বাসি ভাত গরম করে খাওয়ার আগে সাবধান ! এতে মৃ’ত্যু’ও হতে পারে

789

বাসি ভাত থেকে সাবধান । বেঁচে যাওয়া ভাত পরে গরম করে খাওয়া উচিত নয়। অন্যান্য খাবার হিসেব করে রান্না করা গেলেও ভাত হিসেব করে রান্না করা সবসময় সম্ভব হয় না। পুষ্টিবিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, চালের কোষ তৈরি করে ‘ব্যাসিলাস সেরেয়াস’ নামের একজাতীয় ব্যাকটিরিয়া যা বি’ষা’ক্ত কেমিক্যাল উৎপাদন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যাকটিরিয়া চাল সেদ্ধ করে ভাত তৈরি হয়ে যাওয়ার পরও বেঁচে থাকে।

ভাত ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিলে এই ব্যাকটিরিয়ার বংশ বিস্তার করে! শুরু হয় বি’ষ’ক্রি’য়া। আবার ভাত ৫ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফের গরম করা হলে এই ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে।

সমাধান হিসেবে গবেষকরা বলছেন, রান্না করা ভাত এক ঘণ্টার বেশি সময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা উচিত নয়। কাঁচ কিংবা ধাতব পাত্রে, ফ্রিজে রাখুন। তাপমাত্রা হতে হবে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে।

ভাত কতবার গরম করা নিরাপদ? চিকিৎসকেরা বলছেন, সবসময় টাটকা খাবার খাওয়াই উচিৎ! তাও একান্তই যদি ভাত গরম করে খেতে হয়, সর্বোচ্চ একবার গরম করাই ভাল। এর বেশি গরম করলে, ভাত নষ্ট হয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

কীভাবে গরম করবেন ? বাসি-ভাত ফ্রিজ থেকে বের করার সঙ্গে সঙ্গেই গরম করুন। পাশাপাশি ওই ভাত থেকে গরম বাষ্প উঠছে এমন অবস্থাতেই খেয়ে নিন। ভাত গরম করার সময় ক্রমাগত নাড়তে থাকুন যাতে সবখানে সমানভাবে তাপ পৌঁছায়।

মাথায় রাখুন- রান্নার পর ভাত তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা করতে পাত্র পরিবর্তন করুন। ছোট ছোট অংশে ভাত ভাগ করে রাখলেও তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা হয়ে যায়। ভাত যত তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা হয়, ব্যাকটিরিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তত কমে।

আপেল ডাক্তার তাড়ায়— কতটা সত্যি?

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানুষের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত, প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ডাক্তার ডাকার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু এই কথাটি কতটুকু সত্য তা নিয়ে বিতর্ক রয়েই গেছে।

চিকিৎসকদের মতে, আপেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হলেও তা কখনোই চিকিত্সার বিকল্প হতে পারে না। বৃটিশ চিকিৎসক ড. ব্রিউয়ার বলেন, এটি সত্য যে আপেলের অনেক গুণাগুণ রয়েছে। তাই বলে যদি পুরোপুরি আপেলের ওপর নির্ভর করে বসে থাকা হয় তাহলে তা হবে খুবই মারাত্মক ঘটনা।

আপেল সম্পর্কে প্রচলিত এই ধারণার পেছনে যুক্তি হচ্ছে আপেল রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে, হার্টের অসুখ ও ক্যানসার প্রতিরোধ করে, র’ক্তে’র খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, আপেলের খোসা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় তা বার্ধক্য প্রতিরোধ করে তারুণ্য ধরে রাখে।

আপেলের রয়েছে আরো কিছু গুণাগুণ। এই যেমন আপেল দাঁতের ব্যাকটেরিয়া ধ্বং’স করে, হজমশক্তি বাড়ায়, জ্বর-কফ কমায়। তবে আপেলের কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। আপেল অ্যাসিডিক হওয়ায় এটি বেশি খেলে দাঁতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আরেকটি বিষয়, আপেলের বীজে রয়েছে ক্ষ’তি’ক’র সা’য়া’না’ই’ড।

চিকিত্সকদের মতে, সুষম খাবার না খেলে যেমন শরীরে পুষ্টির অভাব হবে সেই সঙ্গে নানা ধরনের রোগ-বালাইও ঘিরে ধরবে। এছাড়া সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত চিকিত্সকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে চলতে হবে।

তা না হলে প্রতিদিন একটি আপেল খেলেও সুস্থ থাকার কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে না। চিকিত্সকের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি প্রতিদিন যে কোনো ধরনের একটি ফল খেলেই প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ার মতো উপকারিতা পাওয়া যাবে।

প্রতিদিন একটি আপেলের মতো আরো কিছু ধারণা প্রচলিত যেমন গাজর খেলে রাতকানা রোগ ভালো হয়। কিন্তু চিকিত্সকদের মতে, নিয়মিত গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তি ভালো হয়। গাজর বেটা ক্যারোটিনের উত্তম উত্স। যা কি না শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’ যোগান দেয়। কিন্তু গাজর থেকে পাওয়া এই ভিটামিন ‘এ’ যে কারো রাতকানা রোগ পুরোপুরি বন্ধ হবে এই নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না।