পেটের অতিরিক্ত চর্বি কমিয়ে শক্তি বাড়ায় যে আলু

346

শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমায় – আপনার পেটে অতিরিক্ত চর্বি নিয়ে চিন্তা। অনেক কিছু করেও কমাতে পারছেন না পেটের চর্বি।

পেটের চর্বি অতিরিক্ত মানেই কিন্তু ওজন বেড়ে যাওয়া। ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো কারণে আলু খাওয়া বাদ দিলেও খেতে পারেন লাল মিষ্টি আলু। এই আলু শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাবে।

পুষ্টিবিদদের মতে, আলুকে বাদ দিলেও লাল মিষ্টি আলুকে অবহেলা করবেন না। ‘আমেরিকান ওবেসিটি অ্যাসোসিয়েশন’ এর মতে, লাল আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) এতটাই কম যে এর থেকে তৈরি হওয়া গ্লুকোজ দ্রুত রক্তে মিশে যেতে পারে। এ ছাড়াও লাল আলুর বেশ কিছু গুণের কথাও জানিয়েছে তারা।

পুষ্টিবিদ সুমেধা সিংহের মতে, আলুও যে খুব ক্ষতিকারক তা কিন্তু নয়। আলু সেদ্ধ হওয়ার পর পানি ফেলে দিলে সেই আলুতে খুব একটা ক্ষতি হয় না। তবু বেশি মাত্রায় ডায়াবেটিক ও ওবেসিটির রোগীদের আলু থেকে বারণ করা হয়।

তিনি বলেন, আলু থেকে তৈরি গ্লুকোজ দ্রুত রক্তে মেশে না। কিন্তু লাল আলুর বৈশিষ্ট্য একেবারেই বিপরীত। তাই ডায়েটে লাল আলু রাখতে পারেন।এই আলু ওজন কমাতে সাহায্য করে।

কী কারণে পাতে লাল আলু রাখবেন তার বেশকিছু কারণ জানিয়েছে ‘আমেরিকান ওবেসিটি অ্যাসোসিয়েশন’। এতে ভিটামিন এ, প্রয়োজনীয় খনিজ ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টের মতো দরকারি উপাদান রয়েছে। মূলত শীতে পাওয়া যায় এই সবজি।

ফাইবার- লাল আলুতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। যা পাকস্থলীতে জেল জাতীয় আঁঠালো পদার্থ তৈরি করে। এতে পেট ভরে তাড়াতাড়ি ও ক্ষুধা কম লাগে। ফলে ওজন কমে। লাল আলু মেটাবলিজম বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম, সহজপাচ্য হওয়ায় হজমের সমস্যাতেও পড়তে হয় না।

উপকারী কার্বস- শক্তি বাড়াতে এই সবজি কাজে আসে। শরীর গঠনের প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেটের অন্যতম উৎস এই লাল আলু।

প্রতি ৩০০ গ্রাম রাঙা আলু সেদ্ধ থেকে ৫৮ গ্রাম মতো কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। নো কার্বস ডায়েটে অভ্যস্তরাও একে সহজেই পাতে নিতে পারেন। কারণ, এর কার্বোহাইড্রেট দ্রুত রক্তে মিশে শক্তি উৎপন্ন করতে পারে।

পানি শোষণকারী- মেটাবলিজম বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের পানি শোষণ করে নিতে এই সবজি খুবি ভালো কাজ করে। পানির সঙ্গেই শরীরের টক্সিনকে দূর করতেও বিশেষ কার্যকরী।

তাই জমে থাকা পানির প্রভাবে শরীর ফুলে গেলে তার হাত থেকে অনেকটাই নিষ্কৃতি দেয় এই সবজি। শরীরের পিএইচ ফ্যাক্টরে ভারসাম্য রাখতেও সাহায্য করে।

অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট- লাল আলুতে জিঙ্ক সুপারঅক্সাইড, স্পোরামিন, ক্যাটালেস ধরনের অ্যান্টিঅক্সাইডের পরিমাণ বেশি থাকে বলে এগুলো শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

ময়দা আটার খাবার খেয়ে যেসব রোগ বাড়ছে

ভাতের বদলে রুটি খেলে শরীর সুস্থ আর ঝরঝরে থাকে-এমনটা অনেকেই ভেবে থাকেন। আবার পেট পরিষ্কার রাখার জন্যেও গমের তৈরি নানা খাবার খান কেউ কেউ।

কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, রুটি বা আটা-ময়দার খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে একাধিক রোগ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজে উঠে এসেছে এমনই কিছু তথ্য।

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক রুটি বা আটা-ময়দার খাবার থেকে শরীরে ঠিক কী কী সমস্যা তৈরি হতে পারে-

গমে উপস্থিত থাকে অতিরিক্ত গ্লুটেন, যা শরীরে সহজে হজম হতে চায় না। তাই হজমের সমস্যা হতে পারে।

এই গ্লুটেন থেকেই অনেক সময় পেটের নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। ‘আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিকাল নিউট্রিশন’ কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাউরুটি খাওয়ার পর শরীরে পরিপাকে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়।

এর প্রভাবে শরীরের বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায় যা মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনের মতো সমস্যাকে বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, গমে থাকা গ্লুটেন নামে উপাদান হজম হতে অনেকটাই সময় নেয়। আর এই গ্লুটেন হজম হওয়া মানেই বাড়তে শুরু করে রক্তে শর্করার মাত্রা। ফলে ইনসুলিনের ক্ষরণও বেড়ে যায়।

দিনের পর দিন এমনটা চলতে থাকলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসেআক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সেই কারণেই যাদের পরিবারে ডায়াবেটিসেআক্রান্ত রয়েছে, চিকিৎসকেরা তাদের গমের তৈরি খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, গমের তৈরি খাবার খেলে কোলেস্টেরলের সমস্যাও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাছাড়া গমের তৈরি খাদ্য উপাদান ত্বকের বয়স বাড়িয়ে দিতে পারে। ত্বক কুচকে যায়, ত্বকে বলিরেখা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়াও গমের তৈরি খাবার-দাবার বেশি পরিমাণে খেলে অকালে চুল ঝরে গিয়ে টাক পড়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, আটা-ময়দা দিয়ে তৈরি কোনো খাবার খাওয়ার পর শরীরে একদিকে যেমন শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তেমনি কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও বাড়তে শুরু করে। ফলে ওজন বাড়তে শুরু করে। বেড়ে যায় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও।