স্বেচ্ছায় কবর খুঁড়ে ও মৃত মানুষকে গোসল করিয়ে তৃপ্তি পান সুলতান !

150

বিনিময়ে কিছু নেন না- মানুষ ম’রা’র খবর পেলেই নিজ পকেটের টাকা খরচ করে ছুটে চলেন সুলতান। তবে কোনো টাকা-পয়সার বিনিময়ে নয়। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে মৃ’ত মানুষকে ধোয়া ও কবর খোঁড়ার কাজ করে থাকেন।

জানা যায়, সুলতান মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত মো. আনু মিয়ার ছেলে। মৃ’ত মানুষকে গোসল ও কবর খুঁড়েই নিজ মনে শান্তি পান বলে জানান সুলতান।

তবে বিনিময়ে কেউ কিছু দিতে চাইলে মনে খুব কষ্ট পান। জোর করে কাপড়চোপড় দিলেও গরিবদের মাঝে তা বিলি করে দেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত তিন শতাধিক মৃ’ত মানুষকে গোসল ও তিন সহস্রাধিক কবর খোঁড়ার কাজ সম্পন্ন করেছেন।

তা ছাড়া কেউ মা’রা গেলে কাফনের কাপড় কেনার টাকা না থাকলে পানছড়ি বাজারের একটি দোকানে সব সময় একজনের কাফনের কাপড়ের টাকা তিনি জমা রাখেন। যা চলে বছরের পর বছর।

পানছড়ি উপজেলা ভিডিপি সদস্য সুলতানের বর্তমান বয়স ৫৫। তাঁর ভয়, যেকোনো মুহূর্তে নিজেও মা’রা যেতে পারেন। তাই উত্তরসূরি হিসেবে একজন তৈরি করে যাচ্ছেন, যাতে সেবাটা অব্যাহত থাকে।

পানছড়ি গাউসিয়া নার্সারির স্বত্বাধিকারী মো. আবদুল হালিম জানান, তাঁর এক আত্মীয় মা’রা যাওয়ার পর সুলতান স্বেচ্ছায় গিয়ে গোসল ও কবর খোঁড়ার কাজ সম্পন্ন করেন। বিনিময়ে অনেক কিছু দিতে চাইলে তিনি রাগ করেন। পরে একটি লুঙ্গি ও পাঞ্জাবির কাপড় জোর করে দিলেও সঙ্গে সঙ্গে একজন গরিব লোককে ডেকে দিয়ে দেন।

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিসে কর্মরত হাবিলদার মো. সুবেদ আলী জানান, দেশের বিভিন্ন জায়গায় খবর পেলেই তিনি ছুটে যান। যে বাড়ির মৃ’ত’দে’হ ধোয়া ও কবর খোঁড়ার কাজ করেন সে বাড়িতে দাওয়াত পর্যন্ত খান না। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর এই গর্বিত সদস্য করোনায় কেউ মা’রা গেলে তাদের গোসল করানোর ব্যাপারেও স্বেচ্ছায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

৩ নম্বর পানছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন জানান, বর্তমান যুগে এমন লোক খুব বিরল। সদা হাস্যোজ্জ্বল লোকটি যে কাজ করে যাচ্ছেন, তা আসলেই একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। তিনি শুধু পানছড়ির নয়, সারা দেশের জন্যই একটি আইডল বলা চলে।