শুধু চুল পড়া রোধ নয় বরং চুল সতেজও হবে একটি উপাদানেই

99

চুল পড়া আমাদের প্রত্যেকেরই দৈনন্দিনের সমস্যা। এ সমস্যা এড়াতে ডাক্তার-কবিরাজ থেকে শুরু করে এমন কোনো দাওয়ায় থাকে না, সেখানে ধন্না দেয় না মানুষ।

তবে, চুল পড়া রোধে খুবই সহজ ও কার্যকরী একটি সমাধান রয়েছে। আর তা হচ্ছে প্রোটিন ট্রিটমেন্ট। আর এই প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করতে প্রয়োজন হবে শুধুমাত্র একটি উপাদান। আর এটি হচ্ছে পুষ্টিকর ডিম। যদি কম সময়ে ফল পেতে চান, তবে ডিম ব্যবহারই সবচেয়ে ভালো উপায়।

ডিম হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রোটিন, যা চুলকে ঘন করতে সাহায্য করে। এর ভিটামিন চুলের গোড়ায় পৌঁছে পুষ্টি যোগায়, চুলের স্বাস্থ্য ফিরিয়ে দিতে চমৎকার কাজ করে। এছাড়া এটি চুল পড়া রোধেও জাদুর মতো কাজ করে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক চুল পড়া রোধে কীভাবে এই সহজ উপাদানটি ব্যবহার করবেন-

তৈরি ও ব্যবহার পদ্ধতি : একটি ডিমের সাদা অংশ নিয়ে ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিন। তারপর পরিষ্কার চুলে সরাসরি হাত অথবা ব্রাশের সাহায্যে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত লাগান। চুলে ডিমের সাদা অংশ লাগানোর পর একটি মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন।

তারপর রেখে দিন আধা ঘণ্টা। এবার নরমাল পানিতে চুল ধুয়ে নিন এবং শ্যাম্পু করুন। সপ্তাহে একবার প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করুন, আর প্রথমবার থেকেই অনুভব করুন চুলে কেমন সুন্দর বাউন্স চলে এসেছে।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে যেসব খাবার

গৃহবন্দী থাকাকালীন চোখ দুটোর উপর ধকল গেছে ভালোই। ল্যাপটপ, টেলিভিশন কিংবা মুঠোফোনের স্ক্রিনেই কেটেছে সময়। খাদ্য তালিকায় রাখুন এমন কিছু খাবার যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

গাজর-প্রায় সব কমলা রঙের সবজি ও ফলে বিটা-ক্যারোটিন থাকে। এই বিটা-ক্যারোটিন অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা ছানি পড়া, বয়সের কারণে চোখের জ্যোতি কমে যাওয়ার সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাছাড়া গাজরে রয়েছে ফাইবার ও পটাশিয়াম। এ দুটি উপাদানও শরীরের জন্য ভালো।

পালং শাক-পালং শাকে রয়েছে জিয়াজ্যানথিন ও লুটেইন নামের দুই ক্যারোটিনয়েড। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চোখের ম্যাকুলা নামের অংশের ক্ষয় আটকাতে এরা সাহায্য করে। ফলে দৃষ্টিশক্তি সতেজ থাকে। এছারা যেকোনো সবুজ শাক ম্যাঙ্গানিজের খুব ভালো উৎস। সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখের রেটিনাকে রক্ষা করতে সাহায্য করে সবুজ শাক।

টমেটো-টমেটোতে আছে ভিটামিন এ, বি, সি, কে, ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, লাইকোপিন, ক্রোমিয়ামসহ নানা উপাদান। এতে থাকা লাইকোপিন রেটিনাকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চোখকে সুরক্ষা দেয়।

মাছ-ছোট মাছ খেলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে। এছাড়া ইলিশ, রুই ইত্যাদি মাছ ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিপূর্ণ, যা চোখ ভালো রাখে। সামুদ্রিক মাছ আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজগুলোর এক দারুণ উৎস। এগুলো খেলে সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি ১২, পটাশিয়ামের গুণ তো পাওয়া যায়ই, সঙ্গে মেলে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসও।

দুধজাতীয় খাবার-দই, দুধ এবং অন্য দুগ্ধজাত পণ্য জিঙ্ক, ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস সমৃদ্ধ। ভিটামিন এ চোখের কর্নিয়া রক্ষা করতে সাহায্য করে, ছানি প্রতিরোধে কাজে আসে জিঙ্ক। বাদাম-বিভিন্ন বাদামে রয়েছে ভিটামিন-ই সহ আরও অনেক ধরনের ভিটামিন। ফলে নিয়মিত বাদাম খেলে ভালো থাকবে চোখ।

ডিম-ডিমকে সুপারফুড বলা হয়। নানা গুণের পাশাপাশি চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতেও ডিম বেশ কার্যকর। পালং শাকের মতোই ডিমের কুসুমেও থাকে লুটেন ও জিয়াজ্যানথিন, যারা চোখের রেটিনার ক্ষয় প্রতিরোধে বেশ কার্যকর।

ভুট্টা-ভুট্টায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন এ, সি এবং লাইকোপিন। এগুলো দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ভুট্টা খেলে চোখের হলুদ পিগমেন্ট হারানোর কোনও ঝুঁকি থাকে না। পাশাপাশি ছানি পড়ার ঝুঁকিও কমে যায়।

মিষ্টি আলু-মিষ্টি আলুতে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-সি, ই এবং ডি। ফলে মিষ্টি আলু চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এতে রয়েছে প্রতিদিনের চাহিদার ২৮ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ ও ৪০ শতাংশ ভিটামিন-সি।

লাল ক্যাপসিকাম-লাল ক্যাপসিকামে রয়েছে ভিটামিন সি, যা চোখের র’ক্তনালীগুলোকে ভালো রেখে ছানি পড়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়।

ব্রকোলি-ভিটামিন এ (লুটেন, জিয়াজ্যানথিন, এবং বিটা ক্যারোটিন), ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই, সবই পেতে পারেন ব্রকোলি থেকে।

পর্যাপ্ত পানি-চোখ আমাদের শরীরের এমন এক অংশ, যাকে সর্বক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে হয়। চোখ ভালো রাখতে তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।