
করোনা ভা’ইরাসহ বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ রোধে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায় কীভাবে ? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে।



ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অনেকেই নিয়মিত ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট নেন।
তবে শাক-সবজি-ফল থেকে যদি সেই ভিটামিন নিতে পারেন তা হলে তা কাজ করবে দ্বিগুণ।
করোনা সং’ক্র’ম’ণ রোধে খেতে পারেন ৫ সবজি। নিয়মিত এগুলো ডায়েটে থাকলে ভিটামিন সিতে ভরপুর থাকবেন আপনি। আর রোগবা্লাই কাছেও ঘেঁষবে না।
৫ ধরনের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার-
বেল পেপার-
মাত্র প্রতিদিন আধ কাপ বেল পেপার আপনাকে দেবে ১০০ শতাংশ ভিটামিন সি। রান্নায় দিলে স্বাদও বাড়ে। শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হয়।



পেঁপে-
পুষ্টিকর ফল পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি । পেঁপের মধ্যে থাকা ‘প্যাপাইন’ এনজাইম হজমক্ষমতা বাড়ায় ও ভিটামিন সি’র ঘাটতি মেটায়।
ব্রকলি-
ব্রকলি হৃদরোগীদের জন্য খুবই উপকারি সবজি। ভিটামিন সি ছাড়াও এতে আছে ভিটামিন কে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আধ কাপ ব্রকলি প্রতিদিন খেলে ভিটামিন সি’র প্রয়োজন পূরণ হবে ৬০ শতাংশ।
ফুলকপি-
ফুলকপি ভিটামিন সি’র অভাব পূরণ করে প্রায় ৭৭ শতাংশ। এখন প্রায় সারা বছরই মেলে এই সবজি। তাই নিশ্চিন্তে খেতে পারেন ফুলকপি। গ্যাসের সমস্যা থাকলে হালকা ভাপিয়ে সেই পানি ফেলে দিয়ে রান্না করে খেলে কোনও সমস্যা হবে না।



পালং শাক-
পালং শাকের উপকারিতা অনেক। সবুজ পাতাওয়ালা এই শাক রয়েছে ভিটামিন সি পূরণের ২০০ শতাংশ ক্ষমতা।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি…
ইফতারে খেজুরের কেন এত কদর?
খেজুর আমরা খেয়ে থাকলে এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। খেজুর সং’ক্র’ম’ণ রোগসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন ইফতারে পাতে রাখুন খেজুর।
ইফতারে কেন খেজুর খাবেন ? তা আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অবলম্বনে আসুন জেনে নিই-



সুস্বাদু আর বেশ পরিচিত একটি ফল। যা ফ্রুকটোজ এবং গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ। এটা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়। খেজুর ফলকে চিনির বিকল্প হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।
চারটি বা ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেজুরে আছে ৯০ ক্যালোরি, এক গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মি.লি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ গ্রাম ফাইবার এবং আরও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান।
খেজুর শক্তির একটি ভালো উৎস। তাই খেজুর খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরের ক্লান্তিভাব দূর হয়। আছে প্রচুর ভিটামিন বি; যা ভিটামিন বিসিক্স মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।



যেসব রোগ প্রতিরোধ করে খেজুর-
১. যকৃতের সংক্রমণ, গলাব্যথা, জ্বর, সর্দি ও ঠাণ্ডায় খেজুর খুবই উপকারি। এ ছাড়া অন্ত্রের কৃমি ও ক্ষতিকারক পরজীবী প্রতিরোধে খেজুর বেশ সহায়ক। অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে।
২. খেজুরে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।এছাড়া হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ খেজুর।
৩. খেজুর খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। ফাইবার সমৃদ্ধ খেজুর নিয়মিত খেলে দূর হয় হজমের সমস্যা।
৪. পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও প্রাকৃতিক আঁশে পূর্ণ খেজুর ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। তাই যারা নিয়মিত খেজুর খান, তাদের বেলায় ক্যান্সারের ঝুঁকিটাও অনেক কম থাকে।



৫. খেজুরে থাকা আয়রন ও ফাইবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। প্রচুর পটাসিয়াম পাওয়া যায় খেজুর থেকে। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৬. মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায় খেজুর। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য খেজুর খুবই উপকারী। এটি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। গ্লুকোজের পাশাপাশি প্রাকৃতিক চিনি পাওয়া যায় খেজুর থেকে যা এনার্জি বাড়ায়। খেজুরে থাকা ভিটামিন সি ও ডি ত্বক ভালো রাখে। এছাড়া খেজুর দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে রাতকানা প্রতিরোধেও সহায়ক।
৭. খেজুর বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য সমৃদ্ধ এক খাবার, যা মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ আরও বাড়িয়ে দেয় এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে সহায়ক।
তাই শুধু রমজান মাসে কেন? বছর জুড়েই খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন খেজুর।