যেসব লক্ষণসমূহ জানা থাকলে ব্রেইন স্ট্রোকে মৃ’ত্যু থেকে বাঁচা সম্ভব

572

স্ট্রোক আমাদের অতি পরিচিত ব্যাধি। তার মধ্যে ব্রেইন স্ট্রোক এখন একটা মা’রা’ত্মক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট-বড় সবারই এখন এটা হচ্ছে। তবে ব্রেইন স্ট্রোকে দিন দিন মৃ’ত্যু’র সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা খুবই বিপদজনক ব্যাপার। প্রথমেই যদি একটু সতর্ক হওয়া যায় তবে ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁ’কি এবং মৃ’ত্যু থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে কোন অংশে র’ক্ত সরবরাহ বাধাপ্রাপ্ত হলে বা বন্ধ হলে মস্তিষ্কের কলাগুলো প্রয়োজন অনুসারে অক্সিজেন বা শর্করার সরবরাহ পায় না। একেই স্ট্রোক (Stroke) বলে।

যদিও মস্তিষ্ক সামান্য পরিমাণে র’ক্ত ব্যবহার করে থাকে, কিন্তু মস্তিষ্কের কোষসমূহ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অক্সিজেন ও শর্করা সরবরাহে সমস্যা হলেই কিছুক্ষণের মধ্যেই এই কোষগুলো ম’রতে শুরু করে। আবার মস্তিষ্কের ওই কোষগুলো শরীরের যে অংশ নিয়ন্ত্রণ করত ওই অংশ প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারে।

আসুন জেনে নেই ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষণসমূহ-

মুখমণ্ডলের এক পাশ ঝুলে পড়া-

স্ট্রোকের প্রধান ও প্রথম লক্ষণ রোগীর মুখমণ্ডলে ধরা পড়ে। মুখের বাম পাশের মাংস পেশি ঝুলে পড়ে। যার ওপর রোগীর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। লক্ষণটি ভালো করে বুঝতে হলে রোগীকে হাসতে বলুন। তিনি যদি না হাসতে পারেন তবে যত দ্রুত সম্ভব তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

তীব্র মাথা ব্যথা-

স্ট্রোকের আগে রোগীরা তীব্র মাথা ব্যথার শিকার হয়ে থাকেন। তীব্র মাথা ব্যথা অনেক কারণেই হতে পারে। অনেকের মাইগ্রেন আছে। তীব্র মাথা ব্যথা মাইগ্রেনেও হয়। কিন্তু যদি হঠাৎ করে কোন ধরনের কারণ ছাড়াই মাথার বাম অংশে তীব্র ব্যথা শুরু হয় তবে অবহেলা করবেন না। দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

কথা জড়িয়ে যাওয়া-

মস্তিষ্কে র’ক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেলে বা খুব কমে গেলে স্ট্রোক হয়। স্ট্রোকের আগে কথা জড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে লক্ষণটি ধরা পড়ে।

যদি কেউ কথা বলতে বলতে হঠাৎ অস্পষ্ট কথা কিংবা জড়িয়ে যাওয়া গলায় কথা বলতে থাকেন তবে অবশ্যই তা লক্ষণীয়। রোগীকে দিয়ে কথা বলানোর চেষ্টা করে দেখুন। যদি আসলেই জড়ানো কথা হয় তবে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করুন।

হাতে দুর্বলতা অনুভব-

অনেক সময় আমরা হাতের দুর্বলতা অনুভবকে পাত্তা দিই না। কিন্তু এটা হতে পারে স্ট্রোকের লক্ষণ। স্ট্রোক করার আগে রোগী দুই হাতে অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করেন।

রোগীকে সাথে সাথে হাত মাথার উপরে তুলে ধরতে বলুন। যদি রোগী বলেন তিনি হাত তুলতে পারছেন না। কিংবা যদি লক্ষ্য করেন হাত ছেড়ে দিচ্ছেন তবে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নেবার ব্যবস্থা করুন।

শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকা-

মস্তিষ্কে র’ক্ত সঞ্চালনের বাঁধা পাবার ফলে শরীরের সাধারণ কাজ করার ক্ষমতা ব্যাহত হয়। ফলে হাত পা কিংবা অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর স্ট্রোকের রোগীরা নিয়ন্ত্রণ হারান। রোগীকে উঠে দাড়াতে বলুন।

স্ট্রোকের লক্ষণ হিসেবে তিনি উঠে দাঁড়াতে পারবেন না। সুতরাং স্ট্রোক অবশ্যম্ভাবী। তাকে সঙ্গে সঙ্গে হসপিটালাইজড করতে হবে।

শর্ট মেমোরি লস-

স্ট্রোকের আগে রোগীরা তাদের আপনজনকেও চিনতে পারেন না এমনকি নিজের নাম পর্যন্ত ভুলে যান। ডাক্তারদের ভাষায় একে শর্ট মেমোরি লস বলে থাকেন। রোগীকে তার নিজের নাম জিজ্ঞেস করুন। তার পরিবারের লোকজনকে চিনতে পারেন কিনা তা দেখুন। তা না হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন।