মানবদেহের যেসব রোগ প্রতিরোধ করে পেয়ারা

369

পেয়ারা একটি ‘বিস্ময়কর’ মৌসুমি ফল। মানবদেহের নানা জটিল রোগ নিরাময়ে পেয়ারা দারুণ কার্যকর। পেয়ারাতে ভিটামিন ‘এ’ এবং ফলিক অ্যাসিড থাকার কারণে চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় এবং চোখের ছানিপড়া রোধ করে।

ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, কোষ্ঠকাঠিন্য, গর্ভবতী নারীদের সুস্থতা, চোখের দৃষ্টি শক্তি জনিত রোগ প্রভৃতির ক্ষেত্রে সরাসরি কাজ করে এ ফল।

এ ছাড়াও দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে পেয়ারা। এটি মোটামুটি সর্বগুণসম্পন্ন ফল। পেয়ারার ইংরেজি নাম Common Guava এবং বৈজ্ঞানিক নাম Psidium guajava।

যেসব রোগ প্রতিরোধে কাজ করে পেয়ারা :

১. হাই ব্লা’ড-প্রেশার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অনেক দিন ধরে মেনস্ট্রুয়েসনের সমস্যায়ও পেয়ারা উপকারী।

২. র’ক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে সাহায্য করে। হার্টের সমস্যা থাকলে পেয়ারা খেতে পারেন। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এটি কার্যকর। পেয়ারায় থাকা ভিটামিন ‘সি’ সক্রিয় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে এবং হার্টের অসুখ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। র’ক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়।

৩. অ্যাজমা, স্কার্ভি, ওবিসিটি ইত্যাদি অসুখের ক্ষেত্রেও বেশ পেয়ারা উপকারী। ডায়াবেটিস তো বটেই, ক্যান্সার এমন কি প্রস্টেট ক্যান্সারের মতো রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে পেয়ারা। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবারসমৃদ্ধ পেয়ারা ব্লা’ড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৪. পেয়ারা পাতার জুস গ্যাস্ট্রোনটেস্টিনাল সমস্যায় উপকারী। কারণ, পেয়ারা পাতায় রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এ ছাড়া পেয়ারা পাতা ওজন কমাতে সাহায্য করে। পেয়ারা পাতার জুস সর্দি-কাশি উপশমে সাহায্য করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পেয়ারা ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রুখতে সাহায্য করে।

একই কারণে অনেক বডি লোশন বা ফেস ক্রিমের উপাদানে পেয়ারা থাকে। বয়সের সঙ্গে জড়িত নানা রোগ, যেমন—অ্যালজাইমার, ছানি, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও ডিসেন্ট্রি প্রতিরোধ করে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানে সমৃদ্ধ পেয়ারা।

শীতে বাড়ে অ্যাসিডিটি, জেনে রাখুন ঘরোয়া সমাধান

শীতের সময়টায় অন্য রোগের মতোই অ্যাসিডিটির সমস্যাও বেড়ে যায় অনেকের। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শীতে অ্যাসিডিটি সমস্যার কারণ পানি কম পান করা।

অ্যাসিডিটি হলে আমরা অনেকেই একটি ওষুধ খেয়ে নেই, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই। কিন্তু ঘরোয়া উপায়ে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া যায় এই বিরক্তিকর অ্যাসিডিটি থেকে। কী ভাবে, জেনে নিন:

১- পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, ২- আখের গুড়ের সঙ্গে গোল মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে খেলে বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়,

৩- গোল মরিচের গুঁড়া, আদা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া এবং সমান পরিমাণ শুকনো পুদিনা পাতা একসঙ্গে মিশিয়ে দিনে দু’বার দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পান করুন, ৪- খাওয়ার পরে আমলকী ও হরীতকীর রস নিয়মিত পান করলে এর যাদুকরী ফল পাবেন খুব দ্রুত।

কারণ এটা খেলে অ্যাসিডিটি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, ৫- তুলসী ও আমলকীর রস অম্লতা দূর করতে খুবই কার্যকর। প্রতিদিন খাওয়ার আগে আধা কাপ এই রস পান করুন,

৬- প্রতিদিন সকালে দুই কোয়া রসুন বা তিনটি লবঙ্গ চিবিয়ে খান, ভুলেই যাবেন কখনো অ্যাসিডিটির সমস্যা ছিল, ৭- অর্ধেকটা পাকা টমেটো নিয়মিত খেলে এই কষ্ট থেকে আমাদের মুক্তি দেবে, ৮- পাকা পেঁপে অম্লতা দূর করতে খুবই সহায়ক, ৯- নিয়মিত দই খেলে অ্যাসিডিটি দূর হয়।

এই উপকরণগুলো প্রায় সবসময়ই আমাদের ঘরে থাকে। তাই অ্যাসিডিটি হলে ঘরোয়া ভাবেই সমাধান করুন। তবে সমস্যা দীর্ঘ দিন থাকলে অবহেলা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।