‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠিত হবেই, এটি ঠেকানোর কারও ক্ষমতা নেই’

154

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠিত হবেই, এটি ঠেকানোর কোনও শক্তির ক্ষমতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন। শনিবার (২৮ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর

আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ঢাকার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ১৪তম মৃ”ত্যু’বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হানিফ বলেন, আলেম-উলামা মাশায়েখের নাম দিয়ে কিছু লোক মাঠ উত্তপ্ত করছে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছে। ইসলামে উ’গ্র’বাদের স্থান নেই। তাদের কথার সঙ্গে ইসলামের কোনও মিল নেই। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন,

যারা আবার শাপলা চত্বরের হু’ম’কি দেয়, তাদের ল’জ্জা থাকা উচিত। লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিল তারা, কোনো হু’ম’কিতে কাজে আসবে না। সরকারের শক্তি সম্পর্কে তাদের ধারণা থাকা উচিত।

টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেয়া হবে যেকোনো ভাস্কর্য: বাবুনগরী

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী কোনো ভাস্কর্য তৈরি হলে তা টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেয়া হবে বলে হু’ম’কি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের নাম নেব না। যারা ভাস্কর্য তৈরি করবে, টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেয়া হবে।

আমার বাবার নামেও যদি কেউ ভাস্কর্য তৈরি করে, টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেব। শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হু’ম’কি দেন জুনায়েদ বাবুনগরী।

আল আমিন সংস্থা নামের একটি সংগঠন এই মাহফিলের আয়োজন করে। সংগঠনটির বেশিরভাগ নেতাকর্মী হেফাজতে ইসলামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের।

কিন্তু তিনি উপস্থিত ছিলেন না। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় মামুনুল হককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে জ’ঙ্গি’বাদবিরোধী ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদ। এই অবস্থায় এই মাহফিল ঘিরে আশপাশের এক কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত জোরদার পুলিশি পাহারা ছিল।

তবে প্রশাসনের অনুরোধে মামুনুল হক ঢাকায় ফিরে গেছেন বলে মাহফিলে জানান জুনায়েদ বাবুনগরী। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই। সংঘা’ত চাই না। মামুনুল হকও সমাবেশে আসতে আগ্রহী ছিলেন না। আমরা তাকে আনতে আগ্রহী নই।

কিন্তু তারপরও কিছু কুচ’ক্রী হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে মামুনুল হকের কু’শপু’ত্তলিকা দা’হ ও অ’শ্লী’ল স্লোগান দিয়েছে। এটি একজন আলেমের সঙ্গে বেয়াদবি।’ হেফাজতের আমির, বর্তমান পুরো বিশ্বে আস্তিক আর নাস্তিকের লড়াই চলছে।

আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে কোনো লড়াই নেই, শুক্রবারের জুমার নামাজে তারাও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরস্পরের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন হয়, মুসলমান হিসেবে সবাই ভাই ভাই। কিন্তু আস্তিক আর নাস্তিক কখনো এক হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন মদিনার সনদে দেশ চলবে। প্রধানমন্ত্রীর এ কথার সঙ্গে সহমত পোষণ করছি। আমরাও চাই মদিনার সনদে দেশ চলুক।’

বাবুনগরী বলেন, ‌‘ভাস্কর্য- এটা শরিয়তসম্মত নয়। কোনো পার্টি বা নেতার নাম বলছি না, যার ভাস্কর্য হোক না কেন, আল্লাহর কসম, কেউ যদি আমার আব্বার ভাস্কর্য বসায়, আমি সর্বপ্রথম সেই ভাস্কর্য টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেব।

যে কোনো দল ভাস্কর্য বসাবে, আমার আব্বার ভাস্কর্যও যদি স্থাপন করা হয়, সেটা শরিয়ত সম্মত হবে না। টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেব।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বাবুনগরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে অন্তর থেকে ভালোবাসি। আপনার আব্বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, আমরা উনাকে শ্রদ্ধা করি। এই বঙ্গবন্ধুকে কারা মে’রে’ছে? কোনো মাদরাসার ছাত্র? কোনো আলেম-ওলামা? না, না। এই বঙ্গবন্ধুকে মে’রে ফেলেছে বঙ্গবন্ধুর মানুষরা।’

‘আপনাকে সতর্ক করছি। আপনার ঘাড়ে যেসব নাস্তিকরা বসে আছে, তারাই আপনার ক্ষতি করবে, তারাই আপনাকে মে’রে ফেলবে। আমরা আপনার দুশমন নই। আমরা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চাই।’

মাওলানা মামুনুল হককে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাহফিলে বাধা দেয়ার প্রতি’বা’দে শুক্রবার ঢাকায় বিক্ষো’ভ মিছি’লে পুলিশের লা’ঠিপে’টার নিন্দা জানান হেফাজতে ইসলামের আমির।

তিনি বলেন, তৌহিদি জনতার ওপর এমন লা’ঠিপে’টা বড়ই দুঃ’খ’জনক। বিক্ষো’ভ মিছি’ল থেকে গ্রে’ফতা’র লোকজনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি না দিলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দিতে হেফাজতে ইসলাম বাধ্য হবে।