কোরআন অবমাননা করায় বৃদ্ধের গলায় জুতার মালা দিয়ে গ্রাম ছাড়া

536

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় পবিত্র আল-কোরআন অবমাননা’র অ’ভিযো’গে আকবর আলী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ছাড়া করার ঘটনা ঘটেছে। আকবর আলী উপজেলার দাঁওগাঁও ইউনিয়নের শুকপাটুলী গ্রামের মৃ’ত শাহেদ আলীর ছেলে।

তাকে একই দিনে একই সাথে ৩ মাস ১০ দিন ওই বৃদ্ধকে গ্রামে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন গ্রাম শালিসের বিচারকরা। কোরআন অবমাননা করায় শালিসে ওই বৃদ্ধকে জুতার মালা পড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে শুকপাটুলী দাখিল মাদ্রাসার

সিনিয়র শিক্ষক ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ওই শালিসে হাজার হাজার মানুষ ছিল। সবাই ওই বৃদ্ধার প্রতি ক্ষোব্দ ছিল। তাই, তার পরিবারকেই বিচারের দায়িত্ব দিলে তারাই বৃদ্ধকে জুতার মালা পড়ান। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে

উপজেলার দাঁওগাঁও ইউনিয়নের শুকপাটুলী বাজারে গ্রাম্যশালিসকারীরা এই শাস্তি দেন। আকবর আলীর স্ত্রী অজুফা খাতুন বলেন, আমার ছোট মেয়ে রহিমার জামাই মঞ্জুরুল হকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার নেন বড় মেয়ে আয়েশা।

এই নিয়ে তাদের মাঝে ঝগড়া চলে আসছে। এসব নিয়েই মেয়ের জামাই মঞ্জুরুল গত সোমবার (১১ অক্টোবর) মনজুরুল ১০ থেকে ১২ জন লোক নিয়ে তাদের বাড়িতে আসে। ছোট মেয়ের জামাই ও তার সাথে আসা লোকজন আমার বৃদ্ধ স্বামী

আকবর আলীর কাছে টাকা লেনদেনের বিষয়টি জানতে চায়। তিনি টাকা লেনদেনের বিষয়ে কিছু জানেন বললে, তারা বৃদ্ধকে চাপ প্রয়োগ করে। এতে বৃদ্ধ আকবর আলী ক্ষোব্দ হয়ে ঘর থেকে আল-কোরআন, এনে মাটিতে ফেলে তার উপরে পা রেখে টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানেন না বলে জানায়।

কোরআন শরীফের উপর পা রাখায় মেয়ের জামাইসহ অন্যান্যরা ক্ষোব্দ হয়ে তখন চলে যান। পরদিন মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হলে দুপুরে শুকপাটুলী বাজারে তিন থেকে চার শতাদিক মানুষের উপস্থিতে গ্রাম শালিস অনুষ্ঠিত হয়।

ওই গ্রামে শালিসে স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মকবুল হোসেন, শুকপাটুলী দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ওয়ালিউল্লাহ মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রমজান আলী মাস্টার, বটতলা মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান,

শুকপাটুলী দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা কুতুব উদ্দিনের উপস্থিতে শালিসে আমার স্বামীকে জুতার মালা পরিয়ে তিন মাস ১০ দিনের জন্য গ্রাম ছাড়া করার সিদ্ধান্ত দেন। তিনি আরও বলেন, স্বামীকে কাফের ফতোয়া দিয়ে আমার তালাক হয়ে গেছে বলেও ফতোয়া দেয়া হয়।

আমাদের আবার বিয়ে করতে হবে বলেও ফতোয়া দেন শালিসে। আমার স্বামী অন্যায় করেছে। দেশে আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। তবে, এভাবে অপদস্থ করা বিচার দাবি করছি। এ বিষয়ে রমজান আলী মাস্টার বলেন, এলাকার লোকজন ওই বৃদ্ধের ক্ষোব্দ হয়ে উঠে।

তাকে বাঁচাতেই এই শা’স্তি দেয়া হয়েছে। তবে, তাকে গ্রাম ছাড়া করা হয়নি। তাকে কিছুদিন পালিয়ে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হেকিম বলেন, অসুস্থতার কারণে আমি শালিসে যেতে পারিনি।

তবে ঘটনা আমি শুনেছি। এ বিষয়ে বৃদ্ধের ছোট মেয়ে রহিমার জামাই মঞ্জুরুল হকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। শালিসে ফতোয়া দেয়া স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মকবুল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন,

কোরআন অবমাননা করায় তওবা করিয়ে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে জুতার মালা পড়ানো হয়েছে। তবে, তাকে শারীরিক কোন শা’স্তি দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোন অ’ভিযো’গ করেনি। অ’ভিযো’গ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।