যে ৫ অভ্যাস লিভারের জন্য মা’রা’ত্মক ক্ষ’তিকর…

209

যকৃত বা লিভার আমাদের শরীর থেকে টক্সিনগুলো বের করে দেয়। লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে একের পর এক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বি’ক’ল হতে শুরু করে। লিভারের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ন’ষ্ট হলে শরীরে জমে যাওয়া টক্সিন শরীরেই থেকে যাবে। এর ফলে শরীরের একের পর এক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বি’ক’ল হতে শুরু করবে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে লিভার সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরী।

কিন্তু অজান্তেই বেশ কয়েকটি অভ্যাস আমাদের লিভারের মা’রা’ত্ম’ক ক্ষ’তি করে চলেছে। সময় মতো সতর্ত না হলে, অকালেই লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৫টি অভ্যাসের কথা, যেগুলি আমাদের অজান্তেই লিভারের মা’রা’ত্ম’ক ক্ষ’তি করে চলেছে-

১) সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দীর্ঘ ক্ষণ খাবার না খেয়ে থাকার অভ্যাসও লিভারের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষ’তি’কর! দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চলতে থাকলে লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে।

২) অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে যাওয়ার পরও আলস্য করে পায়খানা-প্রস্রাবের চেপে রেখেই শুয়ে থাকেন। এই অভ্যাসও লিভারের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষ’তি’কর। দীর্ঘ দিন ধরে এই অনিয়ম চলতে থাকলে লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতাও হারায়।

৩) দেরি করে ঘুমোতে যাওয়া এবং দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা- দু’টোই লিভারের পক্ষে ক্ষ’তি’কর। এই অভ্যাসের ফলে হজমের নানা স’ম’স্যা’সহ শরীরের একাধিক স’ম’স্যা সৃষ্টি হয়। এর মা’রা’ত্ম’ক ক্ষ’তি’কর প্রভাব পড়ে লিভারের উপরে।

৪) মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসও লিভারের পক্ষে ক্ষ’তি’কর। কোনও পদ খুব পছন্দ হয়েছে বলে অনেকেই দৈনন্দিনের তুলনায় অনেকটাই বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলেন। এর ফলে হঠাৎ করে লিভারের উপরে বেশি চাপ পড়ে এবং লিভার ক্ষ’তি’গ্র’স্ত হয় তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা।

৫) মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে ওষুধ খেলে লিভার ন’ষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত পরিমাণে ব্য’থা কমানোর ওষুধ খেলে লিভারের কর্মক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পায়। এ ছাড়াও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় লিভার ক্ষ’তি’গ্র’স্ত হয়।

দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরের যেসব ক্ষ’তি হয়…

পৃথিবীর গঠনের মতোই আমাদের দেহের শারীরিক গঠন। আমাদের দেহের শতকরা ৬০ ভাগ পানি দ্বারা গঠিত। দেহের সব জৈবিক ক্রিয়া সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনের জন্য পানিপান অপরিহার্য, এবং তা অবশ্যই জীবাণুমুক্ত। পানি কেবল তৃষ্ণাই মেটায় না, শরীরে পানির ভারসাম্যও ঠিক রাখে।

শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী কতটা পানি কোন কোন কাজে ব্যবহৃত হবে তার মাত্রাও ঠিক হয়। মানুষের জীবনে পানির বিকল্প নেই। পানি কিডনির মাধ্যমে শরীরের সব ক্ষ’তি’কারক উপাদান দূর করে দেয়। তবে পানি পান করার নিয়মও আছে।

চিকিৎসকদের মতে, দাঁড়িয়ে পানি পান করার চেয়ে বসে পানি পান করা অনেক বেশি স্বাস্থ্য সম্মত। শরীরের পেশি, হাড়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবস্থান, সব কিছুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পান করতে হবে পানি। র’ক্ত’চা’প, স্নায়বিক ক্রিয়াকলাপ, কিডনির কার্যকারিতা ইত্যাদি নানা দিক খতিয়ে দেখে, বসে পানি পানেরই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

চলুন জেনে নিই দাঁড়িয়ে পানি পান করলে যেসব ক্ষ’তি হতে পারে-

১. যখন দাঁড়িয়ে পানি পান করেন তখন পানি সরাসরি পাকস্থলিতে চলে যায়। তারপর খুব দ্রুতই প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। এর মাধ্যমে কিডনির ক্ষ’তি হতে পারে।

২. দাঁড়িয়ে পানি পান করলে আপনার শরীরের জয়েন্টে ব্য’থা হতে পারে।

৩. এই অভ্যাসটি শরীরের অক্সিজেন সরবরাহকে বাধা দেয়। এতে করে ফুসফুসের ক্ষ’তি হতে পারে।

৪. দাঁড়িয়ে পানি খেলে নার্ভে প্র’দা’হ বেড়ে যায়। ফলে কোনো কারণ ছাড়াই দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে।

৫. ব’দ’হ’জমের স’ম’স্যা হয়।

৬. এসিড লেভেলে তারতম্য ঘটে দাঁড়িয়ে পানি খেলে। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পানি খেলে শরীরে ক্ষ’র’ণ হতে থাকা অ্যা’সি’ডকে তরল করতে পারে না। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই নানাবিধ স’ম’স্যা দেখা দেয়।

৭. এ অভ্যাসটির জন্য আর্থ্রাইটিসে আ’ক্রা’ন্ত হতে সময় লাগে না।

করণীয়: দাঁড়িয়ে পানি খাওয়ার খা’রা’প দিককে অনেকে সেভাবে পাত্তা দেন না। কিন্তু এটি সার্বিক ক্ষ’তি’ই করে। রাস্তা-ঘাটে সব সময় বসে পানি খাওয়ার উপায় থাকে না। তাই সময় কেবল তেষ্টা মেটার মতোই পানি পান করুন। পরে বসে পানি পান করার সুযোগ এলে ভালো ভাবে পান করুন।

পানি পানের নিয়ম: শরীর অনুযায়ী পানির প্রয়োজন বাড়ে-কমে। নিজের শরীরে কতটুকু পানি প্রয়োজন তা জেনে নিন চিকিৎসকের কাছ থেকে। এক জায়গায় বসে ছোট ছোট চুমুকে ধীরে সুস্থে পানি খান। পানি পান করার সময় কথা বলার চেষ্টা বা হাঁপাতে হাঁপাতে পানি পান করলে তা যে কোনো সময় শ্বাসনালীতে গিয়ে বড় বিপদ ঘটাতে পারে। তাই এড়িয়ে চলুন সেসব।