ক্রেতাদের নাগালের বাইরে আলু-পেঁয়াজ; নিয়ন্ত্রণে দুই বছর সময় চাইলেন মন্ত্রী!

113

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সংসদ ভবনে ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে আলু, পেঁয়াজের বাজার যাওয়ায় ক্ষু’ব্ধ সংসদীয় কমিটি। আগে থেকে কেনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

আর একটার আলোচনা শেষ হতে না হতেই আর একটা নিয়ে অস্থিরতা এসব বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ওপর চটেছেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। তবে মন্ত্রীর সমাধান একটাই আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য তিনি দুই বছর সময় চেয়েছেন।

কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, তাহজীব আলম সিদ্দিকী, সেলিম আলতাফ জর্জ এবং সুলতানা নাদিরা অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কমিটির একজন সদস্য বলেন, এভাবে একটার পর একটা জিনিসের দাম বৃদ্ধি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে হৈ চৈ করতে করতে আলুর দাম বেড়ে গেলো। কিন্তু কেন এটা হচ্ছে।

আমাদের মন্ত্রণালয়গুলো কি করে তাদের পূর্ব সার্ভে থাকে না? কোন বছর কোন পণ্য কতটুক উৎপাদন হলো আর কত চাহিদা। এটা নিরূপণ করেই তো আগে থেকে আমদানি করা যায়। এর তো একটা মাস্টার প্লান থাকবে হঠাৎ করেই দাম বৃদ্ধি কেন?

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বোঝানোর চেষ্টা করেন দেশের বাস্তবতায় পেঁয়াজের উৎপাদন কম। আলু নিয়ে ব্যাখা দেবার চেষ্টা করেন। তখন কমিটির সদস্যরা বলেন সাধারণ মানুষ তো বাস্তবতা শুনবে না তারা দেখবে বাজারে লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার।

এটা আগে থেকে কেন প্রস্তুতি নেন না। পরে মন্ত্রী বলেন, আমাদের আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। সেলফ সাফিশিয়েন্ট হতে হবে। এজন্য দুই বছর সময় লাগবে। দুই বছরের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। পরে বৈঠকে উপস্থিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান,

আমরা বাণিজ্য, কৃষি, খাদ্য, শিল্প ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটি মন্ত্রণালয় টিম গঠন করছি। একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক করে মাস্টার প্লান করব। সেখানে উৎপাদন বাড়াতে কি কি করতে হবে আর যেটা আমদানি করতে হবে সেটা আগে থেকেই কিভাবে প্লান করা যায় সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

এছাড়া বৈঠকে ‘কোম্পানি (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২০’ পরীক্ষাপূর্বক রিপোর্ট, কোম্পানির ৫ শতাংশ শেয়ারধারীদের কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় আলোচ্যসূচি প্রদানের সুযোগ এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

কমিটি ‘কোম্পানি (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২০’ সংশোধিত আকারে পাসের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করে। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আলু-পেঁয়াজের বাজার

স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে কমপক্ষে ৫-৬ মাস পূর্বে কোন কোন পণ্যের চাহিদা কত তা নিরূপন করে দেশের খুচরা, পাইকারি এবং আমদানিকারকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ওই সকল পণ্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার উদ্দেশ্যে আমদানিপূর্বক মজুদ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আগামীতে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলা করার জন্য মন্ত্রণালয়গুলো যেমন অর্থ, বাণিজ্য, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং সচিবদের সমন্বয়ে বৈঠক করে সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং তা থেকে উত্তরণের পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বৈঠকে কমিটি সুপারিশ করে।

দেশের মানুষের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর জন্য উৎপাদন বাড়ানোর ওপর কমিটি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করে। এছাড়া, বিগত রমজান মাসের ন্যায় আগামী রমজান মাসেও দ্রব্যমূল্য যাতে স্থিতিশীল থাকে সে লক্ষ্যে এখনই ভোক্তা সাধারণের নিত্যপণ্যের চাহিদা পূরণের জন্য (ডাল, তেল, চিনি, ছোলা, খেজুর এবং পেঁয়াজ ইত্যাদি) আগাম কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।