করোনা ঠেকাতে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যে সব খাবার খাবেন

449

হাই ব্লাড প্রেসার শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। উচ্চ র’ক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার অত্যন্ত খারাপ একটি রোগ। আমাদের সারা দিনের কর্মব্যস্ত জীবনে টেনশন, চাপ, নানাবিধ সমস্যা বাড়াচ্ছে এ রোগ। হাইপারটেনশন (যা হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ নামে অধিক পরিচিত) হলো একটি জটিল দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) স্বাস্থ্যগত বিষয়, যার ফলে শরীরের র’ক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।

উচ্চ র’ক্ত চাপের নির্দিষ্ট কোন লক্ষণ এবং উপসর্গ নেই, তবে কোন কোন ক্ষেত্রে মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা, দ্বিধাগ্রস্থতা, দৃষ্টি শক্তির সমস্যা, বমি বমি ভাব এবং বমি হতে পারে। আট থেকে ৮০, যে কোনও বয়সেই হাই ব্লাড প্রেশার হতে পারে। স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ কিংবা তার চেয়ে বেড়ে গেলে বলা হয় হাই ব্লাড প্রেসার ও কমে গেলে লো ব্লাড প্রেশার।

চিকিৎসকরা বলেন, হাই ব্লাড প্রেসার থাকা শরীরের পক্ষে বেশি ক্ষতিকারক। এতে হার্ট অ্যাটাক, সেরেব্রাল অ্যাটাক বা স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

যাঁদের হাই ব্লাড প্রেসার আছে নিয়ম করে ওষুধ খেলে ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করলে তা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। আবার কিছু খাবার আছে যেগুলো নিয়মিত খেলে কমে যেতে পারে উচ্চ র’ক্ত’চা’প।

চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই খাবার-

আঙুর: পটাশিয়াম প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক উপাদান, যা কিডনি থেকে সোডিয়াম নিঃসরণ করে ও র’ক্ত’না’লী শিথিল করে দেয়। পটাশিয়াম ও ফসফরাসে পরিপূর্ণ আঙুর হাই ব্লাড প্রেসার কমিয়ে দিতে পারে।

কলা : আগেই বলা হয়েছে, হাই ব্লাড প্রেসার কমিয়ে দিতে পারে। একটি কলায় ৪৫০ মিলিগ্লাম পটাশিয়াম থাকে। তাই প্রতিদিন কলা খেলে হাই ব্লাড প্রেসারের সমস্যা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।

পেঁয়াজ : পেঁয়াজ রয়েছে অ্যাডেনোসিন। এটি পেশি শিথিল করে। যা হাইপারটেনশনের রোগীদের চিকিৎসায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে পেঁয়াজ। কাঁচা পেঁয়াজ রস বানিয়েও খেতে পারেন। রসের স্বাদ ভালো না লাগলে তাতে সামান্য মধু মেশাতে পারেন।

রসুন: ধমনী ও শিরায় জমে থাকা কোলেস্টেরল গলিয়ে দিতে সাহায্য করে রসুন। এটি র’ক্তে’র প্রবাহ বাড়ানো ও ব্লাড প্রেসার কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

ডাবের পানি : ডাবের পানিতে রয়েছে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন সি ও অন্যান্য নিউট্রিয়েন্টস্। এই উপাদানগুলি উচ্চ র’ক্ত’চা’প কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে।

তরমুজ: তরমুজে আছে আরজিনাইন। এটি একটি অ্যামিনো অ্যাসিড যা উচ্চ র’ক্ত’চা’প কমিয়ে ফেলতে পারে।

ধনেপাতা : প্রচুর পরিমাণে বায়োঅ্যাকটিভ রয়েছে ধনে পাতাতে। যেমন – অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, অ্যান্টিইনফ্লেমেটারি ও হতাশা কমানোর উপাদান। তাই ধনেপাতা খেলে কমে যেতে পারে ডায়াবিটিজ়, কোলেস্টেরলের সমস্যাও।

পাতি লেবু : ভিটামিন সি’তে ভরপুর পাতিলেবু হৃদযন্ত্রের সূক্ষ্ম নলগুলির শক্তি বাড়ায়। এতে হাইপারটেনশনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রোগ প্রতিরোধে মসলার ভূমিকা

খাবারের স্বাদ বাড়াতে মসলার বিকল্প নেই। প্রায় সব তরকারিতেই ব্যবহার করা হয় মরিচ ও হলুদ। হাজার বছর ধরে এশিয়াতে নানা ভাবে হলুদ ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং বিশ্বাস করা হয় এটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। বিশ্বের নানা প্রন্তে কফি শপেও প্রচলন শুরু হয়েছে হলুদের। এসব মসলা কী সত্যিই আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর না উপকারী- এমন প্রশ্ন স্বভাবতই মনে উঁকি দিতে পারে।।

মরিচ- শরীরে মরিচের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনেক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। এতে দেখা গেছে মরিচে উপকার-ক্ষতি দুই-ই আছে। মরিচের প্রধান সক্রিয় উপাদান ক্যাপসাইসিন। যখন আমরা মরিচ খাই তখন এর অনু আমাদের শরীরের তাপমাত্রার কাঠামোর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে যা মস্তিষ্কে তাপের অনুভূতি জাগায়।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাপসাইসিন আয়ু বাড়াতে সহায়তা করে। যারা কখনই মরিচ খায়নি তাদের চেয়ে যারা সপ্তাহে অন্তত চার বার মরিচ খায় তাদের মৃ’ত্যু’ঝুঁকি কম। হার্ভাড স্কুলের একটি গবেষণায়ও দেখা গেছে, যারা বেশি মরিচ খান তাদের মধ্যে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও সং’ক্রামক রোগে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা যাওয়ার হার কম।

তবে তার মানে এই নয়, প্রচুর মরিচ খাওয়া শুরু করলেই তা আপনার স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখবে। ২০১৯ সালে ইতালিতে এক গবেষণায় দেখা গেছে, মরিচ খাওয়ার অভ্যাস মৃ’ত্যু’ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। তবে এটি শুধু পর্যবেক্ষণ, এটা জানা অসম্ভব যে মরিচ মানুষকে দীর্ঘায়ু হতে সহায়তা করে নাকি স্বাস্থ্যবান মানুষদের মধ্যেই স্বভাবতই মরিচ খাওয়ার স্বাভাবিক প্রবণতা রয়েছে।

হলুদ- দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় সব পরিবারে হলুদের প্রচলন রয়েছে। কারকিউমিন নামক পদার্থ থাকায় এটিকে মানব শরীরের জন্য উপকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। প্রদাহ, চাপ ও বিভিন্ন শারিরীক সমস্যায় বিকল্প ওষুধ হিসেবে হলুদের ব্যবহার রয়েছে। অসংখ্য গবেষণায় ল্যাবরেটরিতে কারকিউমিনে ক্যান্সারবিরোধী প্রভাব থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হলুদে তাপ দেওয়া হলে এটির রাসায়নিক উপাদানে পরিবর্তন আসে, ফলে এর অনেক উপকারী গুণ নষ্ট হয়ে যায়।