সকালে এক কোয়া রসুন খেলে যে ৮ রোগ কাছেও ঘেঁষবে না

1484

সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। স্বাস্থ্যবিদদের মতে, এক কোয়া রসুন না কি সারাতে পারে অনেক রোগ। তবে সত্যিই কি তাই ? এত মসলা থাকতে খালি পেটে রসুন খাওয়া কী আসলেই উপকারী।

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করলেন পুষ্টিবিদ অন্তরা মজুমদার। তিনি বলেন, রসুন খাওয়ার এই প্রচলিত ধারণা মিথ্যা নয় মোটেও।

এটি সত্যি খুব উপকারী। প্রাকৃতিক ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এই রসুন অনেক উপকারী। অনেক সময় পেট খালি থাকার পর এটি খেলে এর রস সহজে শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে পারে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মেটাবলিক রেটও একটু বেশি থাকে। তাই খালি পেটে এ মসলা খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

আসুন জেনে নিই সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন খেলে যেসব উপকার পাওয়া যাবে-

১. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ রসুন র’ক্ত’কে পরিশুদ্ধ রাখে। র’ক্তে উপস্থিত শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণেও করে রসুন।

২. সকালে খালি পেটে রসুনের কোয়া খেলে সারা রাত ধরে চলা বিপাকক্রিয়ার কাজ উন্নত হয়। এ ছাড়া শরীরের দূ’ষি’ত টক্সিনও মূ’ত্রে’র মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে পারে।

৩. শীতে ঠাণ্ডা লাগলে খালি পেটে এক কোয়া রসুন খেলে উপকার পাওয়া যাবে। দুই সপ্তাহ সকালে রসুন খেলে ঠাণ্ডা লাগার প্র’ব’ণতা অনেকটা কমে।

৪. হা’র্টে’র রোগীদের ক্ষেত্রে রসুন বিশেষ কার্যকর। হৃদস্পন্দনের হার নিয়ন্ত্রণ করতে ও হৃদপেশির দেয়ালে চাপ কমাতে সাহায্য করে।

৫. র’ক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে রসুন। কমায় র’ক্ত’নালির ওপর র’ক্তে’র চাপও। তাই উচ্চ র’ক্ত’চাপের অসুখে ভুগছেন এমন রোগীর ডায়েটে রাখতে পারেন রসুন।

৬. যকৃত ও মূ’ত্রা’শয়কে নিজের কাজ করতে সাহায্য করে রসুন। এ ছাড়া পেটের নানা সমস্যাও হজমের সমস্যা মেটাতেও রসুন ভালো কাজ করে।

৭. ভা’ই’রাস ও সং’ক্র’ম’ণজনিত অসুখ যেমন- ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, হাঁপানি, হুপিং কাফ ইত্যাদি প্র’তি’রো’ধে করে।

৮. স্নায়বিক চাপ কমিয়ে মানসিক চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম রসুন।

মনে রাখা প্রয়োজন তবে রসুন খেতে হলে তার রয়েছে কিছু বিধিনিষেধ-

• রসুন খেলে তা কাঁচা কিংবা অল্প রোস্ট করে খাওয়াই ভাল। রান্নার মশলায় বেটে দেওয়া রসুনে খাবারের স্বাদ খোলে ঠিকই, কিন্তু তাতে পুষ্টিগুণ তেমন থাকে না বললেই চলে।

• রসুন খেতে হলে দিনে দু’-তিন কোয়ার বেশি না খাওয়াই ভাল। এর চেয়ে বেশি পরিমাণে রসুন খেতে হলে চিকিৎসক এবং ডায়াটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া অবশ্যই জরুরি।

• যে কোনও সা’র্জা’রি বা অ’পা’রে’শনের আগে অনেক সময়ে চিকিৎসকেরা রসুন খেতে নিষেধ করেন। ফলে সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

• রসুন শরীর গরম রেখে ঠান্ডা লাগার ধাত কমায় ঠিকই। তবে হাঁপানির সমস্যা থাকলে রসুন খাওয়ার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। কারণ সে ক্ষেত্রে নানা পার্শ্ব প্র’তি’ক্রি’য়াও হতে পারে।

তাই ঠান্ডার মৌসুমে শরীর ভাল রাখতে অল্প পরিমাণে রসুন হতেই পারে আপনার নিত্যসঙ্গী। তথ্যসূত্র- আনন্দবাজার পত্রিকা।