স্ট্রোক করলে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে করণীয় কী

125

একজন মানুষ নানা কারণে স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। স্ট্রোকের ফলে মস্তিষ্কে র’ক্তক্ষরণ হয়ে দ্রুত মৃ’ত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তি। স্ট্রোকের ঝুঁ’কিতে থাকা যে কেউ যখন তখন স্ট্রোকে আ’ক্রা’ন্ত হতে পারেন। অনেক সময় আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তিটিকে দ্রুত হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে তাৎক্ষণিভাবে নেওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে আমরা আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারি।

স্ট্রোকের লক্ষণগুলো : হঠাৎ করে শরীরের একাংশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, মাথাব্য’থা ও বমি হওয়া, হঠাৎ অ’জ্ঞান হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা একেবারেই কথা বলতে না পারার মতো ব্যাপারগুলো ঘটে।

চীনের বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে নিম্নলিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

১। স্ট্রোকে আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তির মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়। প্রথম কাজ হবে ওই ব্যক্তির বিশ্রামের ব্যবস্থা করা।

২। রোগীকে সরানো যাবে না, নড়াচড়া করা যাবে না। কারণ, মস্তিষ্কে র’ক্তক্ষরণ বিস্ফোরিত হতে পারে।

৩। পিচকারি সুই অথবা সেলাই সুই কয়েক সেকেন্ড আ’গুনের শিখার উপরে রেখে গরম করে নিয়ে সুচটি জীবানুমুক্ত করতে হবে। সুচ দিয়ে রোগীর হাতের ১০টি আঙুলের ডগার নরম অংশে ছোট ক্ষ’ত করতে হবে। এমনভাবে করুন যাতে প্রতিটি আঙুল থেকে র’ক্তপাত হয়।

এ কাজটি করার জন্য কোনো অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। শুধু খেয়াল রাখুন আঙুল থেকে যেন যথেষ্ট পরিমাণে র’ক্ত ঝরে। এরপর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন, দেখবেন রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।

৪। যদি আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ বিকৃত হয় তাহলে তার কানে ম্যাসেজ করতে হবে। এমনভাবে ম্যাসেজ করতে হবে যাতে রোগীর কান লাল হয়ে যায়। লাল হলে বুঝতে হবে কানে র’ক্ত পৌঁছেছে।

৫। এরপর দুই কান থেকে দুই ফোঁটা র’ক্ত পড়ার জন্য কানের নরম অংশে সুচ ফুঁটাতে হবে। কয়েক মিনিট পর দেখবেন মুখ আর বিকৃত হবে না।

এরপর রোগী মোটামুটি স্বাভাবিক হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসার এই পদ্ধতিকে বলা হয় র’ক্তক্ষয় পদ্ধতি। চীনে চিকিৎসার অংশ হিসেবে প্রথাগতভাবে এই পদ্ধতি ব্যবহার হয়ে আসছে। এই পদ্ধতির ব্যবহারিক প্রয়োগ শতভাগ কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে।

শীতেও ঠান্ডা পানিতে যে কারণে গোসল করবেন

কনকনে শীতে জনজীবন বি’প’র্য’স্ত। এই ঠাণ্ডা আবহাওয়াই যেখানে বাইরে বের হওয়ারই জোঁ নেই, সেখানে গোসলের কথা তো কেউ চিন্তাই করতে পারে না। আবার দীর্ঘদিন গোসল না করলেও শরীরে চ’র্ম’রো’গ বাসা বাঁধবে। তাই তো সবাই গরম পানিতেই গা ভিজিয়ে থাকেন শীতকালে।

শীতকালে ঠান্ডা পানিতে অনেকেই গোসল করতে অনীহা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধরা শীত কালে ঠান্ডা পানিকে ভ’য় পায়। তাই গোসলের পানি গরম করে নেন কেউ কেউ। কিন্তু আপনি জানেন কী? শীতকালে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে শরীর মন চনমনে থাকে। রো’গ’ব্যা’ধীও দূর হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোসল শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে রো’গপ্র’তি’রো’ধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নানা উপকারিতা পাওয়া যায়। আর এ জন্য প্রয়োজন ঠাণ্ডা পানিতে গোসল। তবে আবহাওয়া যদি ঠাণ্ডা হয় তাহলে আপনি কি ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করে ঠাণ্ডা রো’গে আ’ক্রা’ন্ত হতে পারেন?

এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার যে একেবারেই ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। এক্ষেত্রে প্রথমে কিছুটা ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করতে হবে। পরবর্তীতে আপনার অভ্যাস হলে তখন আরো বেশি ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করতে পারেন।

এ ছাড়া অসুবিধা হলে গোসলের প্রথম অবস্থায় হালকা গরম পানিতে গোসল করার পর শেষ ১০ সেকেন্ড ঠাণ্ডা পানিতে দেহ ভিজিয়ে নিলেও উপকার পাওয়া যাবে। অনেকেই ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করতে চান না প্রয়োজন হয় উষ্ণ পানির। যদিও ঠাণ্ডা পানিতে গোসলের উপকারের বিষয়টি জেনে রাখলে আপনিও এ কাজে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।

এবার তবে জেনে নিন কোন কোন উপকার মিলবে-

১. ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে শরীরে র’ক্ত স’ঞ্চা’ল’ন বাড়ে। যার ফলে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। অন্য দিকে, গরম পানিতে গোসল র’ক্ত স’ঞ্চা’ল’নে বা’ধা দেয়। এতে শীত আরো বেশি অনুভূত হয়। ঠাণ্ডা পানিতে গোসলের ফলে ধমনীগুলো আরো শ’ক্তি’শা’লী হয়ে র’ক্ত’চা’প হ্রাস করে।

২. চুল ও ত্বক ভালো রাখতেও ঠাণ্ডা পানিতে গোসলের উপকারিতা অনেক। এতে ত্বকের রু’ক্ষ’তা ও র‌্যাশ দূর হয়। ঠাণ্ডা পানি ত্বকের লোমকূপগুলোকে আরো টানটান করে। এ ছাড়াও ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে চুল ঝলমলে ও ত্বক গভীর ভাবে পরিষ্কার হয়ে থাকে।

৩. বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, যারা শীতেও নিয়মিত ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করে তাদের শরীরের শ্বে’ত র’ক্ত’ক’ণি’কার সংখ্যা বেড়ে যায় এবং বিপাক ক্রিয়ার উন্নতি ঘটে। এতে রো’গ প্র’তি’রো’ধ ক্ষ’ম’তা বেড়ে যায়।

৪. পেশির উন্নতিতে সাহায্য করে ঠাণ্ডা পানি। এ জন্য খেলোয়াড়রা সব সময় ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করে থাকেন। যে কোনো খেলা বা শরীর চর্চার পর পেশির ব্য’থা দূর করতে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল যেন একটি অব্যর্থ দাওয়াই।

৫. শীতকালে যখন ঠাণ্ডা পানিতে গা ভেজাবেন ততক্ষণাৎ আপনার হা’র্ট’বি’টও বেড়ে যাবে। অর্থ্যাৎ ঠাণ্ডা পানির প্রতিক্রিয়া হিসেবে যে গভীর শ্বা’স-প্র’শ্বা’স ঘটে তা আমাদের শরীরে অক্সিজেন গ্রহণ বাড়িয়ে তোলে। এতে শরীর আরো দ্রুত গরম হয় ও শ’ক্তি সঞ্চার করে।

৬. ঠাণ্ডা পানিতে গোসলের ফলে মন ভালো হয়। কারণ এতে দেহের অ্যানার্জি বৃদ্ধি পায় এবং বি’ষ’ন্ন’তা দূর হয়।

৭. পুরুষের শুক্রাণু বৃদ্ধি পায় ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে। কারণ ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় শুক্রাণু দ্রুত পরিপূর্ণতা পায়। আর গরম পানি শুক্রাণু বৃদ্ধিকে বা’ধা’গ্র’স্ত করে।

৮. আপনি মুহুর্তেই চাঙা হয়ে উঠবেন ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে। যাদের ঘুমের সমস্যা হয় তারা অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাবেন।

৯. ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে ওজনও কমে। অবাক হচ্ছেন? এর ফলে দেহ ঠাণ্ডা হওয়ায় আবার আগের তাপমাত্রায় ফেরানোর জন্য দেহের ক্যালোরি ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। আর ক্যালোরি ব্যবহারের ফলে দেহের ওজন হ্রাস পায়।

১০. নিয়মিত শরীরে তেল ম্যাসেজ করে আধা ঘণ্টা পর গোসল করার অভ্যেস করুন।

সতর্কতা: ঠাণ্ডা পানিতে গোসলের বহুবিদ উপকার রয়েছে। তবে যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে, উচ্চ র’ক্ত’চা’পে ভুগছেন এবং প্রচণ্ড জ্ব’রে আ’ক্রা’ন্ত তারা ভুলেও শীতকালে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করবেন না।