ভিপি নুরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইকোর্টে লিগ্যাল নোটিশ

165

হাইকোর্টে লিগ্যাল নোটিশ- ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে ৭ দিনের মধ্যে নুরের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে বলা হয়, ভিপি নুরের ওপর এ পর্যন্ত নয়বার হা”ম”লা করা হয়। সর্বশেষ মুক্তিযু’দ্ধ মঞ্চ কর্তৃক এ হা’ম’লা’র ঘটনায় দেশের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ সাধারণ মানুষ নিন্দা জানিয়েছে। এ ঘৃ”ণ্য আচরণের জন্য প্রশাসন শুরু থেকে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব হলো সরকারের। ভিপি নুরের নিরাপত্তা প্রদানে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু ভবনে ভিপি নুরুল হক নুরের উপর হামলা করা হয়। সেসময় তার সঙ্গে থাকা সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদস্যরাও হামলার শিকার হন।

অমিত শাহকে সমর্থন দিয়ে কাদের গোটা জাতিকে ক্ষুব্ধ করেছেন: মির্জা ফখরুল

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেদেশের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহর বক্তব্য সমর্থন দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গোটা জাতিকে ক্ষুব্ধ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ভারতের সংসদে পাস হওয়া ‘বিতর্কিত’ নাগরিক সংশোধনী আইন (সিএএ) ও নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে সেদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে সমর্থন দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সমগ্র জাতিকে স্তম্ভিত ও ক্ষু’ব্ধ করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সম্প্রতি ভারতের সংসদে পাশ হওয়া বিতর্কিত ‘নাগরিক সংশোধনী আইন (সিএএ) ও এনআরসি’ সংকট নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষসহ, জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট এবং বিশ্বের বিবেকবান মানুষেরা চরমভাবে উৎকণ্ঠিত।

বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের সব ধর্ম, বর্ণ, মত ও পথের মানুষ এ আইনের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে সরব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। এমনকি পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি ‘দিল্লীর রামলীলা ময়দানে’ প্রকাশ্য জনসভায় ‘নাগরিক সংশোধনী আইন (সিএএ) ও এনআরসি’ ইস্যুতে ভারতের জনগণের ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা দূরীভুত করতে নমনীয় মনোভাব প্রকাশ করছেন।

ঠিক এরকম পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ‘বাংলাদেশ ও বিএনপি’ সম্পর্কে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর পার্লামেন্টে দেয়া মিথ্যা, উদ্দেশ্যমূলক, ভিত্তিহীন ও ধর্মীয় বিভক্তি সৃষ্টিকারী বক্তব্যের পক্ষে অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ২৩ ডিসেম্বর ওবায়দুল কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সুস্পষ্ট হুমকিস্বরূপ রাখা অমিত শাহর বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে সমগ্র জাতিকে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ করেছেন।

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ওবায়দুল কাদের অমিত শাহর সমর্থনে নিজ দেশের আপামর জনগণের উদ্দেশ্যে বলেছেন ‘ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলেছেন বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটা কি অসত্য?’ আমরা দ্ব্যর্থহীন এবং অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ওবায়দুল কাদের, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব অমিত শাহ এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাবীশ কুমার আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ, বিএনপি এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সরকার সম্পর্কে যে বক্তব্য রেখেছেন তা সর্বৈব, মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বৈষম্যমূলক, ধর্মীয় বিভক্তি সৃষ্টিকারী এবং তা দুদেশের (আওয়ামীলীগ ও বিজেপি) অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে সংকীর্ণ সুবিধা লাভের ঘৃ’ণ্য কৌশলমাত্র।

ওবায়দুল কাদেকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আপনি এবং আপনার অবৈধ দেশের স্বার্থবিরোধী সরকার অমিত শাহর বক্তব্যের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে সুস্পষ্টভাবে শুধুমাত্র এদেশের মানুষের স্বার্থবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেননি, একইসঙ্গে বিতর্কিত ‘নাগরিক সংশোধনী আইন (সিএএ) ও এনআরসি’র ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সব নিরীহ সাধারণ ভারতীয়দের স্বার্থহানিকর ঘৃণ্য সহযোগির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি গণবিরোধী, ভোটারবিহীন এবং দখলদার সরকার অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে কতটা নির্লজ্জ, হিতাহিত জ্ঞানশূন্য ও ক্ষমতালিপ্সু হতে পারে অমিত শাহের বক্তব্যকে সমর্থন করতে গিয়ে নিজেদের আদর্শিক পিতা শেখ মুজিব সরকারের সময়কালকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেও যে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেন না, ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান সেটাই প্রমাণ করে।

কারণ ভারতের পার্লামেন্টে যে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন অমিত শাহ সেখানে শুধুমাত্র বিএনপি সময়কালকেই নয়, শেখ মুজিবের ৭১ পরবর্তী সরকার এবং বর্তমান অবৈধ সরকারকেও সরাসরি অভিযুক্ত করেছেন। অমিত শাহর বক্তব্যই তার সুস্পষ্ট প্রমাণ।

মির্জা ফখরুল বলেন, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য কোনো বিচারেই বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ বা সমর্থন করতে পারে না। বস্তুত: অমিত শাহর বিএনপি ও বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্যকে নিরঙ্কুশশভাবে সমর্থন করে ওবায়দুল কাদের ভারত সরকারের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের রাবীশ কুমারের বর্ধিত দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।