স্বর্ণালঙ্কারসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ চু’রি হলো ওসির ফ্ল্যাট থেকে !

124

ফরিদপুরের নগরকান্দা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানার ফ্ল্যাটে প্রকাশ্য দিবালোকে দুঃসাহসিক চু’রির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলী এলাকার ওয়াসিত্ব টাওয়ারের ৭তলায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার তদন্ত ও আলামত সংগ্রহ করে।

ওসি সোহেল রানার পরিবার গত মাসের ২৭ তারিখ ওয়াসিত্ব টাওয়ারের ৭ তলার এ-সেভেন নম্বরের ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন। জানা গেছে, শনিবার সকালে ওসি সোহেল রানা চিকিৎসার উদ্দেশে ভারত রওনা হন। তার স্ত্রী নাহিদা পারভিন ডলি দুই মেয়েকে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ শহরে বাবার বাড়ি বেড়াতে যান।

ওসি সোহেল রানার এক স্বজন জানান, সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন দরজার তালা ভেঙে সব কিছুই নিয়ে গেছে। ঘরের আলমারি ও অন্যান্য আসবাব তছনছ করা ছিল। ওসি সোহেল রানার ভাইয়েরা বিদেশ প্রবাসী। তাদের উপহার দেওয়া মূল্যবান ঘড়ি ও ল্যাপটপসহ নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও কিছু মালামাল সবই নিয়ে গেছে।

তিনি জানান, সকাল ৯টার কিছুক্ষণ আগে বাসার কাজের বুয়া পাশের ফ্ল্যাটে কাজ করতে আসেন। এসময় তিনি সোহেল রানার ফ্ল্যাটের দরজা খোলা ও সেখানে দু’জন লোক দেখতে পান। বুয়াকে দেখে তারা ধমক দিলে তিনি উপড়ে গিয়ে ৮ তলার বাসিন্দাদের বিষয়টি জানান। তারা তৎক্ষণাৎ নিচে নেমে এলেও কাউকে পাননি।

ওই ভবনের বাসিন্দারা জানান, ওই ফ্ল্যাটে তিনজন গার্ড রয়েছে, যারা পালাক্রমে ডিউটি করেন। তবে ঘটনার সময় ১০ মিনিটের জন্য দায়িত্বরত গার্ড টয়লেটে গিয়েছিল।

বিষয়টি রহস্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাঁচটি বিভাগ তাদের নিজ নিজ পদ্ধতিতে ঘটনার তদন্ত ও আলামত সংগ্রহ করেছে। ওই ভবনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দার ধারণা, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ এ ঘটনায় খোয়া গেছে।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার এস আই বেলাল হোসেন বিষয়টিকে সাধারণ চুরির ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, কখন এ ঘটনা ঘটেছে বিষয়টি এখনও জানা যায়নি। কি পরিমাণ সম্পদ খোয়া গেছে সেটি বাসার কেউ স্পষ্ট করে জানায়নি বলে তিনি জানান।

ঘটনার সময়কাল নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, তিন দিন তালাবদ্ধ ছিল ওই ফ্ল্যাট। এরপর তালা ভেঙে চোরেরা মালামাল নিয়ে যায়। কাজের বুয়ার বক্তব্যকে তিনি তেমন গুরুত্ব দেননি।

তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এছাড়া অন্যান্য বিভাগের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল ৫টা) কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক কিংবা থানায় কেউ লিখিত অভিযোগও করেনি।