ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাঁশের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রিজ নিয়ে জনমণে আ’ত’ঙ্ক !

190

বাঁশের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে থাকা– নিচে বাঁশের ঠেকা। সর্ব শেষ ছাদও ভে’ঙে পড়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-নবীনগর সড়কের একটি ব্রিজের এমন দু’র্দ’শা’র কারণে সড়কটি দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দিনভর সরাসরি যান চলাচল বন্ধ থাকে। ভা’ঙা অংশ ভরাট করতে দিন শেষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একটি ট্রাকে করে স্টিলের প্লেট পাঠায় সেখানে।

এর আগে গত দু-দিন ধরে ব্রিজের ভা’ঙা অংশের একপাশ দিয়ে ঝুঁ’কি নিয়ে সিএনজি অটোরিকশা পার হয়েছে যাত্রী নামিয়ে। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার গাছতলায় বদগনী খালের ওপর এই ব্রিজটি নির্মিত হয়েছে প্রায় ৩০/৩৫ বছর আগে।

তখন মূলত খাল পাড়ি দিতেই এই ব্রিজটি কাজে লাগতো এলাকার মানুষের। কয়েক বছর আগে জেলা সদরের সাথে নবীনগর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ চালু হওয়ার পর সিএনজি চালিত অটোরিকসা, ব্যাটারি চালিত অটো, মাইক্রো, মিনি ট্রাক চলাচল শুরু হয় এ পথে। সময় গড়ানোর সাথে নানা যানবাহনের চাপ বাড়ে সড়কে।

এর মধ্যে মালবোঝাই বড় ট্রাক, ইট-বালু বোঝাই ট্রাকটরও চলতে শুরু করে। কিন্তু কয়েক টন ওজন নেয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন এই ব্রিজ অল্প ক’দিনেই নড়বড়ে হয়ে পড়ে। ৪৭ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজ বর্তমান সড়কের সঙ্গেও বেমানান। সরু হওয়ায় যানবাহন একমুখী চলাচল করতে পারে শুধু।

গাছতলা গ্রামের সাদেক মিয়া জানান, প্রতি রাতে বড় ট্রাক চলে এই ব্রিজের ওপর দিয়ে। ১০/১৫টি ট্রাক বালু, পাথর এ সব মাল নিয়ে ব্রিজ পার হয়। সে কারণেই এটি ভা’ই’ঙ্গা পড়ছে। নাটাই দক্ষিন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হোসেন মিয়া জানান, ব্রিজটিতে ৪ দিন আগেই ভা’ঙ’ন দেখা দেয়।

পরে ভা’ঙ’ন বড় হয়। ব্রিজটির অবস্থা ভালো না, সেটি তারা এক বছর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টিতে আনেন বলেও জানান তিনি। এলজিইডি’র ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম বলেন, আমরা এখন ষ্টিলের প্লেইট বসিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করছি।

ব্রিজটি রিপ্লেসমেন্ট করার জন্য আমরা অনেক দিন ধরেই লিখছি। এটি উপজেলা রোড। আমাদের ব্রিজ রিপ্লেসমেন্ট একটি প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্প ছাড়াও অন্য প্রকল্প থেকেও আমরা ব্রিজটি করার চেষ্টা করছি। আশা করছি ২/৩ মাসের মাধ্যমে কোন প্রকল্প থেকে ব্রিজটির কাজ শুরু করতে পারবো।

তিনি জানান, গত মাস দুয়েক আগে একবার ভা’ঙ’ছে, এখন আবার ভা’ঙ’ছে। আসলে আমাদের রাস্তায় তো ৮/৯ টনের বেশি ওজনের যানবাহন চলার কথা নয়।

কৃষককে সম্মান জানাতে লুঙ্গি পরেই ক্লাসে শিক্ষার্থীরা !

বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর দেশ। কৃষকরাই এ দেশের অর্থনীতির মূল হাতিয়ার। কিন্তু কৃষকরাই সব সময় দেশের মানুষের অবহেলায় থাকে এমনকি ফসলের মূল্যের সঙ্গে তাদের ভাগ্যে জোটে না পর্যাপ্ত সম্মানও। এবার সেই কৃষকদের সম্মান জানাতে লুঙ্গি পরে ক্লাস রুমে এলেন কৃষি বিভাগের একদল ছাত্র।

কৃষকদের সম্মান জানাতে গত রবিবার নিজেদের ক্লাসে লুঙ্গি পরে আসেন ছাত্ররা। তারা জানান, ক্যাম্পাস লাইফের শেষ ক্লাসকে স্মরণীয় রাখতে নোবিপ্রবি কৃষি বিভাগের ৪র্থ ব্যাচ নেয় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

বাঙালির ঐতিহ্য এবং কৃষির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং কৃষক ও কিষাণীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে মেয়েরা শাড়ি এবং ছেলেরা লুঙ্গি পরে গামছা মাথায় বেঁধে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ ক্লাস করেন।

ছবিটি ফেসবুকের বিভিন্ন পেইজ ও গ্রুপে অনেক বেশি ভাইরাল হয়ে চলছে। ক্লাস শেষে সবাই সে সাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা প্রদক্ষিণ করেন এবং বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করেন পুরো ক্যাম্পাস।

এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী মো.আল আমীন আকাশ বলেন, ‘ বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ ক্লাস আসলেই খুব আবেগঘন সময়, এ মুহূর্তটা স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলাম ভিন্ন কিছু করে।’

তাছাড়া আমাদের পঠিত বিষয় কৃষি, তাই এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং এ কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছে তাদের প্রতি সম্মান জানাতেই আমরা এ ধরনের পোশাক বেছে নিয়েছি।’