নিখোঁ’জ হয়েছেন পুতিনের যমজ সন্তানের জন্ম দেয়া বান্ধবী!

118

দুই যমজ পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বান্ধবী আলিনা কাবাইভা দীর্ঘ দিন ধরে নি’খোঁ’জ রয়েছেন। ২০১৮ সালের পর থেকে তাকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

৩৭ বছর বয়সী সাবেক জিমন্যাস্ট আলিনা পরাক্রমশালী প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দীর্ঘ দিনের বান্ধবী হিসেবে পরিচিত। ২০১৯ সালের এপ্রিলে রাজধানী মস্কোর একটি ক্লিনিকে তিনি পুতিনের দুই যমজ সন্তানের জন্ম দেন বলে বৃটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান –এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

তবে রুশ সরকার থেকে এ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। আলিনা রাশিয়ার সবচেয়ে সফল জিমন্যাস্টদের একজন ছিলেন। তিনি তার ক্যারিয়ারে দুইটি অলিম্পিক পদক, ১৪টি অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ানশিপ পদক ও ২৫টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ানশিপ পদক জিতেছিলেন।

জিমন্যাস্টিকস থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি’তে যোগ দেন ও পরবর্তীতে একজন এমপি নির্বাচিত হন। ক্রীড়া ও রাজনীতি ছাড়াও একজন মডেল হিসেবেও তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

২০০৮ সাল থেকে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার গোপন প্রেম চলে আসছে বলে বেশ গু’ঞ্জ’ন রয়েছে। তবে এ সম্পর্কে পুতিন ও আলিনা কখনো মন্তব্য করেননি।

শান্তিতে নোবেল পাওয়ার মনোনয়ন পেয়েছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনয়ন পেয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার তার নাম প্রস্তাব করা হলো। এর আগে ২০১৮ সালেও তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। নোবেল শান্তি পুরস্কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ভীষণ আরাধ্য বিষয়।

এ ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই নিজের পূর্বসূরি বারাক ওবামাকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে আসছেন। বারাক ওবামার শান্তিতে নোবেল পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহুবার। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বলা যায় আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের ভাবমূর্তি বদলে দিতে এই পুরস্কারকেই পাখির চোখ করেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তি করাটাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। কিন্তু সেই চুক্তি আর হয়নি। ট্রাম্পের নোবেল পাওয়াও আর হয়নি। এদিকে শান্তিতে ২০২১ সালের নোবেল পুরস্কারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম নিয়ে সৃষ্ট গুঞ্জনের মধ্যে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক হেনরিক উর্দাল।

তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তিতে নোবেল পাওয়ার একেবারেই কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে ভাগ্যসুপ্রসন্ন হলে তিনি সাহিত্যে পেয়ে যেতে পারেন তার প্রত্যাশিত নোবেল পুরস্কার।

কারণ ক্ষমতার চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেকটি ঘটনায় টুইটের পর টুইট করে টুইটার বিবৃতিকে ‘টুইট সাহিত্যে’র পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তিনি। যদি ট্রাম্প আসলেই নোবেল পেয়ে যান তবে এই যোগ্যতাতেই পাবেন বলে আমি মনে করছি।

আগামী সোমবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানাবে, এ বছর শান্তিতে নোবেল কে বা কারা পেতে যাচ্ছে। এ নিয়ে চারদিকে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। জানা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন।

অবশ্য ট্রাম্প দুটি মনোনয়ন পেয়েছেন। কসোভো এবং সার্বিয়াকে শান্তি চুক্তির আওতায় আনতে ভূমিকা রাখায় শান্তিতে ২০২১ সালের নোবেল পুরস্কারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম মনোনীত করতে দ্বিতীয়বারের মতো প্রস্তাব করেছিলেন সুইডেনের আইনপ্রণেতা ম্যাগনাস জ্যাকবসন।

এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর দীর্ঘদিন ধরে বিবদমান ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে চুক্তির আওতায় আনতে মধ্যস্থতার জন্য ট্রাম্পকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব করেন নরওয়ে পার্লামেন্টের সদস্য ক্রিশ্চিয়ান টাইব্রিং-জিজেডে।

সৃষ্ট গুঞ্জনে কেউ বলছেন ট্রাম্প, কারও মুখে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নাম। করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে ‘অসামান্য’ অবদানের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নামও ভাসছে নোবেল হাওয়ায়। সব মিলিয়ে ৩১৮ জন ব্যক্তি ও সংস্থার মনোনয়ন তালিকা ঘুরছে হাতে হাতে।

নোবেল ইনস্টিটিউটের মতে, এ বছর শান্তিতে মোট ৩১৮ প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে- যার মধ্যে রয়েছে ২১১ জন ব্যক্তি এবং ১০৭টি প্রতিষ্ঠান। মনোনীতদের এই বিশাল তালিকার মধ্যে কে সেই ভাগ্যবান- তা নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে। এ নিয়ে জুয়ার আসরও জমে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে গ্রেটা থানবার্গ এবং মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিষয়ক সংগঠনগুলো। গত বছরও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় ছিলেন গ্রেটা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের ঝুলিতে যায়।

শান্তিতে ২০২১ সালের নোবেল নিয়ে এমন অস্বস্তির মধ্যেই বুধবার (৭ অক্টোবর) ট্রাম্পকে নিয়ে হাস্যকর এমন মন্তব্য করলেন ইউরোপের খ্যাতনামা নোবেল ইতিহাস বিশেষজ্ঞ ও অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক হেনরিক উর্দাল।