নাটোরে মণের পর মণ গুড় তৈরি আখ-খেজুরের রস ছাড়াই !‍

150

আখ, খেজুর অথবা তালের রস ছাড়া গুড় তৈরি সম্ভব নয়। কিন্তু এ অসম্ভব কে সম্ভব করেছে নাটোরের লালপুরে একটি চ’ক্র। রস ছাড়াই মণের পর মণ গুড় তৈরি করে বাজারজাত করছে তারা।

আখ বা খেজুরের রস ছাড়াই মণের পর মণ গুড় তৈরির দায়ে নাটোরের লালপুর উপজেলার বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের দুই গুড় ব্যবসায়ীকে দুই লাখ টাকা অর্থদ’ণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার রাত ১১ টার দিকে তাদের এই দ’ণ্ডা’দেশ দেয়া হয়। তারা হলেন- বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের তুহিন (৩০) ও জিয়াউর রহমান (৪০)। এ সময় সাড়ে সাত হাজার কেজি ভেজালগুড় জ’ব্দ করা হয়।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মুল বানীন দ্যুতি জানান, চিনিকল এলাকায় আখ মাড়াই নিষিদ্ধ এবং খেজুর রস আহরণ ছয় মাস আগে বন্ধ হয়েছে। অথচ বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের তুহিন ও জিয়াউর তাদের কারখানায় আখের ও খেজুরের গুড় তৈরি করে আসছিলেন।

খবর পেয়ে নাটোর র‌্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের কারখানায় অভিযান চালিয়ে সাড়ে সাত হাজার কেজি ভেজাল আখের গুড়, তিন কেজি ফিটকারি, চার কেজি ডালডা, ৭০ কেজি চুন ও দুই কেজি হাইড্রোজেন জ’ব্দ করেন।

র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার রাজিবুল আহসান এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ভেজাল গুড় তৈরির কথা স্বীকার করেন। এ কারণে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা অর্থদ’ণ্ড দেওয়া হয়। তারা তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা পরিশোধ করে ছাড়া পান।

কলাপাড়ায় সেতু ভেঙে খালে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পাখিমা’রা খালের উপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে পড়েছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। এসময় সেতুর উপর থাকা শহিদুল হক ও রুহুল আমিন মৃধা খালে পড়ে আ’হ’ত হয়। তাৎক্ষণিভোবে তারা সাঁতরে তীরে উঠায় কোন হ’তাহ’তের ঘটনা ঘটেনি।

সেতুটি ভেঙে পাড়ায় উপজেলা নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আট গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েছে ওইসব গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ।

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থ-বছরে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমা’রা খালের উপর দুই দফায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ১১৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সেতুটি নির্মাণ করে।

স্থানীয়রা জানান, সেতু পার হয়ে পার্শ্ববর্তী মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের তেগাছিয়া গ্রামের মানুষ ছাড়া কুমির মা’রা, পূর্ব কুমির মা’রা, পাখিমা’রা, মজিদর্পু, এলেমপুর, বাইনতলা, ফরিদগঞ্জ ও সুলতানগঞ্জ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করে।

এ ইউনিয়ন কৃষিতে সমৃদ্ধ হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে করে এ গ্রামগুলো থেকে সবজি কিনে বিক্রি করে। কিন্তু সেতু ভেঙে পড়ায় এখন সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে সবজি চাষী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

নীলগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. নাসির মাহমুদ জানান, সেতু ভেঙে পড়ায় বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ডিঙ্গি নৌকায় করে মানুষ ঝুঁ’কি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।

কলাপাড়া এলজিইডির প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন জানান, পাখিমা’রা খালে আগে ছিল কাঠের পুল। উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্তে ছয় বছর আগে একটি পুরনো আয়রণ সেতুর মালামাল দিয়ে ওই খালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে উপজেলায় ভেঙে পড়া ও ঝুঁ’কিপূর্ণ সেতুর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলেই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, সেতু ভেঙে পড়ার খবর তিনি পেয়েছেন। এখন বিকল্প উপায়ে চলাচল অব্যাহত রাখতে ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। সেতুটি সংস্কারের বিষয়ে এলজিইডিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।