নড়াইলে মাত্র ৫০ টাকায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন মাশরাফি !

586

নড়াইলবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাশরাফি বিন মুর্তজা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মাত্র ৫০টাকায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচিত এ সংসদ সদস্যের অনুরোধে । মাশরাফির পরামর্শে এর আগে নড়াইল সদর হাসপাতালে নতুন ৪ চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়।

নড়াইলের সর্বস্তরের জনগণের কল্যাণার্থে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন গঠন করেছিলেন মাশরাফি। তার সেই ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহযোগিতায় মাত্র ৫০ টাকার ফি নিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সেবা অব্যাহত রেখেছেন ।

নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মির্জা নজরুল ইসলাম জানান,শহরের মহিষখোলায় অবস্থিত শরীফ আব্দুল হাকিম ডায়াবেটিক হাসপাতালে গা’ই’নী, স্ত্রী’রো’গ, প্র’সূ’তি ও শিশুসহ বিভিন্ন রোগী নিয়মিতভাবে দেখেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চারজন ডাক্তার । এ ছাড়া বিশেষ বিশেষ দিনে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এনে চিকিৎসা দেয়া হয়।

সম্প্রতি নড়াইলবাসীর জন্য ৫০টাকা ফি’তে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবার উদ্বোধন করেছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাশরাফি বিন মর্তুজা। স্বল্প খরচে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা পেয়ে নড়াইলের বিভিন্নশ্রেণী পেশার মানুষ মহাখুশি।

জীবনের জন্য বড় এক অনুপ্রেরণা মাশরাফি

বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যে মাশরাফি গত শুক্রবার সপরিবারে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে তাঁর গৃহপরিচারিকার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলার পূর্ব যোগানিয়া গ্রামের বাসিন্দা আক্কাছ আলী। তিন মেয়েকে নিয়ে একসময় রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকায় বসবাস করতেন। মিরপুরের একটি হাউজিং অ্যাপার্টমেন্টে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। একই অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন ক্রিকেটার মাশরাফি। এক সময় আক্কাছ আলীর বড় ও মেজ মেয়ে মাশরাফির বাসায় গৃহপরিচারিকা ছিলেন। ছোট মেয়ে টুনি তিন বছর ধরে মাশরাফির বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে আছে।

আক্কাছ আলীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাশরাফির সঙ্গে এই পরিবারের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। আক্কাছের দুই মেয়ের বিয়ের খরচ দিয়েছেন মাশরাফি। সেই সূত্রে টুনি তাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য মাশরাফি পরিবারের কাছে আবদার করত প্রায়ই। সেই আবদার সপরিবারে রক্ষা করলেন নড়াইল-২ আসনের সাংসদ মাশরাফি।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে সপরিবারে পূর্ব যোগানিয়া গ্রামে যান মাশরাফি। তাদের ভাত, পটল ভাজা, মাছ, মুরগির মাংস ও গরুর মাংস খাওয়ানো হয়। সঙ্গে ছিল দই ও মিষ্টি। মাশরাফি ফিরে যাওয়ার পর আক্কাছ আলী বলেন, ‘মাশরাফি আমার বাড়িত, ভাবতামও পাইতাছি না।’

মাশরাফি আসার খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসতে থাকেন আক্কাছ আলীর টিনের ছোট্ট বাড়িতে। ক্রিকেট তারকার সঙ্গে কেউ তোলার চেষ্টা করেন সেলফি, কেউবা অটোগ্রাফ নিতে ব্যস্ত হয়ে যান। প্রচণ্ড ভিড় জমে আক্কাছ আলীর বাড়ির চারপাশে। আপ্যায়ন করা হয় মাশরাফি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের। দুই ঘণ্টা অবস্থান করে ফিরে যান তাঁরা। আক্কাছকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গেছেন সাংসদ মাশরাফি।