কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে যে খাবারের বিকল্প নেই

508

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি – কোষ্ঠকাঠিন্য হলে ভালো ভাবে জীবনযাপন করাটাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই প্রায় নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন,যা ছোট-বড় উভয়েরই হয়ে থাকে। গর্ভবতী নারীদেরও এটা একটা সমস্যা। কোষ্ঠকাঠিন্যের ভয়ে তারা অনেক কিছুই খেতে ভয় পান।

কোনটা খেলে যে স্বস্তি পাবেন, আর কোনটা খেলে কষ্ট চরমে উঠবে, বুঝতে পারেন না। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়।

তা ছাড়াও অন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার কারণে এটি হয়ে থাকে। এর থেকে রক্ষা পেতে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার এবং বেশি পরিমাণ পানি খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তৎক্ষণাৎ এই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ওষুধ খেয়ে থাকেন। তবে ওষুধ নয়, পাঁচটি ফল রয়েছে যার রস কোষ্ঠকাঠিন্যের যন্ত্রণাদায়ক ও অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

চলুন জেনে নেয়া যাক কোন ফলের রসগুলো খেলে উপসম হবে-

কমলার রস-

কমলাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা মলকে নরম করে। সঙ্গে অন্ত্রের গতিবেগকে সচল করতে সহায়তা করে। এই সাইট্রাস ফলটি ফ্ল্যাভোনল দিয়ে ন্যারেঞ্জিনিন নামেও পরিপূর্ণ। যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি দেয়। হজমজনিত সমস্যায় ভুগলে কিছুদিন নিয়ম করে কমলা খান।

নাশপাতির রস-

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে নাশপাতির রস আরেকটি দুর্দান্ত উপায়। নাশপাতি ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল। এছাড়াও এতে ফাইবার এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শরবিটল রয়েছে। যে শিশুরা পরিপাকজনিত সমস্যায় ভুগছে, তাদের জন্য নাশপাতির রস খুবই উপকারী।

কালো আঙ্গুরের রস-

ডায়েটারি ফাইবার সমৃদ্ধ কালো আঙ্গুরের রস কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে বেশ কার্যকর। এতে ফাইবার থাকায় মল নরম হয় এবং এটি শরীর থেকে সহজেই উত্তরণে সহায়তা করে। এছাড়া এটি ভিটামিন সি এবং আয়রনের একটি ভালো উৎস।

আনারসের রস-

আনারসে ব্রোমেলাইন নামক একটি এনজাইম থাকে যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। এছাড়া পেটের ফোলাভাব এবং ব্যাকটেরিয়া কমাতে সহায়তা করে।

লেবুর রস-

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে লেবুর রস অন্যতম জনপ্রিয় রস। লেবু প্রাকৃতিক অ্যাসিডিক, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। যা বদহজমের সমস্যা উপশম করতে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সহায়তা করে।

ভাতের মাড় ফেলনা নয়, মুহূর্তেই শরীরে শক্তি যোগায়!

ভাত রান্নার পর অনেকেই মাড়টুকু ফেলে দেন নিশ্চয়! আবার কেউ বা এক চিমটি লবণ মিশিয়ে ওই মাড়টুকু পান করেন। বলতে গেলে তারাই লাভবান! জানেন কি? মাড় খাওয়া বা এর ব্যবহার কতটা স্বাস্থ্য উপকারী।
এটি খেলে হজমশক্তি ও এনার্জিও বাড়ে। আবার ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে পেতেও ব্যবহার করা হয় ভাতের মাড়। ভাতের মাড়ের রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। জেনে নিন এর পাঁচটি উপকারিতা সম্পর্কে-

ত্বকের শুষ্কতা রোধে-

জাপানে এক হাজার বছর আগে ভাতের মাড় দিয়ে রুপচর্চা শুরু হয়। প্রতিদিন দুইবার ঠাণ্ডা ভাতের মাড় দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলার উপকারিতা একদিন বা দু’দিনে নয় বরং দীর্ঘদিন পর আপনি টের পাবেন।

জাপানিদের সুন্দর ত্বকের পেছনের রহস্য কিন্তু এই ভাতের মাড়। এটি একটি দুর্দান্ত টোনার হিসাবেও কাজ করে যা আপনার ত্বকের লোমকূপের গোড়া পরিষ্কার করে। এটি একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-এজিং উপাদান হিসেবে কাজ করে।

চুলের জন্য উপকারী-

ভাতের মাড়ে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ডি এবং ই। এসব উপাদানই ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। ভাতের মাড় দিয়ে চুল ধুলে তা আরো ঝলমলে হয় ও চুলের বৃদ্ধি আরো বাড়ে। ২০১০ সালের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, চুলে ভাতের মাড় ব্যবহারের ফলে এর বৃদ্ধি বাড়ে। শুধু তাই নয়, চুল আরো চকচকে হয়ে ওঠে। চুলে ভাতের মাড় ব্যবহারের পর এক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর একটি হালকা শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ঘরেই হয়ে গেল আপনার হেয়ার স্পা!

শক্তি বর্ধক-

ভাতের মাড়ে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট। যা এনার্জি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ভাতের মাড় গ্রহণের ফলে শরীর সহজেই তা শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এনার্জিবর্ধক বিভিন্ন পানীয়র চেয়ে ভাতের মাড়ে ভরসা রাখুন, উপকৃত হবেন।

আরো উপকারিতা রয়েছে-

ডায়রিয়া নিরাময় থেকে শুরু করে ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ অবধি সব ধরনের সমস্যার সমাধান রয়েছে ভাতের মাড়ে। এমনকি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এই পানীয় বিরাট ভূমিকা রাখে। এটি গ্রীষ্মকালীন একটি দুর্দান্ত পানীয় যা শরীরকে মুহূর্তেই শীতল করে তোলে। যাদের শরীরে জ্বালা-পোড়াভাব হয় তারা ভাতের মাড় প্রতিদিন পান করতে পারেন।

শরীরের ক্লান্তি দূর করে-

গোসলের পানির সঙ্গে সামান্য ভাতের মাড় বা চাল ধোয়া পানি ব্যবহার করুন। এটি আপনার শরীরের তাপ ও ক্লান্তি দূর করবে। মুহূর্তেই আপনি সতেজতা অনুভব করবেন। পাঁচ মাসের বেশি বয়সী শিশুদের খাবারের তালিকায় ভাতের মাড় রাখা যেতেই পারে।