জ্বর সর্দি-কাশির জন্য খুব উপকারী যে গাছের ফুল

267

মহুয়া হচ্ছে ঔষধি গুণাগুণে ভরা গাছ। এই গাছের পাতা থেকে শুরু করে ফল ও ফুল সবই উপকারী। এর ছাল, ফুল, ফল ও বীজ থেকে বিভিন্ন ওষুধ তৈরি হয়। এই গাছ জন্মে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতে।

হায়দরাবাদের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশনের তথ্যানুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম মহুয়া ফুলে পুষ্টির মান হলো ১.৪ গ্রাম প্রোটিন, ১.৬ গ্রাম ফ্যাট, ০.৭ গ্রাম মিনারেলস (খনিজ), ২২.৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৪৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২২ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ০.২৩ মিলিগ্রাম আয়রন, ৩০৭ ইউজি ভিটামিন-এ ও ৪০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি।

আসুন জেনে নিই এর উপকারিতা-

১. জয়েন্টের ব্যথা ও গেঁটে বাতের যন্ত্রণা থেকে উপশম পেতে মহুয়া ফুল বেটে গরম করে ব্যথার জায়গায় লাগান। আবার মহুয়া বীজের তেল অল্প গরম করে মালিশ করলে ফোলা ও যন্ত্রণা দুটো থেকেই মুক্তি পাওয়া যায়।

২. ত্বকের দাগ ও ব্রণের সমস্যায় বেশ উপকারী। মহুয়ার ছাল বেটে দাগের ওপরে লাগান। এ ছাড়া চর্মরোগ সারাতেও সাহায্য করে।

৩. প্রচণ্ড মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পেতে কপালে লাগান মহুয়ার তেল।

৪. বীর্য বৃদ্ধিতে মহুয়া পুরুষদের জন্য খুবই উপকারী। যেসব পুরুষের শুক্রাণুর পরিমাণ কম, তারা মহুয়ার ফুল খেতে পারেন। গরম দুধের সঙ্গে শুকনো ফুল চূর্ণ মিশ্রিত করে পান করলে বীর্য বৃদ্ধি পায়।

৫. জ্বর ও দীর্ঘদিন কাশির সমস্যায় খেতে পারেন মহুয়া ফুল। মহুয়া ফুল বেটে তার সঙ্গে পানি মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার পান করুন। এক সপ্তাহের মধ্যেই উপকার পাবেন।

৬. কৃমি দূর করতে বিশেষ করে শিশুদের কৃমির সমস্যায় রোজ কয়েক ফোটা করে মহুয়ার তেল খান, এতে কৃমি মরে যাবে।

৭. চামড়ার ক্ষত বা ঘা সারাতে মহুয়া বীজের তেল ব্যবহার করুন। কোনো পরিষ্কার কাপড়ে তেল নিয়ে সেই জায়গায় বেঁধে রাখুন। কয়েক দিনের ক্ষত স্থান ভালো হবে।

৮. এটি শরীরে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে ও শক্তি সরবরাহ করতে খুবই সহায়ক।

৯. দাঁতের সমস্যা, মুখের দুগন্ধ দূর করে, দাঁতের মাড়িকে শক্ত করে এবং দাঁত নড়া বন্ধ করে।

তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই…

থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে আপনি যে উপকার পাবেন

ভেষজগুণে সমৃদ্ধ থানকুনি গাছ বা থানকুনি পাতার রসে রয়েছে শরীরের জন্য প্রচুর উপকারী খনিজ ও ভিটামিন জাতীয় পদার্থ। এটির বৈজ্ঞানিক নাম Centella asiatica। এটি বাংলাদেশ, ভারত, সিংহল, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি ও এশিয়ার অন্যান্য প্রান্তে পাওয়া যায়। ভেষজ হিসাবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাবিদ্যায়।

থানকুনি পাতার রস নিয়মিত পান করলে আপনি যেসব উপকার পেতে পারেন:

১- মুখে ঘা ও অন্যান্য ক্ষতে থানকুনি পাতা বেশ উপকারী ২- ঘন ঘন জ্বর বা আমাশয় থেকে রক্ষা পেতেও থানকুনির রস কাজে দেয় ৩- পেটের অসুখে থানকুনির ব্যবহার বেশ প্রচলিত চিকিৎসা। ৪- সাময়িক ভাবে কাশি কমাতে সাহায্য করে।
৫- আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় অনেকেরই ঠান্ডা লেগে যায়। তাদের জন্যও সমাধান রয়েছে থানকুনি পাতার রসেই। ৬- আধা চা চামচ থানকুনির রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন।