সকালে বাসি রুটি খাওয়ার ১০টি উপকারিতা

972

সাধারণত আমরা বাসি কোনো খাবারই খাই না। কারণ বাসি খাবার খেলে ডায়রিয়া, পেটের সমস্যা বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আমরা বাসি খাবার ফেলে দেই না হয় কাক অথবা কুকুরদের খাওয়াই।

বাসি খাবার খেলে অপকার হয় এটা কমবেশি আমরা সবাই জানি। আমাদের আজকের ব্যস্ততার দিনে আমরা একদিন রান্না করে তিন দিন ধরে ফ্রিজে রেখে খাই।

আর গবেষণা বলছে, এ ভাবে খাওয়াটা ঠিক নয়। এতে অনেক রোগ হয়।

আপনি কি জানেন, বাসি রুটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বাসি রুটি নিয়মিত খেলে বশে থাকে ডায়াবেটিস, র’ক্ত’চাপসহ বিভিন্ন রোগ কমে যায়। এ ছাড়া দূর হয় হজমের সমস্যাও।

আসুন তা হলে যেনে নেই বাসি রুটি খাবার উপকারিতা গুলো সম্পর্কে-

১. এনার্জির ঘাটতি দূর করে- আপনার কী অনেক সকালে কোনও দরকারী মিটিং পড়ে গেছে? কিন্তু এত সকালে কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না ? কিচ্ছু ভাববেন না।

ফ্রিজ খুলে দেখুন রুটি আছে কি না। থাকলে সেই রুটি নিয়ে এক গ্লাস দুধ দিয়ে খেয়ে নিন। দেখবেন এতে পেট ভর্তিও থাকবে, আবার আপনি অনেক ক্ষণ ধরে এনার্জিও পাবেন। কাজটাও দেখবেন ভরা পেটে ভালই হবে।

২. হজমের উন্নতি হয়- আমাদের বাঙালিদের এই এক প্রধান সমস্যা। যাই খাই না কেন হজম করতে পারি না। ফলে পেটের অনেক রোগ হয়। কিন্তু আপনি কী জানেন যে বাসি রুটি খেলে এই হজমের সমস্যারও সমাধান হয়? না জানলে জেনে নিন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, রুটিতে থাকা ফাইবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও শক্তিশালী হয়। তাই এবার থেকে বাসি রুটি না ফেলে সকালে খেয়ে নিন।

৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনে- নানা চিন্তায় আমাদের সকলেরই র’ক্ত’চাপ কিন্তু ঠিক জায়গায় নেই। কিন্তু বাসি রুটি এক্ষেত্রে খুবই উপকারী। ঠাণ্ডা দুধ দিয়ে বাসি রুটি খেয়ে নিলে দেখা গেছে শরীরের সোডিয়াম বা নুনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর তাই র’ক্তচাপও ঠিক থাকে।

৪. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়- কী, অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন ত্বক ভাল রাখতে আবার বাসি রুটি! হ্যাঁ, বাসি রুটি এই কামালটিও করতে পারে। কারণ বাসি রুটির মধ্যে থাকা জিঙ্ক শরীরের থেকে টক্সিন দূর করে। সেই সঙ্গে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়তে থাকে। তাই ত্বকও হয়ে ওঠে সুন্দর।

৫. ওজন কমায়- বাসি রুটি খেলে এর মধ্যে যে ফাইবার থাকে তা অনেক ক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। হলে আমাদের খিদে কম পায়। আর খিদে কম পায় বলে আমরা কম খাই আর আমাদের শরীরের ওজন আর বাড়ে না। তাই ওজন কমাতে চাইলে বাসি রুটি খান।

৬. হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে- গবেষণায় দেখা গেছে, বাসি রুটির ফাইবার হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। আর আগেই বলেছি, বাসি রুটি র’ক্ত’চাপ কমায়। এছাড়া কারডিওভাসকুলার নানা রোগও কম হয়। তাই সার্বিক ভাবে যখন হার্ট ভাল থাকে তাই হার্ট অ্যাটাক আর হয় না।

৭. ডায়াবেটিসের আশঙ্কা কম হয়- ডায়াবেটিস কমাতেও যথেষ্ট কার্যকরী বাসি রুটি। এই নিয়ে এখনও অনেক কাজ বাকি, তাও বলা যায় যে আপনার ব্লা’ড সুগার কমাতে কিন্তু বাসি রুটি খুব কাজ দেয়।

৮. অ্যাস্থেমার প্রকোপ কমায়- দেখা গেছে যে বাসি রুটির মধ্যে থাকা ম্যাগনেশিয়াম আর ভিটামিন ই অ্যাস্থেমার মতো রোগের প্রকোপ অনেক কমায়। আপনারা তাই বাসি রুটি খেয়ে দেখতে পারেন। আর যদি বাচ্ছাদের থাকে অ্যাস্থমা তাহলে কিন্তু খুবই এই ঘরোয়া টোটকা খুবই উপকারী।

৯. গ্যাসের সমস্যা কমায়- আমাদের গ্যাসের সমস্যা হয় কারণ আমরা খুব বেশি তেল-ঝালের রান্না খাই। কিন্তু ভেবে দেখুন তো, যদি আপনি সকালে দুধ দিয়ে বাসি রুটি খান, তাহলে আপনি যেমন দুধের মতো সুষম খাবার খেলেন, তেমনই আপনি সকাল সকাল পরোটা বা লুচির মতো তেলতেলে খাবার খেলেন না। আর এতেই গ্যাসের সমস্যা কমবে।

১০. শরীর ঠাণ্ডা রাখে- এটা শুনে কী অবাক হলেন? একদমই হবেন না। সামনেই তো গরম কাল আসছে। আর এই গরমে আপনার শরীর ভিতর থেকে ঠাণ্ডা রাখতে আপনি কিন্তু বাসি রুটিকে সঙ্গী করতেই পারেন। দেখা গেছে, বাসি রুটি আপনার শরীর ঠাণ্ডা রাখে।