‘বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা পেছালে তাতে বড় ক্ষ’তি হবে না’

71

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা বাড়তি সময় নেয়া যেতে পারে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। করোনার প্রতিষেধক না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত বলে জানান তিনি। এই বিলম্ব শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের জন্য

বড় ক্ষ’তি বয়ে আনবে না বলেও মনে করেন এই শিক্ষাবিদ। শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘করোনা ও উচ্চশিক্ষা: সংকট উত্তরণ’ বিষয়ক এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এই মত দেন। আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘করোনার প্রতিষেধক কয়েক মাসের মধ্যে চলে এলে আমাদের প্রবীণদেরকে

সেই প্রতিষেধকের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা যাবে। তরুণরা হয়তো আরেকটু স্বাধীন হবে। তাই ডিসেম্বর এবং জানুয়ারির পরের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। তবে আমি মনে করি দুই মাস আগে কিংবা দুই মাস পরে

ভর্তি পরীক্ষা দিলে শিক্ষার্থীরা খুব বেশি ক্ষ’তির সম্মুখীন হবে না।’ সাবেক উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষ হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মিথস্ক্রিয়ায় শিখন শেখান কার্যক্রম এগিয়ে যায়। মানবসভ্যতার শুরু থেকেই এটা অব্যাহত আছে।

তখন হয়তো কাঠামোগত শিক্ষা ছিল না তবে গুরু-শিষ্যের জ্ঞানের আদান-প্রদান হতো। আর গুরু-শিষ্যের এই জ্ঞানের আদান-প্রদান হতো মুখোমুখি। তাই শ্রেণিকক্ষের মুখোমুখি পাঠদানের বিকল্প কোনো কিছুই হতে পারে না। কিন্তু আজকের এই পরিস্থিতিতে এটা অনুপস্থিত।’

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘করোনার সং’ক’টে শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এখন সারা বিশ্বেই বেশ জনপ্রিয়। তবে উন্নত বিশ্বে তাদের যে কোর্স কারিকুলাম শতকরা ৩০ ভাগ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে এবং শতকরা ৭০ ভাগ সরাসরি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতো।

ফলে অনলাইনেই পরীক্ষা ও মূল্যায়নও করা হতো। এভাবে তারা অনলাইনে সক্ষমতা এবং অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদানের পথটা মসৃণ করেছে। তবে সব কোর্সেও শ্রেণিকক্ষে আসার প্রয়োজন নেই। যদিও শতভাগ পাঠদান শ্রেণিকক্ষের বাইরে দেয়া সম্ভব না।

তাই শুধু উচ্চ শিক্ষার বেলাতেই নয় সব ক্ষেত্রেই শিক্ষককে সৃজনশীল হতে হবে।’ নতুন বাস্তবতায় শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে ঢাবির সাবেক উপাচার্য বলেন, ‘এই করোনাকালীন উচ্চ শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কী পদ্ধতিতে পাঠদান করানো যেতে পারে,

কীভাবে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা যেতে পারে এবং মননশীলতা কীভাবে বাড়ানো যেতে পারে এই বিষয়গুলোকে নিয়ে শিক্ষকদের প্রতিদিনই ভাবতে হবে।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি বাড়ানো এবং লটারির মাধ্যমে সব শ্রেণির ভর্তির কার্যক্রম সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনাকালে সব সিদ্ধান্তেই পক্ষে বিপক্ষে মতামত আসতে পারে, তবে দেখতে হবে সিদ্ধান্তটা যৌক্তিক কি না। সেটি বিবেচনা করতে হবে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মুহাম্মাদ মিজানউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে আরেফিন সিদ্দিকের মতে সম্মতি দিয়ে বলেন, ‘এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং মাস্টার্সের সবগুলো পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নেয়া নিয়েও সং’শ’য় দেখা দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে করোনা পরিস্থিতি আরও দুই চার মাস পর্যবেক্ষণ করে সেই সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে।’

ফলে নতুন শিক্ষার্থী এলে এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সচল হলে উচ্চশিক্ষার সং’ক’টগুলো ধীরে ধীরে কমতে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।