হিজাব পরে জাতীয় সংগীত গাইলেন হিন্দু অভিনেত্রী

121

হিজাব পরে জাতীয় সংগীত গাইলেন- নাগরিকত্ব আইনের জেরে বর্তমানে উ’ত্ত’প্ত গোটা ভারত। বিতর্কিত এই আইনের প্র’তি’বাদে বিভিন্ন রাজ্যে চলছে বি’ক্ষো’ভ ও স’হিং’স’তা। চলমান এই আন্দোলনে নিয়মিতই ঘটছে হ’তা’হ’তের ঘটনাও। আর এমন পরিস্থিতিতে হিজাব পরে জাতীয় সংগীত গাইলেন ভারতীয় অভিনেত্রী এনা সাহা।

জানা গেছে, উ’ত্তা’ল এই সময়ে সম্প্রীতির বার্তা দিতেই এমন অভিনব উপায় বেছেন নিয়েছেন তিনি। গত শনিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন এনা। ভিডিওতে দেখা গেছে, হিজাব পরে আছেন এনা। শুধু এনাই নন, বিভিন্ন ধর্মের প্রচলিত পোশাক পরেছেন অন্যরা।

কারো গায়ে নামাবলী, কারো মাথায় টুপি, আবার কারো গলায় ক্রুশ। তারা প্রত্যেকে ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’ গেয়েছেন। ভিডিওর ক্যাপশনে এনা লিখেছেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য আমাদের সুন্দর দেশের নাগরিকদের চালিত করেছে সব সময়। দেশের সব ধর্মকে এক সূত্রে বাঁধার পথ হলো ঐক্য।

আর বৈচিত্র্য হলো বিভিন্ন ধরনের মানুষের ধারণাগুলো এক জায়গায় আসা। আজ আমরা দেশের সব ধরনের সংস্কৃতিকে সম্মান জানাই।’ এনার এই ভিডিওর প্রশংসা করেছেন সবাই। এরই মধ্যে ভিডিওটি ভা’ই’রাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। জানা গেছে, বর্তমানে এনা একটি ওয়েব সিরিজে কাজ করছেন। কিছু দিন আগেই মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ছবি ‘ভূত চতুর্দশী।’

ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই ছেলেকে বড় করতে চায় ভারতীয় মুসলিম দম্পতি !

ধর্মীয় ভেদাভেদহীন একটা সমাজের স্বপ্ন দেখেছেন তারা। মানবতাকেই একমাত্র ধর্ম মেনেছেন। তাই সদ্যোজাত সন্তানকে ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই বড় করে তুলতে চান জয়নগরের দক্ষিণ বারাসতের বাসিন্দা মুদাসসার হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী হাবিবা।

সে কারণেই সম্প্রতি পুত্র সন্তানের জন্মের পর জন্মের শংসাপত্রে কোনও পদবি না রাখার জন্য আবেদন জানান ওই দম্পতি। তাঁদের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে পদবি ছাড়াই ছেলে অক্ষরের জন্মের শংসাপত্র দিয়েছে পঞ্চায়েত। মুদাসসার ও হাবিবা দুজনেই থিয়েটার কর্মী। নিজেদের একটি থিয়েটারের দল রয়েছে তাঁদের।

গত ২১ নভেম্বর পুত্র সন্তানের জন্ম দেন হাবিবা। সন্তানকে ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে রাখার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল দম্পতির। চেয়েছিলেন প্রথম থেকে খাতায় কলমে পদবি ছাড়াই বেড়ে উঠুক ছেলে। ছেলের জন্মের পর তাই সেই মতো আবেদন করেন স্থানীয় পঞ্চায়েতে।

মুদাসসার জানান, তাঁর পরিবারে বরাবরই মানবতার চর্চা হয়। এমনকি কোথাও লিখিতভাবে ধর্মের কথা উল্লেখ করতে হলে মানবতা লেখাই পছন্দ করেন তাঁরা। এর আগে তাঁর দুই ভাইপোর জন্মের সময়েও পদবি না রাখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নানা কারণে সেই সময় তা হয়ে ওঠেনি। ছেলের ক্ষেত্রে তাই আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন তাঁরা।

অক্ষরকে মানবতার শিক্ষায় বড় করে তোলাই আপাতত লক্ষ দম্পতির। মুদাসসার বলেন,আমাদের একান্নবর্তী পরিবার। গোটা পরিবারেই ধর্মীয় চর্চার কোনও ঠাঁই নেই। আমরা রবি ঠাকুরের জন্মদিন পালন করি ধুমধাম করে। আমাদের বাড়িতে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয় না। মানবতাকেই একমাত্র ধর্ম বলে মনে করি। ছেলেকেও সেই ভাবেই বড় করব।

এদিকে, দক্ষিণ বারাসত পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান অরুণ নস্কর বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এরকম একটি আবেদন পেয়ে আমরা অবাক হয়েছিলাম। এ ধরনের ঘটনা এই পঞ্চায়েতে তো বটেই, আশেপাশে কোথায় হয়েছে বলেও শুনিনি। কিন্তু সন্তানকে ধর্মীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে রাখার যে সংকল্প ওঁরা নিয়েছেন, তা সত্যিই দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

ওঁদের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়েই পদবি ছাড়াই জন্মের শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে।’ হিন্দু হোক বা মুসলিম, শিখ হোক বা জৈন। এ যুগেও ধর্মীয় চিন্তাভাবনা বা সামাজিক বহু বিষয় উপেক্ষা করে তার বিরুদ্ধাচরণ করার সাহস দেখাতে পারেন এমন কম মানুষেরই দেখা মেলে।

বহু ক্ষেত্রেই বিশেষত ধর্মীয় বেড়াজাল উপেক্ষা করতে পারেন না অনেকে। আর তাই মুদাসসার ও তাঁর স্ত্রীর হাবিবার নিজেদের সন্তানকে নিয়ে তাঁদের এই ভাবনা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। সমাজের বিভিন্ন মহল দম্পতির এই ভাবনাকে কুর্নিশ জানিয়েছে।