বজায় রাখতে রস নয়, অবশ্যই গোটা ফল খাওয়া উচিত। কোনো কোনো ফল খোসাসহ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, এমন অনেক ফল আছে যেগুলোর খোসায় গোটা ফলের চেয়ে পুষ্টিগুণ বেশি। খোসা ছাড়িয়ে রস করে খেলে পুষ্টিগুণ কমে যায় অনেকটাই। জেনে নেওয়া যাক ফল আর ফলের রসে কী ধরনের পুষ্টিগুণের পার্থক্য থাকে।

ফলের খোসা : আপেল, আঙুর, পেয়ারা, শশা, স্ট্রবেরি জাতীয় ফলগুলো খোসাসহই খাওয়া যায়। ফলের খোসা সরাসরি সূর্যের আলো পায়। এ কারণে এগুলি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। আঙুরের খোসা ক্যানসার প্রতিরোধেও সাহায্য করে। ফলের রস বের করার সময় বেশির ভাগ সময়ই খোসা ফেলে দেওয়া হয়। এ কারণে শরীর খোসার পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হয়।

ফলের শাঁস : ফলের শাঁসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ফাইবার পাওয়া যায়। কমলার শাঁসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ফ্লাভোনয়েডস রয়েছে। সেই সঙ্গে ভিটামিন সিও থাকে। এই দুটিই শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কমলার রস করার সময় উপকারী ফ্লাভোনয়েডস বেরিয়ে যায়।

ফাইবার : রস বের করে নিলে ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়। যেমন- আপেলের মধ্যে ৩ দশমিক ৭৫ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার থাকে। আট আউন্স আপেলের রস তৈরি করতে লাগে তিন থেকে চারটে আপেল। সেই হিসেবে আপেলের রসে ১২ থেকে ১৫ গ্রাম ফাইবার থাকার কথা। অথচ অ্যাপল জুসে ফাইবার প্রায় থাকে না বললেই চলে।

ক্যালরি : ফলের রস খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। ফল খেলে অতটা বাড়ে না। পরীক্ষায় দেখা গেছে ,পরিমাণ মতো আপেল খেলে শরীর ১২০ ক্যালরি শক্তি পায়, সেই পরিমাণ আপেলে ২৪ গ্রাম চিনি থাকে।

অন্যদিকে, যে পরিমাণ অ্যাপল জুস থেকে শরীর ১২০ ক্যালরি শক্তি পায়, সে পরিমাণ জুসে চিনির পরিমাণ থাকে প্রায় ৩০ গ্রাম। বাজারেরে অধিকাংশ ফ্রুট জুসেই ফলের রসের পরিমাণ কম থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব জুসে কৃত্রিম সুইটেনার যোগ করা থাকে।