ভারতের পরীক্ষার সিলেবাসে ‘গরুর দুধে সোনা, গোবর তেজস্ক্রিয়তারোধী’

147

ভারতের পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী গরুর নানা উপকারিতা নিয়ে ‘গরু বিজ্ঞান’ বা গো-বিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে দেশটির ৯০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে,

গরুর প্রতিটি অংশ কতটা উপকারী ও বিজ্ঞানসম্মত, তা নিয়ে চর্চা করতে এবং এই পরীক্ষায় বসতে যেন সব শিক্ষার্থীকে উৎসাহ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় পশু মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগ চালু করে। তাদেরই তত্ত্বাবধানে

আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই পরীক্ষা। কামধেনু আয়োগের ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যেই পরীক্ষার সিলেবাস জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের এক মন্তব্যে সাড়া পড়ে গিয়েছিল সবখানে।

তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতীয় গরুর পিঠের কুঁজে এমন কোনও বিশেষত্ব রয়েছে, যা সূর্যের আলো সংশ্লেষ করে এবং দুধের মধ্যে সোনা তৈরি করে। একারণেই নাকি গরুর দুধের রঙ খানিক হলদেটে হয়। আশ্চর্যজনকভাবে গো-বিজ্ঞান পরীক্ষার সিলেবাসেও

দেখা যাচ্ছে এসব কথাই লেখা রয়েছে। শুধু তাই নয়, সিলেবাসে রয়েছে, গোবর পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা কমাতে সাহায্য করে। এ নিয়ে ভারতের পাশাপাশি রাশিয়াতেও গবেষণা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এমনকি, গোবরের কারণেই ভোপালে গ্যাস-বিপর্যের তীব্রতা কম ছিল বলে দাবি করা হয়েছে সিলেবাসটিতে।

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, ১৯৮৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ভোরে ভোপালের একটি কীটনাশক কারখানা থেকে দুর্ঘ’ট’নাবশত ৪০ টন মিথাইল আইসোসায়ানেট ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাৎক্ষণিক হাজার হাজার ঘুমন্ত মানুষের মৃ”ত্যু ঘটে। শহরের পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে

এবং বহু লোক পালাতে গিয়ে পদপিষ্ঠ হন। ছড়িয়ে পড়া বি’ষা’ক্ত গ্যাসে আ’ক্রা’ন্ত হন শহরের প্রায় ছয় লাখ মানুষ এবং এদের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার মা’রা যান। এমন ভ’য়াব’হ বিপর্যয়ের পরেও গোবরের কারণে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছিল দাবি করায় সমালোচনা হচ্ছে খোদ ভারতেই।

তবে রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগের চেয়ারম্যান বল্লভাই কাঠিরিয়া বলছেন, ‘এতে কোনো অবৈজ্ঞানিক ব্যাপার নেই। আমরা ভারতীয় গরুর মাহাত্ম্য প্রচার করতে চাই। সে কারণেই এই পরীক্ষা।’ জানা গেছে, গত ১৫ জানুয়ারি থেকে গো-বিজ্ঞান পরীক্ষার নিবন্ধন শুরু হয়েছে। মোট ১৩টি ভাষায় নেওয়া হবে পরীক্ষা। এতে অংশগ্রহণকারীদের বিশেষ সনদও দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগের মুখপাত্র পুরীশ কুমার জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ৫ লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছেন। ভারতে গো-বিজ্ঞান পরীক্ষা এবারই প্রথম হচ্ছে। তবে আগামী বছরগুলোতে দেশটিতে গরু এবং পরীক্ষার্থী- উভয়ের সংখ্যাই কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি। সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ওয়াল