নাতিকে কুরআন শেখাচ্ছেন কুরআনের হাফেজ এরদোয়ান

256

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান একজন কুরআনের হাফেজ এটা অনেকেই জানেন। শুধু তাই নয়, বর্তমানে পৃথিবীতে তিনিই একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি একাধারে প্রেসিডেন্ট এবং পবিত্র কুরআনে হাফেজ। সেদেশের পার্লামেন্টে মাঝে মাঝেই তিনি নামাজের ইমামতি করেন এছাড়া তুরস্কের অনেক মসজিদেও ইমামতি করেছেন।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান ও তার নাতীর একটি ছবি। যেখানে দেখা গেছে, নাতীকে পবিত্র কোরআন শেখাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। প্রকাশিত ওই ছবিটি নিয়ে মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার তুরস্কের বহুল প্রচারিত পত্রিকা ইয়েনী সাফাক ছবিটি ছাপিয়ে লিখেছে, গভীর রাতে বা ফজর নামাজের পরে কিছুটা অবসর সময় পান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। সে সময়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। মাঝেমধ্যে সময় পেলেই নাতিকে কোরআন শেখাতে বসে যান এরদোগান।

সে দেশের পার্লামেন্টে মাঝে মাঝেই তিনি নামাজের ইমামতি করেন এবং তুরস্কে অনেক মসজিদে ইমামতিও করেছেন।

এবার তুরস্কের বহুল প্রচারিত পত্রিকা ইয়েনী সাফাক আজ ২৭ ডিসেম্বর, শুক্রবার এরদোয়ান এবং তার নাতীর একটি ছবি ছাপিয়েছে। ছবিটিতে দেখা যায়, অবসর সময়ে নিজ নাতীকে কুরআন শিখাচ্ছেন এরদোয়ান।

মুহূর্তেই সে ছবি ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে। পত্রিকাটি জানিয়েছে, গভীর রাতে কিংবা একদম ভোরে কিছুটা অবসর সময় পান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। সে সময়টাই তিনি পরিবারের সঙ্গে কাটান। আর সময়ে পেলেই নাতিকে কুরআন শিখাতে বসে যান এরদোয়ান।

এ প্রসঙ্গে এরদোগান দেশটির বেসরকারি টিভি চ্যানেল ২৪ টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, ছবির শিশুটি আমার নাতি আহমেদ আকিফ। আমার জামাতা তুরস্কের অর্থবিষয়ক মন্ত্রী বেরাত আলবায়রাকের ছেলে।

ছবিটি মারমারিসে সেই রাতে তোলা হয়েছিল যে রাতে ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। আমি সেদিন আমার নাতিকে বলেছিলাম দৈনিক পাঁচ পৃষ্ঠা করে কোরআন পড়তে। মাশাআল্লাহ, তার আগ্রহ দেখে আমি অভিভূত হয়ে যাই। আমার সঙ্গে পড়তে পড়তে ধীরে কোরআন পড়া শিখে গিয়েছিল সে।

প্রতিদিন কুরআন পাঠনের ৬টি প্রয়োজনীয় দিক নিচে তুলে ধরা হলো-

১. কুরআন মানবজাতির জন্য হেদায়াত : আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবন কীভাবে পরিচালিত হবে, তার প্রতিটি বিষয় কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন : ‘আমি তোমার নিকট কিতাবটি নাজিল করেছি। এটি এমন যে তা সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, আর এটা হেদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ স্বরূপ’। সূরা আননাহল : ৮৯

২. কুরআন তিলাওয়াত ঈমান বৃদ্ধি করে : কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বান্দার ঈমান বৃব্ধি পায়। এ বিষয়ে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন : ‘মুমিন তো তারা, যাদের অন্তরসমূহ কেঁপে উঠে যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। আর যখন তাদের উপর তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং যারা তাদের রবের উপরই ভরসা করে’। সূরা আনফাল : ২

৩. কুরআন মানুষের অন্তরকে প্রশান্তি দেয় : মানব জীবনে অর্থ বা অন্যান্য কারণে জাগতিক তৃপ্তি আসলেও প্রকৃত তৃপ্তি ও শান্তি কুরআন শিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব। আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘যারা ঈমান আনে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে। জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়’। সূরা আর-রা‘দ : ২৮

৪. কুরআন তিলাওয়াতকারীর পক্ষে সুপারিশ করবে : কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াতকারীর পক্ষে সুপারিশ করবে। এটা বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর, কারণ, কুরআন কেয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে’। মুসলিম : ১৯১০

৫. কোরান হচ্ছে সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস : কুরআন যে নির্দেশনা দিয়েছে তা নির্ভুলভাবে প্রমাণিত। আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘ইয়া-সীন। বিজ্ঞানময় কুরআনের শপথ’। সূরা ইয়াছিন : ১-২

৬. জান্নাতে যাওয়ার জন্য কুরআন: প্রত্যেক মুমিনের সর্বোচ্চ কামনা হলো জান্নাতে যাওয়া। তাই জান্নাতে যাওয়ার জন্য কোরান পড়তে হবে। হাদিসে এসেছে, ‘সিয়াম ও কুরআন কিয়ামাতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সুপারিশ করবে যে, সিয়াম বলবে হে আমার রব, আমি দিনের বেলায় তাকে (এ সিয়াম পালনকারীকে) পানাহার ও যৌ’নতা থেকে বিরত রেখেছি।

তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। অনুরূপভাবে কোরান বলবে, হে আমার রব, আমাকে অধ্যয়নরত থাকায় রাতের ঘুম থেকে আমি তাকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবূল করা হবে’। মুসনাদে আহমাদ: ৬৬২৬