ইসলামী আইনে শ্লী’ল’তা’হা’নির শাস্তি দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর !

345

ইসলামী আইনে- প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বর্তমান আইনে শ্লী’ল’তাহা’নির সা’জায় পরিবর্তন এনে তা মৃ”ত্যু”দ”ণ্ড করা হচ্ছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আগামী ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব তোলা হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) এই প্রস্তাব উত্থাপিত হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধানে নারী ও শিশু নি’র্যা’ত’ন দ’ম’ন আইন ২০০০, এর ৯ ধারায় শ্লী’ল’তাহা’নি এবং শ্লী’ল’তাহা’নিজ”নি”ত কারণে মৃ”ত্যু ঘটানো ইত্যাদির সা’জা সম্পর্কে বলা আছে।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়া বা ভী’তি প্রদর্শন বা প্র’তা’র’ণা’মূ’ল’ক’ভা’বে তার সম্মতি আদায় করে, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌ”ন স”ঙ্গ”ম করেন, তাহলে তিনি উক্ত নারীর শ্লী’ল’তাহা’নি করেছেন বলে গণ্য হবেন।

বাংলাদেশের আইনে বর্তমানে শ্লী’ল’তাহা’নির সা’জা হিসেবে যেসব শা’স্তি’র উল্লেখ আছে তা নিম্নে তুলে ধরা হলো।

৯(১) যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে শ্লী’ল’তাহা’নি করেন, তাহলে তিনি যা’বজ্জী’বন সশ্রম কা’রা’দণ্ডে দ’ণ্ড’নী’য় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অ’র্থদ’ণ্ডেও দ’ণ্ড’নীয় হবেন।

(২) যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক শ্লী’ল’তাহা’নি বা উক্ত শ্লী’ল’তাহা’নি পরবর্তী তার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে নি’র্যা’তি’ত নারী বা শিশুর মৃ”ত্যু ঘটে, তা হলে উক্ত ব্যক্তি মৃ”ত্যু”দ”ণ্ডে বা যা’বজ্জীব’ন সশ্রম কা’রাদ’ণ্ডে দণ্’ড’নীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যুন এক লক্ষ টাকা অ’র্থদ’ণ্ডেও দ’ণ্ড’নীয় হবেন।

(৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুর শ্লী’ল’তাহা’নি করেন এবং শ্লী’ল’তাহা’নির ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃ”ত্যু ঘটে বা তিনি আ’হ’ত হন, তা হলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃ”ত্যু”দ”ণ্ডে বা যাব’জ্জী’বন সশ্রম কা’রাদ’ণ্ডে দ’ণ্ড’নী’য় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যুন এক লক্ষ টাকা অ’র্থদ’ণ্ডেও দ’ণ্ডনী’য় হবেন।

(৪) যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে-

(ক) শ্লী’ল’তাহা’নি করে মৃ”ত্যু ঘটানোর বা আ’হ’ত করার চেষ্টা করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তি যা’বজ্জী’বন সশ্রম কা’রাদ’ণ্ডে দণ্’ড’নীয় হইবেন এবং এর অতিরিক্ত অ’র্থদ’ণ্ডেও দ’ণ্ড’নীয় হবেন;

(খ) শ্লী’ল’তাহা’নির চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বত্সর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বত্সর সশ্রম কা’রাদ’ণ্ডে দ’ণ্ড’নীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অ’র্থদ’ণ্ডেও দ’ণ্ড’নীয় হবেন।

(৫) যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে কোন নারী নি’র্যা’তি’ত হন, তা হলে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ শ্লী’ল’তাহা’নি সংঘটিত হয়েছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ নি’র্যা’তি’ত নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি বা তারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক দশ বত্সর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বত্সর সশ্রম কারা’দ’ণ্ডে দ’ণ্ড’নীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অ’র্থদ’ণ্ডেও দ’ণ্ড’নীয় হবেন।

প্রসঙ্গত, ইসলাম শ্লী’ল’তাহা’নিকে ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেনি। কারণ বিবাহবহির্ভূত যেকোনো যৌ”ন স’ঙ্গ’ম’ই ইসলামে অ’পরা’ধ। তাই শ্লী’ল’তাহা’নিও এক প্রকারের ব্য’ভি’চা’র। ইসলামি আইন শাস্ত্রে শ্লী’ল’তাহা’নির শা’স্তি ব্য’ভি’চারকারীর শা’স্তির অনুরূপ। তবে অনেক ইসলামি স্কলার শ্লী’ল’তাহা’নির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু শা’স্তির কথা উল্লেখ করেছেন।

ব্য’ভিচা’র সুস্পষ্ট হারাম এবং শি’রক ও হ”ত্যা”র পর বৃহত্তম অ’পরা’ধ। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর ব্য’ভিচা’রের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অ’শ্লী’ল কাজ এবং ম’ন্দ পথ। ’ –সূরা আল ইসরা: ৩২

ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, ‘উলামায়ে কেরাম বলেছেন, ‘ব্য’ভিচা’র করো না’-এর চেয়ে ‘ব্য’ভিচা’রের কাছেও যেয়ো না’ অনেক বেশি কঠোর বাক্য। ’ এর অর্থ যেসব বিষয় ব্যভিচারে ভূমিকা রাখে সেগুলোও হারাম।

হাদিস দ্বারা শ্লী’ল’তাহা’নির শা’স্তির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। যেমন- ১. হজরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এক মহিলার জো’রপূ’র্বক শ্লী’ল’তাহা’নি করা হলে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে কোনোরূপ শা’স্তি দেননি, তবে অ’প’রা’ধীকে হদের (কোরআন-হাদিসে বহু অ’পরা’ধের ওপর শা’স্তির কথা আছে। এগুলোর মধ্যে যেসব শা’স্তির পরিমাণ ও পদ্ধতি কোরআন-হাদিসে সুনির্ধারিত তাকে- হদ বলে) শা’স্তি দেন। ’ -ইবনে মাজাহ: ২৫৯৮

২. সরকারি মালিকানাধীন এক গোলাম গণিমতের পঞ্চমাংশে পাওয়া এক দাসির সঙ্গে জ’বরদস্তি করে ব্য’ভিচা’র করে। এতে তার কু’মা’রিত্ব নষ্ট হয়ে যায়। হজরত উমর (রা.) ওই গোলামকে ক’শা’ঘা’ত করেন এবং নির্বাসন দেন। কিন্তু দাসিটিকে সে বাধ্য করেছিল বলে তাকে ক’শা’ঘা’ত করেননি। ’ –সহিহ বোখারি: ৬৯৪৯

ইসলামে ব্য’ভি’চারের শা’স্তি ব্যক্তিভেদে একটু ভিন্ন। ব্য’ভিচা’রী যদি বিবাহিত হয়, তাহলে তাকে প্রকাশ্যে পাথর মে’রে মৃ”ত্যু”দ”ণ্ড দেওয়া হবে। আর যদি অবিবাহিত হয়, তাহলে তাকে প্রকাশ্যে একশ’ ছ’ড়ি মা’রা হবে। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য একই শা’স্তি।

কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ব্য’ভি’চারিণী নারী ব্য’ভি’চারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বে’ত্রা’ঘা’ত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শা’স্তি প্রত্যক্ষ করে। ’ –সূরা নূর: ২

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘অবিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে শা’স্তি একশ’ বে’ত্রা’ঘা’ত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর। আর বিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে একশ’ বে’ত্রা’ঘা’ত ও র’জম (পা’থর মে’রে মৃ”ত্যু’দ’ণ্ড)। ’ –সহিহ মুসলিম

এই হাদিসের আলোকে অন্য মাজহাবের ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, ব্য’ভি’চারী অবিবাহিত হলে তার শা’স্তি দুটো। ১. একশ’ বে’ত্রা’ঘা’ত, ২. এক বছরের জন্য দেশান্তর। আর হানাফি মাজহাবের বিশেষজ্ঞরা বলেন, এক্ষেত্রে হদ (শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত শা’স্তি) হলো- একশ’ বে’ত্রা’ঘা’ত। আর দেশান্তরের বিষয়টি বিচারকের বিবেচনাধীন। তিনি ব্যক্তি বিশেষে তা প্রয়োগ করতে পারেন।