ক্যা’নসারসহ নানা রোগের মহৌষধ বেল

1728

প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে উপকারী ফল হিসেবে পরিচিত বেল। শীতের শেষ ও গরমের শুরুতে আবহাওয়ার পরিবর্তন খুব তাড়াতাড়ি প্র’ভাব ফেলে শরীরে। সারা দিন বাইরের কাজ শেষে শরীরে পানির ঘা’টতি দেখা দেয়। শরীরে পানি শূন্যতা পূরণে পান করতে পারেন বেলের শরবত।

বেলের শরবত খুবই স্বাস্থ্যসম্মত ও শরীর ভালো রাখে। বেলের শরবত হজমশক্তি বাড়ায় এবং তা বলবর্ধক।গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে পান করতে পারেন এক গ্লাস বেলের শরবত। বেলের শরবত শুধু শরীর ঠাণ্ডাই করে না। এর রয়েছে নানাবিধ উপকারিতা।

বেলের শরবত কেন খাবেন? বেল বসন্ত ঋতুর ফল। এতে প্রচুর পরিমাণ শ্বেতসার, ক্যারোটিন, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ক্যালসিয়াম ও আয়রন রয়েছে। বেল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও আমাশয়ে উপকার করে। আধাপাকা সিদ্ধ ফল আমাশয়ে অধিক কার্যকরী।

বেলের পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে পান করলে চোখের ছানি ও জ্বালা উপশম হয়। পাতার রস, মধু ও গোল মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে পান করলে জন্ডিস রো’গ নিরাময় হয়। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক বেলের কিছু অসাধারণ পুষ্টিগুণ আর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে।

১. কোষ্ঠকাঠিন্যের মহৌষধ বেল- পেট পরিষ্কার করার জন্য বেল খেতে হয় কথাটি কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভাবেও সত্য। বেল সুন্দর ভাবে ম’ল পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। নিয়মিত রোজ টানা ৩ মাস যদি আপনি বেলের শরবৎ খান তবে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য পুরোপুরি ভালো হয়ে যাবে।

২. ডায়েরিয়া কমাতে বেল খান- কাঁচা বেল ডায়েরিয়ার জন্য অব্যর্থ ওষুধ। যদি অনেক দিন ধরে আপনি এই সমস্যায় ভো’গেন তাহলে কাঁচা বেল স্লাইস করে কে’টে রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে এই গুঁড়ো ১ চামচ নিয়ে ব্রাউন সুগার আর গরম জলে মিশিয়ে খান। দিনে দুইবার খেতে হবে এই জল। ভালো ফল পেতে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।

৩. পেপটিক আলসারের ওষুধ বেল- পাকা বেলের শাঁসে সেই ফাইবার আছে যা আলসার উপশমে সাহায্য করে। সপ্তাহে তিন দিন বেলের শরবৎ করে খান আলসার কমাতে। এছাড়া বেলের পাতা সারা রাত জলে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সেই জল খেলেও কিন্তু অনেক কমে যায় আলসার।

৪. ডায়াবেটিস কমায়- ডায়াবেটিস রোগীর খাবার এর মধ্যে পাকা বেল হল অনেক উপকারী। পাকা বেলে আছে মেথানল নামের একটি উপাদান যা ব্লা’ড সুগার কমাতে অনবদ্য কাজ দেয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় এটি ধরা পড়েছে। তবে ভালো ফল পেতে পাকা বেল শরবৎ করে নয়, এমনিই খেতে হবে।

৫. যক্ষ্মা কমায়- পাকা বেলে আছে অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল উপাদান, যা যক্ষ্মা কমাতে সাহায্য করে। তবে ভালো ফল পেতে আপনাকে ব্রাউন সুগারের সঙ্গে বা মধু দিয়ে বেলের শরবৎ করে রাতে খেতে হবে শুতে যাওয়ার আগে। এটি টানা চল্লিশ দিন খান। উপকার পেতে আপনি বাধ্য।

৬. আর্থ্রারাইটিস উপশম করে- এটি একটি এমন সমস্যা যা আজকাল শুধু বয়স্কদের নয়, অনেক কম বয়সের মানুষদেরও হচ্ছে। গাঁটে গাঁটে ব্য’থা, চলতে সমস্যা এই সবই এর লক্ষণ। কিন্তু বেলে থাকা অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান এই ব্যথার হাত থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে। নিয়ম করে তাই বেল খান।

৭. স্কার্ভি কমায়- স্কার্ভি হল দাঁতের একটি সমস্যা যেটি মূলত ভিটামিন সি’র অ’ভাবে হয়। দাঁতের ক্ষ’য় হয় মূলত এই রো’গ হলে। বেল এই রো’গে’র প্র’কো’প কমায়। আমরা দেখেইছি যে বেল হল ভিটামিন সি’র একটি অনবদ্য উৎস। তাই আমরা আমাদের দৈনন্দিন ভিটামিন সি’র চাহিদা বেল থেকে পূরণ করতে পারি।

৮. ক্যা’নসার থেকেও দূরে রাখে– ক্যা’নসার আজকের দিনের এক ম’হা’মা’রী বলা যায়। আমরা সবাই চাই এই রো’গ’টি থেকে দূরে থাকতে। বেল কিন্তু আমাদের এই রো’গ থেকে দূরে রাখে। এতে আছে অ্যান্টি প্রলেফিরেটিভ ও অ্যান্টি মুটাজেন উপাদান। এই উপাদান টিউমার হতে দেয় না সহজে। আর যেহেতু এই ফলে হাই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান আছে

তাই ক্যা’নসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। ১০. ম্যালেরিয়া কমায় কাঁচা বেল– ম্যালেরিয়া হলে কাঁচা বেল নিয়ে গুঁড়ো করে নিন। এবার ১ চামচ এই বেল গুঁড়ো নিয়ে তার সঙ্গে তুলসীর রস নিন। সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেয়ে নিন দিনে দু বার। এটি কিন্তু অসাধারণ কাজ দেয়।