হঠাৎ করে কানে পানি ঢুকলে যা যা করণীয়

320

ঝরনার নিচে গোসলের সময় বা অন্যান্য কারণে হঠাৎ কানে পানি ঢুকে যায়। তবে বেশি পরিমাণে পানি না ঢুকলে তেমন একটা সমস্যা হয় না। কানের ভেতরের ওয়াক্স অল্প পরিমাণ পানি শোষণ করে নেয়। তবে কানে বেশি পরিমাণ পানি গেলে সমস্যা হতে পারে।

আর কারো কানে যদি ছিদ্র থাকে বা আগে থেকে সংক্রমণ থাকে, তাদের ক্ষেত্রে কানে পানি গেলে সমস্যা হতে পারে। তাই কানে পানি ঢুকলে সাবধান। যাদের এ ধরনের সমস্যা আছে তাদের যাতে কানে পানি না ঢোকে সেই ব্যবস্থা আগে থেকে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পানি বের করার জন্য কিছু পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারেন। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক-

১. ​কানে অল্প পানি ঢুকলে চুইংগাম চিবাতে হবে। এতে দাঁত, মাড়ি ও কানের পাশের পেশীগুলোর ওঠাপড়ায় কানের পানি বেরিয়ে আসবে।

২. পানি ঢুকলে একটা লম্বা শ্বাস নিন। এবার দু’আঙুলে নাকের ছিদ্র বন্ধ করে সেই অবস্থাতেই শ্বাস ত্যাগ করতে চেষ্টা করুন। এই পদ্ধতি কয়েকবার অবলম্বন করলেই কান থেকে পানি বেরিয়ে যাবে সহজে।

৩. যে কানে পানি ঢুকেছে সে দিকে মাথা কাত করুন। এবার সেই দিকের হাতের তালু পানি ঢোকা কানের উপরে রেখে জোরে চাপ দিন। চাপ দিয়ে সরিয়ে নিন হাত। এতে কিছুটা পানি বেরিয়ে আসবে। কয়েকবার এমন করতে করতেই কানের সিংহভাগ পানি বেরিয়ে আসবে।

এ সব পদ্ধতি অবলম্বনের পরও যদি কানের পানি বের না হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এবং তাদের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ ও ড্রপ ব্যবহার করা যাবে না। তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

উপুড় হয়ে শুয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে হতে পারে যেসব ভয়া’নক ক্ষ’তি

পেটে ভর দিয়ে উপুড় হয়ে শোয়া বা আধশোয়া হয়ে বই পড়া, ল্যাপটপ-মোবাইল চালান অনেকে। সাময়িকভাবে আরাম মনে হলেও এ অভ্যাসের কারণে মেরুদণ্ড, শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের বিশ্রাম ও ঘুমের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। পেটে ভর দিয়ে শুয়ে বিভিন্ন কাজ করলে ক্ষ’তির শিকার হতে পারে মেরুদণ্ড এবং অন্ত্র। এ ছাড়াও মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বাঁক বদলে গিয়ে ঘাড়-পিঠে ব্যথা হতে পারে।

পেটের ভরে শোওয়ার সময় ঘাড় প্রসারিত হয়ে দুই কাঁধ কানের কাছাকাছি পৌঁছায়। শরীরের বেশির ভাগ ভর পড়ে দুই হাতের ওপর। এই অবস্থায় বিভিন্ন হাড়ের জোড়ায় অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। এটি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হলে দীর্ঘ মেয়াদে ভয়ানক ক্ষ’তি হতে পারে।

শরীরে সব অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যাবলির নিয়ন্ত্রক স্নায়ুতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখে মেরুদণ্ড। স্নায়ুতন্ত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে পুরো শরীরই অচল হয়ে পড়তে পারে। আর পেটে ভর দিয়ে শুয়ে থাকায় এই ঝুঁ’কিটাই বাড়তে থাকে।

এভাবে শুয়ে থাকলে পিঠের নিচের অংশেও অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। পিঠের নিম্নাংশে সমস্যা থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য ও মলত্যাগজনিত নানা সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

এছাড়া পেটে ভর দিয়ে শুয়ে থাকার সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পেশিগুলোর ওপর শরীরের ভার পড়ে। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস পরিপূর্ণ হতেও বাধার সৃষ্টি হয়।

করণীয়-

চেয়ারে বা বিছানায় আরাম করে বসে মোবাইল-ল্যাপটপ ব্যবহারের অভ্যাস করুন। বসার সময় যেন পিঠের ওপর টানা চাপ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন। দেখার জন্য মাথা না ঝুঁকিয়ে বরং ডিভাইসটি চোখের সমান্তরালে নিয়ে আসুন।