ওসি প্রদীপসহ ৭ আসামির রিমান্ডের আদেশে পরিবর্তন

229

টেকনাফে পুলিশের গুলিতে মেজর সিনহার মৃ’ত্যু’র মামলায় আসামিদের রি’মান্ডের আদেশ পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিবর্তিত আদেশে ওসি প্রদীপ ও বাহারছড়া ফাঁড়ি ইনচার্জ লিয়াকতসহ ৭ আসামির ৭ দিন করে রি’মান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।  

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) কক্সবাজার আদালতে র‌্যাবের করা রি’মান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে তিন জনকে ৭ দিন করে রি’মান্ড দেন আদালত। বাকি চারজনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। 

পরে এ আদেশ পরিবর্তন করেন আদালত। পরিবর্তিত আদেশে ৭ আসামির ৭ দিন করে রি’মান্ড দেওয়া হয়। এছাড়া, পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। 

এর আগে কড়া নিরাপত্তায় ওসি প্রদীপকে চট্টগ্রাম থেকে পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে কক্সবাজার আদালতে নেয়া হয়। আর লিয়াকতসহ অন্য ৭ আসামিকে জেলা পুলিশ লাইন্স থেকে কক্সবাজার আদালতে আনা হয়। পরে বিকেলে ৭ আসামি ও প্রদীপকে সরাসরি আদালতে নেয়া হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাদেরকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়।  

জানা গেছে,  টেকনাফ থানার ওসি (প্রত্যাহার) প্রদীপ কুমার দাস গত ৪ আগস্ট থেকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটিতে ছিলেন।

এছাড়া অন্য ৭ আসামি পুলিশ লাইনেই নিরাপত্তা হেফাজতে ছিলেন। এ ঘটনায় গ্রে’ফতারি পরোয়ানাভুক্ত ৯ পুলিশ সদস্যসহ ২০ জনকে প্রত্যাহার করেছে কর্তৃপক্ষ। ৫ আগস্ট প্রত্যাহার করা হয় প্রদীপ কুমার দাশকে।

এর ঘটনায় টেকনাফ উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালতে ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে মামলা করেন তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ মামলাটি গ্রহণ করেন। তিনি এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে সাত দিনের মধ্যে আদালতকে অবহিত করতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলাটি তদন্ত করে আদালতকে জানানোর জন্য র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- ওসি প্রদীপ ও আইসি লিয়াকত, এসআই নন্দলাল রক্ষিত, এসআই টুটুল, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও কনস্টেবল মো. মোস্তফাকে আ’সামি করা হয়েছে।

গত ৩১ জুলাই ঈদের আগের রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে গু’লিতে নি’হ’ত হন সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (৩৬)। তার গাড়িতে থাকা তার সঙ্গী সিফাত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সিনহাকে কোনোরূপ জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই চেকপোষ্টে গাড়ি থেকে নামতে বলে চার রাউন্ড গু’লি ছুঁড়ে হ’ত্যা করেন পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই লিয়াকত আলী।