যুবকের শেষ ইচ্ছা ছিল হজ পালন ও মদিনা জিয়ারত : অবশেষে মদিনায় মৃ”ত্যু

933

যুবকের শেষ ইচ্ছা- মালয়েশিয়ান যুবক ২০ বছর বয়সী মোহাম্মদ রামাদান আলী। ম”র”ণ”ব্যা”ধি লিউকেমিয়ায় (leukemia) চূড়ান্ত পর্যায়ে আ”ক্রা”ন্ত। ডাক্তার তার বেঁচে থাকার ব্যাপারে কোনো আশ্বাস দেয়নি। বরং এক মাসের মধ্যেই তার মৃ”ত্যু হবে বলে জানায়। মোহাম্মদ রামাধান আলীর শেষ ইচ্ছা হলো দুই পবিত্র ভূমি মক্কায় ওমরা পালন এবং মদিনা মুনাওয়ারা জিয়ারত করা।

শেষ ইচ্ছা মোতাবেক সে প্রথমেই পবিত্র নগরী মদিনা মুনাওয়ারায় যায়। সেখান থেকেই পবিত্র নগরী মক্কায় ওমরা পালনে যাওয়ার কথা। অপ্র’ত্যাশিতভাবে সে মদিনার আল-আনসার হসপিটালে ভর্তি অবস্থা’য় ই’ন্তে’কাল করেন। (ইনা লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) তাঁকে মসজিদে নববির পাশে জান্নাতুল বাকিতে দা”ফ”ন করা হয়।

মোহাম্মদ রামাধানের মৃ”ত্যু প্র’তিক্রি’য়ায় তাঁর বোন মালয়েশিয়ার ‘দ্যা স্টার’কে জানায়, ‘তার পরিবার ভাইয়ের মৃ”ত্যু সংবাদ শুনে ম’নো’ক্ষু’ন্ন হয়েছে।

কিন্তু এ কথা ভেবে খুশি যে, তার ভাই পবিত্র নগরী মদিনার মসজিদে নববির পাশে জান্নাতুল বাকিতে সমাহি’ত হয়েছেন।

আরো জানা যায়, মোহাম্মাদ রামাধান আলীর পিতা পবিত্র মক্কায় ছেলের ওমরা আদায় করতে যাবেন এবং মদিনা মুনাওয়ারার জান্নাতুল বাকিতে সমাহিত সন্তানের কবর জিয়ারত করবেন।

এ এক অসাধারণ মৃ”ত্যু। নিশ্চি’ত মৃ”ত্যু জেনেও মোহাম্মাদ রামাধান ওমরা পালন এবং মদিনা জিয়ারতে উ’দগ্রী’ব ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হজ-ওমরা ও মদিনা যিয়ারত করার তাওফিক দান করুন। উত্তম মৃ’ত্যু দান করুন। আমিন।

স্পেনের টেনেরিফ দ্বীপে মসজিদ বানালেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা…

টেনেরিফ দ্বীপ আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত এবং স্পেনের অন্যতম সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি এলাকা। এবং প্রবাসী বাংলাদেশি দের প্রয়াসে এই নয়নাভিরাম দ্বীপে একটি মসজিদ নির্মিত হয়েছে।

দ্বীপ টিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি মসজিদ ও ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার। অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি দের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে টেনরিফ দ্বীপের ‘আস-সুন্নাহ মসজিদ’।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা ও নিজেদের মিলন কেন্দ্র হিসেবে এ কমিউনিটি সেন্টার ও মসজিদ ব্যবস্থা অনেকের সহ যোগিতায় প্রতিষ্ঠা করেছে। আটলান্টিকের তীরে বাংলাদেশি মসজিদ নামে খ্যাত এটি।

স্পেনের এ টেনরিফ দ্বীপে বাংলাদেশি দের সংখ্যা ইউরোপের অন্যান্য স্থানের তুলনায় অনেক কম। মাত্র ৬’শ বাংলাদেশি এ দ্বীপে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

স্পেনের একটি অন্যতম সুন্দর টেনরিফ দ্বীপ। দ্বীপটি ঘিরে আছে সমুদ্র আর উঁচু উঁচু পাহাড়। পাহাড়ের মাঝে বয়ে চলেছে উঁচু-নিচু সুন্দর রাস্তা। দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের পাহাড়ি বনাঞ্চলের সঙ্গে সাদৃশ্য কলা বাগানে সজ্জিত। এ দ্বীপে পা দিলেই মনে হবে এ যেন বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা।

প্রবাসী বাংলাদেশি রা তাদের নিজেদের জন্য অনেকের সহযোগিতায় এ মসজিদ টি গড়ে তুলেছেন। যেখানে বাংলাদেশি রা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা ও নামাজ আদায় করে থাকেন। পবিত্র জুমার নামাজ সহ ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহা নামাজও আদায় করেন মুসল্লিরা।

আস-সুন্নাহ মসজিদের সেক্রেটারি জাকির হোসেনের ভাষায়, ‘মসজিদে আসলে মনে হয় যেন বাংলাদেশেই অবস্থান করছি। নামাজের সময় প্রবাসী বাংলাদেশি রা নামাজ পড়তে আসে।

উল্লেখ্য যে, স্পেনেরে সাজানো গোছানো সাগর-পাহাড় বেষ্টিত এ টেনরিফ দ্বীপে মোট জন সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার। যেখানে মাত্র ৬০০ প্রবাসী মুসলিম পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। এ পরিবার গুলোর মিলন স্থল হলো টেনরিফের আস-সুন্নাহ মসজিদ।