মহানবী সা: এর দেয়া ১৪০০ বছর আগের চিকিৎসা পদ্ধতি

1158

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে এসেছিলেন মানবজাতিকে এক আল্লাহ তায়ালার দিকে আহবান করার জন্য। রাসূল সা. মানব জাতিকে হেদায়েতের দিকে আহবান করার পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন জীবন কিভাবে পরিচালনা করবে সেই পদ্ধতিও দেখিয়ে দিয়েছেন।

তার পরিপ্রেক্ষিতেই দেখিয়েছেন মানুষ অসুস্থ হলে কিংবা স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য কি ধরনের নিয়ম কানুন অনুসরণ করতে হবে।

চিকিৎসা পদ্ধতি

অনেকে অসুস্থাকে অভিশাপ হিসেবে মনে করে, আসলে অসুস্থতা আখিরাতের সফলতা অর্জনের জন্য একটি পরীক্ষা বিশেষ। কেননা আল্লাহ মানুষকে ভয়, ক্ষুধা, ধন-সম্পদ, অসুস্থতা ও ফল ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করে।

এসব পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমানের কাজ। আজকে আমরা ১৪০০ বছর আগে হযরত মুহাম্মদ সা: এর দেয়া চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবো।

জ্বর হলে ঠান্ডা পানি

ঠান্ডা পানিকে রাসূল সা. একটি চমৎকার চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করতেন। তিনি জ্বর হলে মাথায় ঠান্ডা পানির পট্টি ব্যবহার করতেন। রাসূল সা. বলেন,

জ্বর হল দোযখের তাপ, সুতরাং পানি দিয়ে ঠান্ডা করো। [১]

কঠিন আঘাতে লবণ-পানির চিকিৎসা

বিচ্ছু আর সাপের কামড়ের বিষ নামানোর জন্য রাসূল সা. লবণ ব্যবহার করতেন। রাসূল সা. কখনো ঔষধ ব্যবহার ত্যাগ করেননি কিংবা ঔষধের উপর অত্যধিক নির্ভর করেনি।

বিষাক্ততা নিরাময়ের জন্য রাসূল সা. বিষাক্ত স্থানে লবণ-পানি মালিশ করতেন। আবার এর সাথে রাসূল সা. কোরআনের আয়াত পড়তেন। [২]

রক্তক্ষরণ বন্ধে ছাই ব্যবহার

ওহুদ যুদ্ধের সময় আঘাতে রাসূল সা. এর মাথার রক্তে তার মুখমণ্ডল ভরে যায়। আলী রা: তাঁর বর্মে করে পানি এনে দিলেন আর ফাতিমা রা: তাঁর মুখমণ্ডল ধুয়ে দিলেন। ফাতিমা রাঃ দেখলেন র”ক্ত প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে।

তখন তিনি খেজুর পাতার পাটি পোড়ালেন আর তার ছাই রাসূল সা. এর ক্ষতস্থানের উপর প্রলেপ দেন। এরপর রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।[৩]

এই হাদিস দ্বারা খুব সহজেই ছাইয়ের উপকার অনুমেয় হয়।

শিঙ্গা লাগানো

শিঙ্গা লাগানো হলো একটি ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দেহ হতে দূষিত র”ক্ত বের করে দেয়া। বর্তমান যুগে এই চিকিৎসা খুব একটা হয় না। কিছুদিন আগেও বেদের মেয়েরা শিঙ্গা লাগাতেন। তবে চীনে এই চিকিৎসা যৎসামান্য পরিবর্তন করে করা হয় যা আকুপাংচার নামে পরিচিত।[২]

রাসূল সা. বলেন তিনটি জিনিসের চিকিৎসা আছে মধু, শিঙ্গা লাগানো এবং আগুনের সেকা। তবে আমি আমার উম্মতকে আগুনের সেকা ব্যবহার করতে নিষেধ করেছি।[৪]

রোগের জন্য অস্ত্রোপচার

আলী ইবনে আবি তালিব রা: বলেন জনৈক রোগীকে দেখতে যাওয়ার সময় আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। রুগি ব্যক্তির কোমর ফুলে যায়। লোকজন বলাবলি করছিল যে এর ভিতরে পুঁজ আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ফোঁড়ার উপর অ’স্ত্রো’পচার করতে বলেন। আমি তাঁর উপস্থিতিতে সাথে সাথে ঐ লোকটির ফোঁড়ায় অ’স্ত্রো’পচার করি।[৫]

বোঝা যায় আলী রা: ছোটখাটো অ’স্ত্রো’পচারের দক্ষ ছিলেন, তা না হলে তিনি তাৎক্ষনিক ভাবে এই অ’স্ত্র প্রচার করতেন না।

ঔষধ হিসাবে গরুর দুধ

আরবের লোকেরা দুটি জিনিস উটের দুধ আর খেজুর এর জন্য গর্ববোধ করে। এর যথেষ্ট কারণও রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা রাসূল সা. কে বলতে শুনেছেন, “তোমাদের গরুর দুধ পান করতে হবে কারণ এর মধ্যে ঔষধি গুন আছে। দুধের তৈলাক্ত পদার্থের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে তবে এর মাংস রোগ সৃষ্টি কারক।” [৫]

দুধ খাদ্য আর পানীয়র বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। গরুর দুধ মহিষ, ভেড়া এবং ছাগলের দুধের চাইতে উত্তম ও সুষম পানীয়। এটা মহিষ, ছাগল এবং ভেড়া দুধের চেয়েও ভাল।

গরুর দুধ অনেক রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। চিকিৎসকগণ গরুর দুধকে রোগের স্বাস্থ্যহানির পর স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য ঔষধ হিসাবে গ্রহণের জন্য ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকে।