স্বাদ-গন্ধ না পাওয়াই করোনার নিশ্চিত লক্ষণ, জ্বর-কাশি নয়: গবেষণা

462

গবেষকরা বলে জানিয়েছেন যে, করোনা ভাই’রাসে কেউ আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে কিনা তা বোঝার জন্য জ্বর বা কাশি নয় বরং গন্ধ ও স্বাদ পাচ্ছে কিনা তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলছেন, কেউ করোনা’ভাই’রাসের আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন কিনা তা বোঝার নির্ভরযোগ্য ইঙ্গিত হল তার স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি চলে যাওয়া।

যুক্তরাজ্যের গবেষকদের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কাশি বা জ্বরের চেয়ে স্বাদ-গন্ধহীনতা কো’ভিড-১৯ এর স্পষ্ট লক্ষণ। স্বাদ ও গন্ধ পাচ্ছেন না এরকম প্রায় ৬০০ রোগীর ওপর এক গবেষণা চালিয়েছে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ। তাদের ৮০ ভাগ মানুষের শরীরে করোনাভা’ই’রাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে।

যাদের শরীরে ভাই’রাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশের জ্বর বা অনবরত কাশির মত কোভি’ডের অন্য কোনো উপসর্গ ছিল না। এই গবেষণা চালানো হয়েছে যাদের হালকা উপসর্গ ছিল তাদের ওপর।

করোনা’ভাই’রাসের একটা লক্ষণ যে স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি চলে যাওয়া, সেই তথ্যপ্রমাণ প্রথম সামনে আসতে শুরু করে এপ্রিল মাসে। আর মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ করোনার উপসর্গের তালিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এটা নিশ্চিত একটা লক্ষণ হিসাবে যুক্ত হয়।

করোনাভা’ইরা’সের বর্তমান নির্দেশিকাতে বলা আছে, কারো যদি স্বাদ-গন্ধ চলে যায় বা স্বাদ-গন্ধ অনুভুতিতে পরিবর্তন হয় তবে তাদের সেল্ফ-আইসোলেট করতে হবে ও করোনা পরীক্ষা করাতে হবে।

লন্ডনের এই গবেষণার ফলাফলের প্রধান লেখক অধ্যাপক রেচেল ব্যাটারহাম বলছেন, এখনও মানুষ কাশি ও জ্বরকেই কোভি’ডের প্রধান উপসর্গ হিসাবে দেখছেন। তিনি ২৩ এপ্রিল থেকে ১৪ মে পর্যন্ত লন্ডনের বিভিন্ন এলাকার পারিবারিক চিকিৎসকদের (জিপি) সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তাদের মাধ্যমে সেসব লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন যারা আগের চার সপ্তাহে স্বাদ ও গন্ধ চলে যাওয়ার কারণে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এদের উপরই তারা গবেষণার কাজটি চালান।

এই অংশগ্রহণকারীদের সবার শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায় এদের প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে চারজনেরই অ্যান্টিবডি পরীক্ষা পজিটিভ হয়। যাদের হালকা উপসর্গ ছিল ও স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি চলে যাওয়া শুধু তাদের নিয়েই এই গবেষণা চালানো হয়েছে।

অধ্যাপক ব্যাটারহাম বলছেন, এই জরিপ গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে কেউ যদি তার স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতিতে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তবে তাকে অবশ্যই আলাদা থাকতে হবে ও করোনা পরীক্ষা করাতে হবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনা আ’ক্রা’ন্ত হলে স্বাদ গন্ধের অনুভূতি চলে যাবার কারণ হলো এই ভাই’রা’সে নাক ও গলার ভেতরের এবং জিভের কোষগুলোকে প্রথম আ’ক্রম’ণ করে। সাধারণ সর্দি জ্বরের থেকে এই অনুভূতি খুবই আলাদা। তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা