বদহজম কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পেট পরিষ্কার রাখার ৭টি উপায়!

348

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পেট পরিষ্কার রাখার উপায়- অনেকেই পেটের পীড়ায় ভুগে থাকেন। এক্ষেত্রে বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যায়। অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অনিয়মিত জীবন-যাপনের কারণে পেটের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতে হয়। যার ফলে অসম্পূর্ণ মল ত্যাগ হয়ে থাকে। আপনার শরীর কতটা সুস্থ তা নির্ভর করে ঠিকমতো মল ত্যাগ হচ্ছে কি-না তার উপর।

পেটের বিভিন্ন গলোযোগের কারণে নিয়মিত পেট পরিষ্কার হয় না। যার প্রভাব পড়ে শরীরের উপর। আর তখনই দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন ধরনের রোগ শরীরে বাসা বাঁধে।

মার্কিন চিকিৎসক টড সিনেট, ডিসি তার ‘দ্য গুড শট’ নামক বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ‘আপনার শরীর কতটা সুস্থ তা নির্ভর করে হজম ক্ষমতার উপরে’। তিনি তার বইয়ে ৭টি উপায়ের কথা বলেছেন, যার মাধ্যমে পেট পরিষ্কার হবে নিয়মিত। জেনে নিন তবে-

পরিমিত খাবার খেতে হবে সঠিক সময় অনুযায়ী। তাহলে শরীর খাবার হজম করার সময় পায়। যদি আপনি সারাদিন একটু পর পরই খেতে থাকেন; তাহলে আপনার পরিপাকতন্ত্র যথেষ্ট সময় পাবে না হজম করার। এজন্য নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী খাবার খেতে হবে।

ডা. সিনেট জানান, পেট পরিষ্কার রাখতে ও কোষ্ঠ’কাঠিন্য দূর করতে ফাইবারজাতীয় খাবার খাওয়ার বিকল্প নেই। দিনে ২৫-২৮ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে আপনি যদি কম ফাইবার জাতীয় খাবার খেয়ে পেট ভরান; তাহলে সেসব খাদ্য হ’জ’ম হতে অনেক সময় লাগে।

ফলে মলত্যাগ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। পেট পরিষ্কার রাখতে ফাইবার, প্রোটিন ও ভালো চর্বি জাতীয় খাবার খেতে হবে। অনেক সময় ভালো ফ্যাটের উৎস গুলোও আমরা ক্ষতিকর ভেবে পরিহার করি। যেমন-ঘি, মাখন, গরু বা খাসির মাংস, ডিম, বাদাম, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি।

ডা. সিনেটের মতে, স্বাস্থ্যকর চর্বি পেট পরিষ্কার রাখতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে থাকে। আর এমন ফ্যাট জাতীয় খাবার খেলে শরীরের অতিরিক্ত ও ক্ষতিকর চর্বিও দূর করা যায়।

পানির অপর নাম জীবন-কথাটির সঙ্গে সবাই নিশ্চয়ই একমত। শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করার বিকল্প নেই। ডা. সিনেট এবং গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট অবনীশ আগরওয়ালের মতে, দৈনিক পর্যাপ্ত পানি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে জলদি মুক্তি মেলে।

এতে হজমব্যবস্থা উন্নত হয়। শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন দূর হয়। প্রোবায়োটিক খাবার খেলে অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ে। ফলে খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। এ কারণে প্রোবায়োটিক গ্রহণ করলে পেট পরিষ্কার হয়।

প্রোবায়োটিক হলো বিশেষ এক প্রকার উদ্ভিজ ফাইবার, যা অন্ত্র বা কোলনের মধ্যের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি প্রদান করে। এজন্য কলা, ওটস, পেঁয়াজ, রসুন,টকদই, আপেল, পনির, ডার্ক চকলেট, ডুমুর, সয়া দুধ ইত্যাদি খেতে পারেন।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট অবনীশ আগরওয়ালের মতে, ভিটামিন ডি এর সঙ্গে পেট পরিষ্কার রাখার যোগসূত্র রয়েছে। ভিটামিন গ্রহণের ফলে অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পেট হয় পরিষ্কার। এজন্য সকালের রোদ পোহাতে হবে।

পর্যাপ্ত রোদ পোহাতে না পারলে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন। পাশাপাশি শরীরচর্চা করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে অর্শ্বরোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কারণ অসম্পূর্ণ মলত্যাগ হওয়ায় অনেকেই পায়ুপথে প্রেশার দিয়ে থাকেন। এ কারণে একসময় পায়ুপথে বিদ্যমান রক্তনালী ফুলে যায়। এর ফলে মলদ্বারে র’ক্ত’পা’ত দেখা যায়, যা হতে পারে ব্যথাযুক্ত। তাই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হেলাফেলায় না নিয়ে বরং এখন থেকেই সচেতন হোন।

লিভার সুস্থ রাখতে জরুরি কিছু বিষয়……

যেসব অভ্যাসে সুস্থ থাকবে লিভার- নিজেকে সুস্থ রাখতে শরীরের প্রত্যেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গের দিকে নজর দেয়া জরুরি। স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে লিভারের যত্ন নেয়াও অত্যন্ত জরুরি। লিভারের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা তখনই নিশ্চিত করা যায়, যখন পেট পরিষ্কার থাকে।

লিভার সুস্থ রাখতে ঘরোয়া কয়েকটি উপায় অবলম্বন করতে পারেন। চলুন এমন চারটি উপায় সম্পর্কে জেনে নিই-

পর্যাপ্ত পানি পান

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। সাধারণভাবে প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস (২.৫-৩.৫ লিটার) পানি পান করা উচিত। তবে স্বাস্থ্য, বয়স ও ওজন অনুযায়ী এটি ভিন্ন হতে পারে। আমাদের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশই হলো পানি।

পানি শরীরের টক্সিন লিভারের মাধ্যমে ছেঁকে বের করতে সাহায্য করে। শরীরে পানির অভাব হলে লিভারে ও শরীরে টক্সিন জমতে থাকে যা শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গেরও ক্ষ’তি করে। তাই লিভারের সুস্থতায় পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

রসুন

রসুনে রয়েছে সালফারের উপাদান, যা লিভারের এঞ্জাইমের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়াও রসুনে রয়েছে অ্যালিসিন ও সেলেনিয়াম যা লিভার পরিষ্কারের পাশাপাশি লিভারের সুস্থতা নিশ্চিত করে। তাই প্রতি দিন অন্তত এক কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

লেবু আর উষ্ণ পানি

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যান্য খাবারের তুলনায় উষ্ণ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে তা লিভারে অনেক বেশি এনজাইম উৎপাদনে সাহায্য করে। এছাড়াও ভিটামিন-সি ‘গ্লুটেথিয়ন’ নামে যে এনজাইম উৎপন্ন করে, তা লিভারের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই অন্যান্য পানীয়র তুলনায় সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস উষ্ণ লেবু পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

গ্রিন-টি

গ্রিন-টির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের ফ্রি রেডিকেল টক্সিসিটি দূর করে এবং লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এক থেকে দু’কাপ গ্রিন-টি পান করার ফলে লিভারে জমে থাকা টক্সিন দূর হয়ে যায় এবং শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়।