সিনেমার গল্পকেও হার মানায় রাব্বীর টিউশনির গল্প !

489

রাব্বীর টিউশনির গল্প– মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের প্রত্যেক শিক্ষার্থীরই ছাত্রজীবনে টিউশনি করার অভিজ্ঞতা কমবেশি আছে। কারোটা মজার, আবার কারো কাছে ভীষণ তিক্ত। যশোর এম এম সরকারি কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া ছাত্র মো. আল-আমিন রাব্বী সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করেন নিজের টিউশনি জীবনের গল্প। যা হার মানায় কোনো কোনো সিনেমার গল্পকেও।

লেখাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

আজ সকালে ছাত্রীকে পড়াতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি উনি রেডি হয়ে বসে আছেন। আমি বললাম কী ব্যাপার পড়বা না আজ? কোথাও যাবে না-কি? ম্যাডাম বললেন, জি স্যার; ক’দিন পরে তো ঈদ। আমার তো কিছুই কেনা হয়নি। আমি বললাম পড়ে যাও। তা উনি না-কি আজ পড়বেন না। আমার খুব রাগ হলো। রোজার মাসে ৫ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে আসলাম।

আমি তাকে বললাম, একবার ফোন দিলে আসতাম না। ও কিছু না বলে হাসতে শুরু করলো। বলে রাখি- ওর সঙ্গে আমার অনেক ভাল সম্পর্ক। ওর হাসি দেখে আমার খুব রাগ হলো। একটু বকাও দিলাম। বকা দিতেই আঙ্কেল চলে আসল; উনিও মজা নিচ্ছেন।

বললেন- কি বাবা ও আজও পড়া পরেনি? বলেই কি অট্ট হাসি বাবা-মেয়ের। আন্টিও চলে আসলেন; তিনিও হাসা শুরু করলেন। মনে মনে ভাবলাম আমি হয়তো পাগলাগারদে আছি। যত সব পাগল। আন্টি বললেন- বাবা সাইকেলটা গ্যারেজে উঠিয়ে দাও।

এবার আমার অবাক হওয়ার পালা। ‘কেন আন্টি?’, উত্তর আমার পন্ডিত ছাত্রী দিল- আপনিও যাচ্ছেন আমাদের সঙ্গে। আন্টি বললেন- আমাদের একটা ছেলে আছে ওর জন্য কিছু কিনব। আমরা তো আর তেমন বুঝব না। তুমি একটু চলো। কী আর করা; চললাম। আন্টি আঙ্কেল আর পণ্ডিত পেছনে বসলো। আমি সামনে ড্রাইভারের পাশে। রাগ হচ্ছিল খুব। ফালতু সময় নষ্ট। কিন্তু কিছু করারও নেই।

উনাদের টাকায় আমার সংসার চলে। বলে রাখি আমি সংসারে একা। যশোর এর বড় শপিং কমপ্লেক্স সিটিতে নিয়ে গেলেন। উনাদের জন্য অনেক কিছুই কিনলেন। বড় লোকের এলাহি কারবার।

সব শেষে উনার ছেলের জন্য কেনার পালা। অনেক ঘুরে দুইটা শার্ট আর একটা প্যান্ট পছন্দ করলাম। শার্ট শেষ পর্যন্ত একটা সিলেক্ট করলাম। আর একটা প্যান্ট। শেষে জুতা কেনার পালা। বললো জুতা কোথা থেকে নেওয়া যায়? বললাম আ্যাপেক্সে চলুন। ওখানে অনেকবার গিয়েছি। জুতা পছন্দও করা ছিলো। টিউশনে টাকা পেলে ওটা নিতে চেয়েছিলাম। কি আর করা ওটাই নিলাম ওই ছেলের জন্য। উনারাও অবাক, গিয়েই কোনার ওই জুতাটা কেন নিলাম? আমি বললাম আগেও এসে দেখেছি জুতাটা। বলেও ফেললাম ওটা আমিও নিব। উনারা খুশি হয়ে ওই জুতাটাই উনার ছেলের জন্য নিলেন। অবশেষে ফিরে এলাম ছাত্রীর বাসায়।

ওনার ছেলের অনেক ছবি দেখেছি। তবে সব ছোটবেলার ছবি। আবার আমাকে ৫ কিলোমিটার সাইকেল চালাতে হবে। খুব কষ্ট হচ্ছিল। সাইকেল নিতে যাব; এমন সময় ছাত্রী পিছনে এসে দাঁড়াল। বললো আপনাকে ডাকে আম্মু। অগত্যা যেতে হলো। গিয়ে দেখি আন্টি কান্নাকাটি করতেছে। আমারো মন খারাপ হয়ে গেল।

আন্টি বললো- বাবারে আজ আমার ছেলে থাকলে তোমার মতো বড় হত। এবার আমার অবাক হওয়ার পালা। ওই দিন জানতে পারলাম উনার ছেলে ১২বছর বয়সে ক্যা’ন্সা’র আ”ক্রা”ন্ত হয়ে মা”রা যায়। এবার আন্টি তিনটা প্যাকেট আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে আরো জোরে কাঁদতে লাগল। এটা তোর জন্য কিনেছি। তুই তো আমার ছেলের মতো। তোর মাঝে আমি রাজুকে খুঁজে পাই। বলে আবার কাঁদতে লাগল। আমি নির্বাক। আসার আগে হাতে বেতনের খামটা ধরিয়ে দিল।

আমি রাস্তাতে চলে আসলাম। আর ভাবতে লাগলাম শুধু শুধু নিজেকে ছোট ভাবি। ৫ কিলোমিটার যে কখন চলে আসলাম। রুমে এসে খামটা খুলে টাকাটা বের করে আগে গুনলাম। এমনি আমার বেতন দেয় ৬ হাজার ৫০০ টাকা। এবার একটু বেশি দিয়েছে বোনাসসহ ১০হাজার টাকা। আমি নিজে খুব খুশি হলাম। কিন্তু মনটা পড়ে রইলো আন্টির কাছে। কত বিচিত্র এই পৃথিবী। কত বড় লোক কিন্তু কত কষ্ট তাদের! আমার হয়তো কিছু নেই; কিন্তু আমার জগতে আমিই সবচেয়ে সুখী মানুষ।

দুই শিশুর কাণ্ডে হতবাক স্যোশাল মিডিয়া

মা-বাবার অগোচরে দুই শিশুর কাণ্ডে হতবাক হয়ে পড়েছে নেট দুনিয়া। মায়ের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে দুই শিশু অনলাইন থেকে কিনে ফেলেছে প্রায় ৬০ হাজার টাকার খেলনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ঘটনাটি ঘটেছে।

ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেমের সাহায্যে একটি অনলাইন শপ থেকে একগাদা খেলনা অর্ডার করে দেয় ভেরোনিকা এস্টেল নামের এক নারীর দুই সন্তান। আর খেলনা অর্ডার করার পর তারা মায়ের ক্রেডিট কার্ড থেকে পেমেন্ট করে দেয়। বিল হয় ৭০০ মার্কিন ডলার।

প্রথমে কিছুই জানতেন না ভেরোনিকা বা তার স্বামী। কয়েক দিনের মধ্যে বাড়িতে চলে আসে বড় বড় কয়েকটি বাক্স। ভেরোনিকা প্রথমে ভাবেন কেউ উপহার পাঠিয়েছেন। খুলে দেখেন, সব বাচ্চাদের খেলনা। কী নেই তাতে! ‘খেলা ঘর’ তৈরির সরঞ্জাম থেকে বার্বি ডল, সবই রয়েছে।

প্রথমে উপহার ভাবলেও পরে ভেরোনিকা বুঝতে পারেন, এগুলি মোটেই উপহার নয়। তার ক্রেডিট কার্ড থেকে এই সব কিনেছে তারই দুই সন্তান। তারপরই বকাবকি শুরু করেন বাচ্চাদের। সেই সঙ্গে তিনি মোবাইলের ক্যামেরা অন করে রেকর্ড করতে থাকেন কী কী কিনেছে তার সন্তানরা। একটি বড় প্যাকেট রাখা ছিল বাড়ি গ্যারেজেও, শুধু সেটির দামই ১৪ হাজারের বেশি।

ভেরোনিকার বকাবকিতে কাঁচুমাচু হয়ে কাঁদতে শুরু করে দুই শিশু। শেষে হাসতে হাসতে তিনি জিজ্ঞেস করেন, এত কিছু কিনেছে অথচ মায়ের জন্য কিছুই অর্ডার করোনি? সব নিজেদের জন্য কিনেছো। দুই শিশুর কান্না দেখে ভেরোনিকা শেষে তাদের আশ্বস্ত করেন, কাঁদতে বারণ করেন।

মায়ের আশ্বাস পেয়ে পরে শিশু দু’টি হাসতে শুরু করে। টাকা খরচ হলেও দুই সন্তান খ্রিস্টমাস গিফট পেয়ে যাওয়ায় ভেরোনিকাও আনন্দ প্রকাশ করেন।