ট্যাক্স দেবেন মিষ্টি খাবেন, না দিলে ফাইন: মেয়র আতিকুল

62

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশেনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি) যারা ট্যাক্স দেবেন, তাদের মিষ্টি খাওয়ানো হবে। আর যারা ট্যাক্স দেবেন না, তাদের জরিমানা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বরে অবৈ’ধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড উচ্ছেদের সময় এক ব্যবসায়ী ডিএনসিসি থেকে আগেই অনুমোদন নিয়ে নির্ধারিত মাপে সাইনবোর্ড স্থাপন করায় তাকে মিষ্টি খাওয়ানোর পরে মেয়র এসব কথা বলেন।

জনতা ব্যাংকের গুলশান শাখা তাদের সাইনবোর্ডের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ায় ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকেও ধন্যবাদ জানিয়ে মিষ্টি খাওয়ান আতিকুল। ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘আমি সবাইকে বলব, এই শহরটা কিন্তু আমাদের। এই শহরে আমরা উপার্জন করি।

আমাদের বাচ্চারা পড়াশোনা করে, এই শহরে আমারা বড় হয়েছি। এ শহরকে ভালোবাসতে হবে। যে ঘরে আমি থাকি সেই ঘরের প্রতি যদি মায়া না করি, যে ঘরে থাকি সে ঘরে যদি থুথু ফেলি, তাহলে হবে না। এই যে আজকে বড় বড় ডেভেলপাররা কীভাবে তাদের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিল, সিটি করপোরেশনকে কোনো ধরনের ট্যাক্স না দিয়ে।’

তিনি বলেন, ‘এই শহরে আপনাদের এত বড় বড় ব্র্যান্ডিং করবেন, আপনি ব্যবসা করবেন, আর সিটি করপোরেশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোনো ট্যাক্স দেবেন না, এটি হতে পারে না। ট্যাক্স দেবেন মিষ্টি খাবেন, আর যারা ট্যাক্স দেবেন না তারা ফাইন (জরিমানা) খাবেন।’

আতিকুল বলেন, ‘আমি সবাইকে বলতে চাই শহরে কোনো ধরনের সাইনবোর্ড লাগাতে গেলে আগে দেখুন সিটি করপোরেশনের নিয়ম কী। বিদেশে তো আপনারা এরকম করতে পারবেন না। এ দেশে কেন করবেন? এই দেশেরও গার্জিয়ান আছে।

জনগণ চায় সিটি পরিষ্কার থাকুক। জনগণ চায় তারা ফুটপাত দিয়ে যেন নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ফুটপাত সড়কে অবৈ’ধভাবে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী নিলাম করে দিচ্ছি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আজ সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ইত্যাদি অপসারণ করছি।

আমি জনগণকে অনুরোধ করব আপনারা আমাদেরকে জানান। এ রকম কোন কোন ফুটপাত ও রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী রেখে দেয়।’

আজ গুলশান-২ নম্বরে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হামিদ মিয়ার নেতৃত্বে প্রায় ১৫০টি অবৈ’ধ সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়। বনানী-১১ নম্বর সড়কে অঞ্চল-৭ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভি’যান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় প্রায় শতাধিক সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়। এ ছাড়া সড়ক ও ফুটপাত অবৈ’ধভাবে দখল করে জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

এ ছাড়া প্রগতি সরণিতে অঞ্চল ৬ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরিনের পরিচালনায় উচ্ছেদ অভিযানে মোট ৫২টি সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ইত্যাদি উচ্ছেদ করা হয়।

এ ছাড়া ফুটপাত ও সড়কে অবৈধভাবে মালামাল রাখায় তা নিলামে ৬৬ হাজার ৭০০ টাকা নিলামে বিক্রয় করা হয় এবং ৯টি মামলায় ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গত ৩ দিনে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ডিএনসিসিকে জমা দিয়ে সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড অনুমোদন নেন।