মহানবী (সা.) যে খাবারগুলো খুব পছন্দ করতেন

439

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর পছন্দের ১২টি খাবার ও তার গুণাবলী এখানে উল্লেখ করা হলো। এ সব খাবার প্রিয় নবী (সা.) আহার করতেন।

দেড় হাজার বছর পর আজকের বিজ্ঞান গবেষণা করে দেখেছে নবীজী (সা.) এর বিভিন্ন খাবারের গুণাগুণ ও উপাদান অত্যন্ত যথাযথ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নবীজী (সা.) এর খাবারের মধ্যে রয়েছে বার্লি, খেজুর, ডুমুর, আঙ্গুর, মধু, তরমুজ, দুধ, মাশরুম, অলিভ অয়েল, ডালিম-বেদানা, ভিনেগার ও পানি। এ সব খাবারের গুণাবলী এখানে উল্লেখ করা হলো

১. বার্লি (জাউ) : এটা জ্বরের জন্য এবং পেটের পীড়ায় উপকারী।

২. খেজুর : খেজুরের গুণাগুণ ও খাদ্যশক্তি অপরিসীম। খেজুরের খাদ্যশক্তি ও খনিজ লবণের উপাদান শরীল সতেজ রাখে। প্রিয়নবী (সা:) বলতেন, যে বাড়িতে খেজুর নেই সে বাড়িতে কোনো খাবার নেই। এমন কি প্রিয়নবী (সা:) সন্তান প্রসবের পর প্রসূতি মাকে খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

৩. ডুমুর : ডুমুর অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ভেষজগুণসম্পন্ন যাদের পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী খাবার।

৪. আঙ্গুর : প্রিয় নবী (সা:) আঙ্গুর খেতে অত্যন্ত ভালো বাসতেন। আঙ্গুরের পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। এই খাবারের উচ্চ খাদ্য শক্তির কারণে এটা থেকে আমরা তাৎক্ষণিক এনার্জি পাই এবং এটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আঙ্গুর কিডনির জন্য উপকারী এবং বাওয়েল মুভমেন্টে সহায়ক। যাদের আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম আছে তারা খেতে পারেন।

৫. মধু : মধুর নানা পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণ রয়েছে। মধুকে বলা হয় খাবার, পানীয় ও ওষুধের সেরা। হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে মধু পান করা ডায়রিয়ার জন্য ভালো। খাবারে অরুচি, পাকস্থলীর সমস্যা, হেয়ার কন্ডিশনার ও মাউথ ওয়াশ হিসেবে উপকারী।

৬. তরমুজ : সব ধরনের তরমুজ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। প্রিয়নবী (সা:) তরমুজ আহার কে গুরুত্ব দিতেন। যেসব গর্ভবর্তী মায়েরা তরমুজ আহার করেন তাদের সন্তান প্রসব সহজ হয়। তরমুজের পুষ্টি, খাদ্য ও ভেষজগুণ এখন সর্বজনবিদিত ও বৈজ্ঞানিক সত্য।

৭. দুধ : দুধের খাদ্যগুণ, পুষ্টিগুণ ও ভেষজগুণ বর্ণনাতীত। আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে বিজ্ঞান যখন অন্ধকারে তখন প্রিয়নবী (সা:) দুধ সম্পর্কে বলেন, দুধ হার্টের জন্য ভালো। দুধ পানে মেরুদ- সবল হয়, মস্তিষ্ক সুগঠিত হয় এবং দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়। আজকের বিজ্ঞানিরাও দুধকে আদর্শ খাবার হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং এর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি অস্থিগঠনে সহায়ক।

৮. মাশরুম : আজ বিশ্ব জুড়ে মাশরুম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার এবং মাশরুম নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। অথচ দেড় হাজার বছর আগে প্রিয়নবী (সা:) জানতেন মাশরুম চোখের জন্য ভালো। এটা বার্থ কন্ট্রোলে সহায়ক ও মাশরুমের ভেষজগুণের কারণে এটা নার্ভ শক্ত করে এবং শরীরের প্যারালাইসিস বা অকেজো হওয়ার প্রক্রিয়া রোধ করে।

৯. জলপাই তেল : অলিভ অয়েলের খাদ্য ও পুষ্টিগুণ অনেক। গবেষণায় দেখা গেছে অলিভ অয়েল ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী এবং বয়স ধরে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক বা বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে। এছাড়া অলিভ অয়েল পাকস্থলীর প্রদাহ নিরাময়ে সহায়ক।

১০. ডালিম-বেদানা : বেদানার পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণের পাশাপাশি এটার ধর্মীয় একটি দিক আছে। প্রিয় নবী (সা:) বলেছেন, এটা আহারকারীদের শয়তান ও মন্দ চিন্তা থেকে বিরত রাখে।

১১. ভিনেগার : ভিনেগারের ভেষজ গুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। প্রিয়নবী (সা:) অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ভিনেগার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আজকের এই মর্ডান ও বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব সাফল্যের যুগে বিশ্বের বড় বড় নামি-দামি রেস্টুরেন্টে বিশেষ করে এলিট ইটালিয়ান রেস্টুরেন্টে অভিল অয়েল ও ভিনেগার এক সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।

১২. খাবার পানি : পানির অপর নাম জীবন। পানির ভেষজগুণ অপরিসীম। প্রিয় নবী (সা:) পানিকে পৃথিবীর সেরা ড্রিংক বা পানীয় হিসাবে উল্লেখ করেছেন। সৌন্দর্য চর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আজ প্রচুর পানি পান করতে বলেন।

বিনামূল্যে কোরআন বিতরণ করেন এই জার্মান তরুণী

পবিত্র কোরআন মুসলমানদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ। ইসলাম ধর্ম মতে এটি আল্লাহর বাণী। ইসলামী ইতিহাস অনুসারে দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে খণ্ড খণ্ড অংশে হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর নিকট অবতীর্ণ হয় পবিত্র কুরআন। যুগে যুগে মনীষীরা ইসলামের সেবা করে যাচ্ছেন।

জার্মানির রাজধানী বার্লিনের একটি হোটেলের সামনে অনেক দিন ধরে বিনামূল্যে কোরআন বিতরণ করছিলেন জোহরা নামের একজন মুসলিম তরুণী। জার্মানির কয়েকটি ফেসবুকে পেজে এ ছবিটি শেয়ার করার পর ভাইরাল হয়ে যায়।

জামানির ইউনিসিও নামের একটি ফেসবুক পেজ জানায়। তিনি প্রতি সপ্তাহের একদিন কোরআন বিতরণ করতে জার্মানির এ হোটেলটির সামনে আসেন। বিনামূল্যে কুরআন বিতরণ করেন।

জার্মানির ১৬টি রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে মেডিয়েনডিনস্ট ইন্টেগ্রাৎসিয়ন। তাদের তথ্য অনুযায়ী ৮০০ স্কুলে ৫৪ হাজার শিক্ষার্থী স্কুলে ইসলাম ধর্ম পড়ছে।

দু’বছর আগে যেখানে ৪২ হাজার শিক্ষার্থী এ সুযোগ পেত, সেই তুলনায় ১২ হাজার অন্তত বেড়েছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেছে মেডিয়েনডিনস্ট ইন্টেগ্রাৎসিয়ন। তবে তারা মনে করে, আরো অন্তত দশগুণ শিক্ষার্থী আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও স্কুলে ইসলাম ধর্ম পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না৷

প্রথমত, ইসলাম ধর্ম পড়ানোর মতো শিক্ষক প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। আবার কোনো শ্রেণিতে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী ধর্মীয় এ বিষয়টি পড়তে আগ্রহী না হলে এবং সেই আগ্রহের কথা তারা লিখিত ভাবে না জানালে কোনো স্কুলের এ বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার সুযোগও নেই৷