সম্প্রতি করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ডা. শহীদুল্লাহ যে পরামর্শ দিলেন

696

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সদ্য সাবেক উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) ও বর্তমানে চর্মরোগ ও যৌনব্যাধি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার ক’রোনা ভাই’রাসে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে বর্তমানে সুস্থ হয়েছেন।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপ কালে ক’রোনা আ’ক্রা’ন্ত রোগীদের তিনি বিভিন্ন পরামর্শ দিলেন, ‘আ’ক্রা’ন্ত হলেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে- এমন নয়। বাসায় থেকেই দৃঢ় মনোবল, সঠিক পরিচর্যা এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই করো’নাকে জয় করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘করো’নায় আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তির সঙ্গে পরিবারের সদস্য কিংবা প্রতিবেশীদের অমানবিক হওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, একঘর থেকে আরেক ঘরে করো’নাভাই’রাস ছড়ায় না। আ’ক্রা’ন্ত লোকের হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ক’রোনাভাই’রাস অন্যের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে দেহে ঢুকে পড়ার ঝুঁ’কি বেশি।

কিন্তু এটি বায়ুবাহিত রোগ নয়। আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তি থেকে একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকতে পারলে এ ভাই’রাস থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘আমি আবার চিকিৎসায় ফিরতে চাই, আমি করো’না রোগীর সেবা করতে চাই।’ অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, মনে রাখতে হবে করো’না আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তির সঙ্গে কোনোভাবেই অমানবিক আচরণ করা যাবে না।

পরিবারের সদস্যদের অবহেলা করা চলবে না। আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তিকে একটি রুমে রাখতে হবে। দূরত্ব বজায় রেখে সেবা করতে হবে। অন্যদিকে আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তি বা পরিবারকে সামাজিক, পারিবারিক, অমানবিক হওয়া যাবে না। মানবতাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক চিন্তা, ধর্ম, বর্ণ ঊর্ধ্বে রেখে মানবতার মাধ্যমেই এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।

করো’নায় আ’ক্রা’ন্ত থেকে সুস্থ হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, ক’রো’নাভাই’রাসের প্রধান লক্ষণ- জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, গায়ে ব্যথা। এই সং’ক্রমণ সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতোই। এতে জ্বর আসে, শুকনো কাশি হয়। এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

করো’না আ’ক্রা’ন্ত হলেই সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি নয়। বাসায় থেকে সঠিকভাবে স্বাস্থ্য পরিচর্চার মাধ্যমে বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায় এমন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, জিং ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ খাবার। এর মধ্যে আমড়া, পেয়ারা, লেবু, কমলা, মাল্টা, আপেল এবং দেশি মৌসুমি ফল।

তিনি বলেন, আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তিকে প্রতিদিন একাধিক ডিম খেতে হবে। তবে যাদের উচ্চ র’ক্তচাপ বা হৃদরোগ রয়েছে তাদের ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে খাওয়াই ভালো। মনে রাখতে হবে অন্যান্য প্রোটিন জাতীয় খাবার ও শাকসবজি খাওয়াও প্রয়োজন। প্রচুর পরিমাণে গরম পানি খেতে হবে। গরম পানিতে গড়গড়া করা এবং গরম পানির ভাপ নিঃশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে। তা ছাড়া কালোজিরা মধুর সঙ্গে খেলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

রসুন, আদা, দারুচিনি, লবঙ্গ ইত্যাদি ক’রোনাভাই’রাসের প্রতিরো’ধের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা রয়েছে। মনে রাখতে হবে কখনই ঠাণ্ডা লাগানো যাবে না। ভাই’রাস যদি ফুসফুসে বেশ চেপে বসে তাহলে আপনার শ্বাসকষ্ট এবং নিউমোনিয়া হতে পারে। যাদের হাঁপানি আছে তাদের জন্য এই ভাই’রাস ‘অত্যন্ত ঝুঁ’কিপূর্ণ’।

কারণ যাদের হাঁপানি আছে তাদের ক’রো’নাভাই’রাসের মতো জীবাণুর সং’ক্র’মণ হলে তাদের হাঁপানির লক্ষণগুলো বেড়ে যাবে। আর সে কারণেই হাঁপানির সমস্যা যাদের আছে তারা ঘর থেকে বের হবেন না। বেশি লোকের সঙ্গে মেলামেশা এ ধরনের ঝুঁ’কিতে থাকা লোকদের জন্য ভ’য়ের কারণ। কেননা আপনি জানেন না কে এই জীবাণু শরীরে বহন করছে।

এ জন্য সবার উচিত সামাজিক মেলামেশা কমিয়ে দেওয়া। এর একটা উপায় হলো বাাড়িতে থাকা, যতটা সম্ভব বাইরে না বেরুনো। আর যদি বেরুতেই হয় তাহলে অন্য মানুষের চাইতে অন্তত দুই মিটার বা ৬ ফিট দূরে থাকা প্রয়োজন।

আর ক’রোনাভাই’রাস বাসা বাঁধে তার শরীরের আর কোথাও নয়, এই ফুসফুস এবং শ্বাসতন্ত্রেই। সুতরাং যদি এই কাশি দেওয়া লোকটি ইতিমধ্যেই সংক্রমিত হয়ে থাকেন- তা হলে জানবেন, তার প্রতিটি কাশি হাঁচির সঙ্গে নির্গমন হয়। এই ভাই’রাসের বাহন হলো কাশির সঙ্গে বেরিয়ে আসা অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির বিন্দুগুলোই- যাকে ইংরেজিতে বলে ড্রপলেট।

এই ড্রপলেটগুলোর বেশিরভাগই দুই মিটারের বেশি যেতে পারে না। মনে রাখতে হবে করো’নাভাই’রাস ফুসফুস ও নাক ও শ্বাসনালির অংশকে আ’ক্রা’ন্ত করে। এটা কখনো খাদ্যনালি বা অন্যান্য অঙ্গকে আ’ক্রা’ন্ত করে না। সাধারণত করো’না অন্যান্য অঙ্গকে আ’ক্রা’ন্ত করে না। নিঃশ্বাসে সমস্যা হলে বা বুকে ব্যথা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া যেতে পারে।

সঠিক খাবার, স্বাভাবিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার মাধ্যমে করোনা রোগী সেরে উঠতে পারেন। ভীত না হয়ে সব সময় সচেতন হয়ে নিজে সুস্থ থাকুন, অন্যকে সুস্থ রাখুন। আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তি যদি বাসায় থাকেন, তাহলে আলাদা রুমে থাকবেন। একাধিক আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তি এক রুমে থাকতে পারেন। কিন্তু সুস্থ ব্যক্তিকে আলাদা রুমে থাকতে হবে।