যে কারণে আমাদের শরীরে রোদ লাগানো খুব জরুরি

398

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে – আমাদের শরীরে সব রকম ভিটামিনেরই প্রয়োজন রয়েছে। ভিটামিন ডি এর অভাব হলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। অনেকে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণের জন্য ওষুধ খেয়ে থাকেন।

তবে ওষুধের বদলে প্রাকৃতিক উপায়ে ভিটামিন ডি গ্রহণ করতে পারলে তা সবচেয়ে ভালো। আর এই প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি গ্রহণের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো শরীরে রোদ লাগানো।

হাড় মজবুত রাখতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিনের অপরিহার্য প্রাকৃতিক উৎস সূর্যের আলো। ভিটামিন ডি শরীরে উপস্থিত থাকলেই শরীর ক্যালসিয়াম শোষণ করে। শরীরে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার জন্য এই সময়ের চেয়ে ভালো সময় আর আর কিছু হতে পারে না। এই সময়ে আপনি প্রচুর ভিটামিন ডি গ্রহণ করতে পারেন রোদে বসে।

সূর্যের আলোর মাধ্যমে আপনি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারেন। এটি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করতে পারে। সূর্যের আলো গ্রহণের কারণে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাব্লুবিসি ব্যবহার করা, যা রোগজনিত কারণগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাজ করে।

এমন কিছু উপাদান সূর্যের রশ্মিতে উপস্থিত থাকে যা শরীরকে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে।

আপনার যদি কফের সমস্যা থাকে তাহলে আপনি রোদের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

রোদ পোয়ালে আপনার হজমে উন্নতি হবে। নিয়মিত খোলা রোদে কিছুক্ষণ নিজেকে মেলে ধরতে পারলে হজমক্ষমতা বাড়বে।

সকালের রোদ পোহালে ত্বকের অনেক উপকার হয়। র’ক্ত ও ছত্রাকের সমস্যা দূর হয়, একজিমা, সোরিয়াসিস এবং ত্বকের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও অনেক রোগ দূর হয়। এটি ব্লাড প্রেসার কমাতেও সাহায্য করে।

শরীরে রোদ লাগানোর কারণে ঘুম না আসার সমস্যাও কমে। সূর্যের আলো আমাদের পিনিয়ল গ্রন্থিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই গ্রন্থি শরীরে মেলাটোনিন নামের একটি হরমোন তৈরি করে। এরকম একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট মেলাটোনিন আমাদের ঘুমের পরিমাণ বাড়ায় এবং অবসাদ কমায়।

অতিরিক্ত সূর্যের সংস্পর্শে পিগমেন্টেশন, ত্বকের অ্যালার্জি, ত্বকের ক্যান্সার, বার্ধক্যজনিত প্রভাব, কালোভাব, ডিহাইড্রেশন, চোখের সমস্যার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। মেলানিন, হিমোগ্লোবিন এবং কেরোটিনের মতো নির্দিষ্ট কিছু উপাদান রয়েছে যা দেহে ত্বকের রঙ নির্ধারণ করে।

অতিরিক্ত সূর্যের আলোতে, ক্রমাগত এক্সপোজারের কারণে, কিছু লোকের শরীরে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে চামড়ায় ট্যান ধরে। তাই অতিরিক্ত সময় রোদে থাকবেন না।

এছাড়া সূর্যের আলো যে কারনে বাচ্চাদের জন্য উপকারিঃ

১.নবজাতক দের দেহে ভিটামিন ডি প্রয়োজন হয়,যা হাড্ডি এবং দাত গঠনে সহায়তা করে থাকে।এর প্রাকৃতিক মূল উৎস হচ্ছে সূর্যের আলোর UV(আল্ট্রাভায়োলেট) রশ্মি।যা ক্যালসিয়াম শোষন করতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।

২.প্রত্যহ সৃর্যের আলোতে নবজাতকের ইমিউনিটি তৈরিতে ভাল কাজ করে। সেক্ষেত্রে শিশুদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

২.প্রত্যক দিনে রোদে নিলে বাচ্চাদের সেরোটোনিন  নামক হরমোন বেশি নিঃসৃত   হয়,ফলে বাচ্চারা পর্যাপ্ত ঘুমায়।এতে করে বৃধি ভালো হয় এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়।

৩.প্রত্যহ সৃর্যের আলোর UV  রশ্মি শিশুদের স্নায়ুতন্ত্র গঠনে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।ব্রেইনের ডেভেলপমেন্ট সহায়তা করে থাকে।

৪.আরেকটা মজার বিষয় হলো শিশু জন্মের সাথে সাথে দেহ  হলুদবর্ণের দেখা যায়।এর মানে হচ্ছে শিশুদের শরীরে তখন বেশি পরিমাণে বিলিরুবিন থাকে,কারণ তখন লিভার তার সম্পূর্ন সক্ষমতায় থাকে না ,ফলে বিলিরুবিন এর মাত্রা বেশি থাকে।সেক্ষেত্রে নিয়মিত রোদে এ নিলে বিলিরুবিনের পরিমাণ কমে যায়।ফলে
জন্ডিস কমাতে সহায়তা করে।

৫.সানলাইট এক্সপোসার  এ শিশুদের মেলাটোনিন নামক হরমোন নিংসৃত হয়।ফলে বাচ্চাদের স্লিপ প্যাটার্ন  ঠিক থাকে।ঘুম নিয়ে বাবা মায়ের দুশ্চিন্তা আর থাকে না

৬.আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কারন  হচ্ছে সানলাইট এক্সপোসার এ বাচ্চাদের দের রক্তজমাট বাধার ফ্যাক্টর মেইন্টেইন হয় ভিটামিন K দ্বারা।এক্ষেত্রে শিশুদের কোন ইঞ্জুরি হলে দ্রুত রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তঝরাবন্ধ হয়।দ্রুত ঘাঁ শুকাতে সহায়তা করে।

৭.রোদের আলোর এর আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কারন হচ্ছে এটি বডি ইনসুলিন রেগুলেশন   করে,ভিটামিন ডি এর সহায়তার মাধ্যমে।